কৃত্রিম কিডনি বানিয়ে বাঙালির চমক!

0
অনলাইন ডেস্ক :: কিডনির অসুখ একেবারে সেরে যায়, এমনটা নয়। আমাদের শরীরের সমস্যাজনিত কিডনিকে সচল রাখতে হলে ডায়ালিসিস করাতে হয়। এক বার ডায়ালিসিস করলে হয়তো কিছু দিন সেই বিগড়ে যাওয়া কিডনি দুটিকে দিয়ে কাজ চালিয়ে নেয়া যায়। কিন্তু তার পর আবার ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হয়। এভাবে বার বার ডায়ালিসিস করাতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। যা সাধারণ মানুষের প্রায় নাগালের বাইরে। তাই এক বাঙালি বায়ো-ইঞ্জিনিয়ার এমন এক কৃত্রিম কিডনি বানিয়েছেন যা এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
যিনি কৃত্রিম কিডনিটি বানিয়েছেন তিনি হলেন সানফ্রান্সিসকোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর শুভ রায়। দীর্ঘ সাত বছরের চেষ্টার পর তিনি এই কিডনি বানাতে সক্ষম হন। যদিও এটি এখনো বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসেনি।
গত শুক্রবার ট্যাঙ্কার ফাউন্ডেশনের গুণীজন সংবর্ধনার বার্ষিক অনুষ্ঠানে, শুভ ও তার সহযোগী গবেষকদের ওই আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করা হয়। জানানো হয়, আর বছর দু’-তিনেকের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যাবে ওই কৃত্রিম কিডনি। বর্তমানে এই কিডনি এখন মার্কিন সংস্থা ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (এফডিএ)-এর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
ভারতের কলকাতায় জন্ম নেয়া বিজ্ঞানী শুভ রায় জানান, তলপেটে যেখানে শরীরের দু’পাশে আমাদের দুটি কিডনি রয়েছে, সেখানেই যে কোনো এক দিকে ওই কৃত্রিম কিডনিকে বসিয়ে দেয়া যাবে। তাকে চালাবে হার্ট থেকে আসা রক্তই। তবে সেই রক্তকে ফিল্টার করে নেবে ওই কৃত্রিম কিডনি। শুধু তাই নয়, শরীরে রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কাজটাও করবে এটি।
স্বাভাবিক কিডনির সঙ্গে এই কৃত্রিম কিডনির পার্থক্য সম্পর্কে ওই বিজ্ঞানী জানান, হিমো-ডায়ালিসিসের যে চালু পদ্ধতি রয়েছে, তাতে আমাদের শরীরের দুটি কিডনি বয়ে চলা রক্তস্রোত থেকে শুধুই দূষিত পদার্থগুলিকে ফিল্টার করে নেয়। কিন্তু শরীরে বসানো ওই কৃত্রিম কিডনির গায়ে আলাদা একটি ‘মেমব্রেন’ বা স্তর থাকবে। সেটা খুব ভেবে-চিন্তে রক্তস্রোত থেকে দূষিত পদার্থগুলিকে বেঁছে নেবে। যা স্বাভাবিক কিডনির চেয়ে অনেক দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে ডায়ালিসিসের কাজটা করতে পারবে আমাদের শরীরে। মানবকণ্ঠ।

Comment

Share.

Leave A Reply