নতুন সিইসি কে এম নুরুল হুদা

0
 নিজস্ব প্রতিবেদক :: প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সাবেক সচিব খান মোহাম্মদ নুরুল হুদার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার রাতে সিইসিসহ অপর চার কমিশনারের নিয়োগ অনুমোদন করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে সিইসিসহ অপর কমিশনারদের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

ইসির অপর চার কমিশনার হলেন- মাহবুব তালুকদার, সাবেক সচিব রফিকুল ইসলাম, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ বেগম কবিতা খানম, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন।

সাবেক সচিব খান মোহাম্মদ নুরুল হুদার (কে এম নুরুল হুদা)। ১৯৭৩ ব্যাচের প্রশাসনিক ক্যাডার কে এম নুরুল হুদা বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। এছাড়া জেলার প্রশাসক হিসেবে ছিলেন ফরিদপুর। দীর্ঘদিন ওএসডি থাকার পর ২০০৬ সালে সচিব হিসেবে অবসরে তিনি।

তাঁর বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা এলাকায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জেলা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয় যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

কমিশনার হিসেবে যাদের নাম প্রস্তাব করেছে সার্চ কমিটি

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটির দেয়া ১০ ব্যক্তির নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সচিবালয়ে রাত সাড়ে ৯টা সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব  মো. শফিউল আলম প্রস্তাবিত নামের তালিকা ঘোষণা করেন।

কমিশনার হিসেবে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জারিনা রহমান খান, সাবেক সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ (রাজশাহী)  বেগম কবিতা খানম, পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য মো. আব্দুল মান্নান, ব্রি. জে. (অব) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসসেবে সাবেক সচিব কে এম নুরুল হুদা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারের নাম প্রস্তাব করেছিল সার্চ কমিটি।

বিকেল ৪টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সার্চ কমিটির প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে সর্বশেষ বৈঠক হয়। দুই ঘণ্টা বৈঠকের পর কমিটির সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে যান।

ওই বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রেস ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবদুল ওয়াদুদ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দেয়া নাম থেকেই ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করেছে ইসি গঠনের জন্য গঠিত সার্চ কমিটি। এই তালিকা প্রকাশ করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেবেন রাষ্ট্রপতি। নির্ধারিত সময়ের আগেই সার্চ কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে।

পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তার কাছে সুপারিশ করা ১০ ব্যক্তির নাম এবং ১৬ বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে মতবিনিময়ের সারসংক্ষেপ তুলে দেন সার্চ কমিটি।

২৫ জানুয়ারি সার্চ কমিটি গঠনের পর ছয়টি বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে দুই দিন বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। আর রাজনৈতিক দল থেকে নাম পাওয়ার পর সার্চ কমিটি দুটি বৈঠক করে।

নির্বাচন কমিশন গঠনে গত ২৫ জানুয়ারি বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান করে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। কমিটিকে ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নারীসহ ১০ জনের নামের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, বর্তমান সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ইসির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৮ ফেব্রুয়ারি। অবশ্য একজন কমিশনার একেএম শাহনেওয়াজের মেয়াদ শেষ হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি।

Comment

Share.

Leave A Reply