কওম-কওমির অনন্য প্রতিভা মাওলানা লিসানুল হক

0

প্রেরণার বাতিঘর- ০৩

মাওলানা লিসানুল হক। পিতা মাওলানা আজীজুল হক। দাদা মাওলানা মাহমুদুল হক রাহ. জন্ম : ১৯৮১ সালের ২৮ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানাধীন ছনুয়া ইউনিয়নের কালাচাঁদ পাড়া গ্রামে। দাদা একজন মুত্তাকী আলেম ছিলেন। একজন আলেমের যত গুণ থাকা প্রয়োজন সবই ছিল তাঁর মধ্যে। ঘরই ছিল দাদার প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা। সেখানেই অসংখ্য আলিম তিনি গড়ে তুলেছেন স্বযত্নে। বাবাও দাদার অনেক গুণ পেয়েছেন কিন্তু বাবা যখন বড় আব্বা মাওলানা ফয়জুল হক রাহ.’র সঙ্গে দেওবন্দে ছিলেন, তখন দুজনই একসাথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বড় আব্বা পড়তেন মিশকাত আর বাবা পড়তেন কাফিয়া জামাতে। দাদার নির্দেশে তাঁরা চলে আসেন বাড়িতে। বড় আব্বার অবস্থা দিনদিন খারাপ হয়ে অবশেষে এক সপ্তাহের মাথায় ইন্তেকাল করেন। সুস্থ হয়ে উঠেন বাবা। পরিস্থিতির কারণে বাবা কওমী মাদরাসায় আর পড়তে পারেননি। দারুল উলুম আলিয়া চট্টগ্রাম থেকে কামিল পাস করেন।

সরকারি মাদরাসায় পড়লেও দাদা দেওবন্দী হওয়ায় এবং দেওবন্দে বাবাও একবছর পড়ার সুযোগ পাওয়ায় বাবার মধ্যে আকাবিরে দেওবন্দের আদর্শ পুরোটাই অটুট ছিল। এ কারণে আমাকে কখনো সরকারি মাদরাসার মাটিও মাড়াতে দেননি। দাদার মতো বাবার যুগেও ঘরটা রীতিমত মাদরাসা হওয়ায় আমল ও আখলাকের ছোঁয়া পেয়েছি জন্মের পর থেকেই। যদ্দরুণ আমলে দুর্বলতা থাকলেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি আলহামদুলিল্লাহ। শাসনে বাবা-মা দুজনেই সমানে সমান। খেলাধুলার কোনো সুযোগই ছিলো না। পড়ালেখা ছাড়া বাবা কিছুই বুঝতেন না। এটাই আমাকে কিছু শিখতে সবচে’ বেশি সহায়তা করেছে। ১৯৯০ এর শেষ পর্যন্ত স্কুল আর হিফজ বিভাগেই কাটিয়েছি। তবে দুর্ভাগ্যবশত হাফিয হতে পারিনি।

১৯৯১ সালে প্রথম ভর্তি হই বাঁশখালী থানার সর্ববৃহৎ মাদরাসা জামিয়া ইসলামিয়া মাখযানুল উলুমে। জামাতে দাহুমে। মাঝখানে ৯৩-৯৪ ও ৯৪-৯৫ এ দুইবছর আনোয়ারা থানাধীন জামিয়া আরবীয়া হাইলধর বালক-বালিকা মাদরাসায় পড়ালেখা করি। পরে পুণরায় পূর্বের মাদরাসায় চলে আসি। সেখানে জামাতে চাহারুম (শরহে জামী ইসম) পর্যন্ত পড়ে চলে আসি দারুল উলুম হাটহাজারী। পড়ালেখায় তেমন ভালো ছিলাম না। এখনো ভালো নই। তবে বাবার কড়া নজর ছিলো তাহকীক করে পড়ি কিনা সেদিকে। বাবা সবসময় বলতেন, ক্লাসে প্রথম হবার চেষ্টা করো। আর আমি মনে মনে বলতাম দয়া করে সবর করো। বাবা প্রায়শঃই যে কথাটি বলতেন, উস্তাযের খেদমত করার চেষ্টা করবে। এটা পারলে সহজেই ইলম পাবে। আর কিছু না পারলেও ছাত্রজীবনে তিনটি কাজ নিয়মিত করার চেষ্টা করেছি। তাহকীক, উস্তাযের আদব বজায় রাখা আর নিয়মিত ক্লাস। বাকি যা ছিলো সবই সাহিত্যের অনুশীলন।

২০০২ সালে দাওরায়ে হাদীস সমাপন করি। বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন খেদমতের ব্যবস্থা হয়ে যায় জামিয়া আরবীয়া হাইলধর মাদরাসায়। সেখানে দুইবছর খিদমত করে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানাধীন রামপুর ইসলামিয়া মিসবাহুল উলুম মাদরাসায় পাঁচবছর খিদমত করি। অতঃপর অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে গতবছর থেকে ফটিকছড়ি পশ্চিম নানুপুর জমীরিয়া ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় আছি।
১৯৯৭ সালে ঘূর্ণিঝড়ের পর বাবা হিজরত করেন কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানাধীন বারবাকিয়া গ্রামে। সেখানেই আমাদের স্থায়ী বসবাস।

মাওলানা লিসানুল হক একজন দরদি মানুষ। তাহকীকি আলিম। জীবন-যৌবনের উত্তাল সমুদ্রে দুঃখী একজন মানুষ। লিখেন ছড়া, কবিতা, প্রবন্ধ-নিবন্ধ। বিশেষত তাঁর লেখা দুঃখগাঁথা কবিতা পড়ে যে কারো হৃদয়-মন ছুঁয়ে যেতে বাধ্য। সমুদ্রের ভয়াল থাবায় ভিটেমাটি হারিয়ে সূচিত দুঃখের সমাপ্তি আপন প্রিয়তমাকে হারিয়ে।
তাঁর লেখাগুলো পড়লে মনে হয় তিনি স্বভাবজাত লেখক। তাঁর মন-মানস, গভীরতা, প্রখরতা, তীক্ষতা নিয়ে ফিকির করলে বুঝা যায়, তিনি সত্যিই অনন্য।
কওম-কওমির অনন্য প্রতিভা মাওলানা লিসানুল হকের সাথে তাঁর লেখালেখি, জীবন-যৌবন, শিক্ষা-দীক্ষা, সমাজ-রাজনীতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা হয় কওমিকণ্ঠের। আলোচনার চুম্বকাংশগুলো নিম্নে তুলে ধরা হল-

কওমিকণ্ঠ : আসসালামু আলইকুম…
লিসানুল হক : ওয়াআলাইকুমুুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

কওমিকণ্ঠ : কেমন আছেন?
লিসানুল হক : আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর রাহমাতে সুস্থ আছি।

কওমিকণ্ঠ :: লেখালেখির সূচনা কবে, কীভাবে?
লিসানুল হক : খুব সম্ভবতঃ ’৯৪ থেকে চেষ্টা শুরু করি। দেয়ালিকায় লেখার মাধ্যমে।

কওমিকণ্ঠ : এই যে আপনার এত্তো লেখালেখি, প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত- সো কোন সে তাড়না; যা আপনাকে লিখতে বাধ্য করে?
লিসানুল হক : লিখতে কাউকে বাধ্য করতে হয় না। লেখা মন ও মস্তিষ্কর সাথে সম্পর্কিত।

কওমিকণ্ঠ : আপনি কোনটায় বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন- লেখক না পাঠক হিশেবে এবং কেনো?
লিসানুল হক : দুটোই সমানে সমান। কারণ একটি অপরটির পরিপূরক।

কওমিকণ্ঠ : লেখালেখির ক্ষেত্রে কার কাছ থেকে সবচে’ বেশি উৎসাহ পেয়েছেন?
লিসানুল হক : প্রত্যক্ষ কেউ নেই বললেই চলে। তবে তিনজন মানুষের নাম না বললে অকৃতজ্ঞ হবো। ড আল্লামা আ ফ ম খালিদ হোসেন। দারুল উলুম হাটহাজারীর উস্তাদ নিভৃতচারী কবি এবং আমার কবিতার প্রথম ভক্ত মাওলানা গোলাম কিবরিয়া। মাসিক মুঈনুল ইসলাম সম্পাদক মাওলানা মুনীর আহমদ।

কওমিকণ্ঠ : আপনার প্রথম লেখা কবে, কোথায় প্রকাশ হয়েছিল?
লিসানুল হক : সম্ভবতঃ সন ২০০১ মাসিক মুঈনুল ইসলাম।

কওমিকণ্ঠ : লেখক হিশেবে ছাপার অক্ষরে প্রথমবার নিজের নাম দেখার পর কী রকম অনুভূতি হয়েছিল?
লিসানুল হক : না খুব আনন্দ না খুব হতাশা।

কওমিকণ্ঠ : এমন কোনো বই, গল্প-কাহিনী আছে, যা পড়ে কেঁদেছেন অথবা হেসেছেন?
লিসানুল হক : মরণজয়ী, মরণজয়ী মুজাহিদ, জীবনের খেলাঘরে এবং আরো কয়েকটি বই খুব কাঁদিয়েছে। সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রতিটি বই হাসায়।

কওমিকণ্ঠ : ইন্টারনেটের ভালোমন্দ নিয়ে কিছু বলুন।
লিসানুল হক : ভালোর জন্যে ভালো, মন্দের জন্যে মন্দ। অফলাইনে যার স্বভাব যেমন অনলাইনেও তাই। সেটা ব্যক্তির লেখাই পরিচয় দেয়।

কওমিকণ্ঠ : আমাদের জানামতে আপনি রাজনীতিক দলের সাথে জড়িত নন, অথচ ইসলামি হুকুমাত প্রতিষ্ঠায় ইসলামি রাজনীতির গুরুত্ব অপরিসীম, তো আপনার এই রাজনীতিবিমুখতার পেছনে কারণ কী?
লিসানুল হক : দুঃখিত, বারো বছর ধরে যাদের কাছে পড়েছি তাঁদের একজনও অদ্যাবধি ইসলামী রাজনীতির সাথে জড়িত নন। অপরিসীম গুরুত্বের বিষয়টা সিলেবাসেও অন্তর্ভুক্ত নয়। আর হযরত থানভী রাহ. বলেন- পয়লে তু মাদানী বন যা, ফের সিয়াসত কর

কওমিকণ্ঠ : খেলাফতের মতো মহান দায়িত্বপ্রাপ্ত বনি আদম আজ তাদের দায়িত্ব পালন করছে কি?
লিসানুল হক : বনি আদম কি এখন খিলাফতের মর্ম বুঝে? যারা বুঝে তারাও ভাগ করে নিয়েছে। কুল্লু হিযবিম বিমা লাদাইহিম ফারিহুন।

কওমিকণ্ঠ : তারা কেন মানবরচিত তন্ত্র-মন্ত্র নিয়ে ব্যস্ত?
লিসানুল হক : প্রবৃত্তির দাসত্ব করতে ভালো লাগে বোধহয়!

কওমিকণ্ঠ : উম্মাহকে জাগিয়ে তোলার জন্য কী করতে হবে?
লিসানুল হক : উম্মাহ তো জেগে আছে। শুধু রাহবররা রাহ হারিয়ে ফেলেছে, রাহবরদের রাহ দেখাতে হবে।

কওমিকণ্ঠ : প্রচলিত ইসলামী রাজনীতি কি জাতিকে আলোর দিকে নিয়ে যেতে পারবে?
লিসানুল হক : প্রচলিত ইসলামী রাজনীতি! শেখ সাদীর ভাষায় “খোদ গোমরাহ কেরা রাহবরী কুনদ!”

কওমিকণ্ঠ : মুসলিম উম্মাহ আজ জিহাদ ও শাহাদতকে ভয় পায় কেন?
লিসানুল হক : হুব্বুদ্দুনয়া ওয়া কারাহিয়াতুল মওত।

কওমিকণ্ঠ : যে লজ্জার কথা স্মরণ হলে এখনো মুখ লুকাতে ইচ্ছে করে?
লিসানুল হক : হুজুর স্টোভে দুধ গরম করতে দিলেন। পেয়ালা ধুয়ে ডেগচিতে দেয়ার জন্যে পানি ভেবে পেয়ালায় ঢাললাম কেরোসিন। দেখি দুধের উপর তেল পৃথক হয়ে ভাসতে থাকে। বুঝলাম সব শেষ! স্টোভ জ্বালিয়ে রেখেই পালালাম বাজারের দিকে। অবশেষে শুনলাম বকাঝকা। হেদায়াতুন্নাহুর বছর ঘটেছিল।

কওমিকণ্ঠ : ২০১৪ সাল আপনার জীবনের সম্ভবত সবচে’ দুঃখের সাল। কারণ, আপনার সহধর্মিণীসহ অনাগত সন্তান এই পৃথিবী ছেড়ে মাওলার সান্নিধ্যে চলে যান। তো সে ঘটনায় আপনার মতো কওমি ওয়ালারাও সেদিন শোকাচ্ছন্ন ছিলো, সেই দুঃখ-শোক কাটিয়ে উঠতে পারছেন কী?
লিসানুল হক : না পারলেও কেউ সেটার ভাগ নিতে আসবে না। তবে সে সময় অনেক চেনা অচেনা বন্ধুর সহায়তা আমার চলনশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছিলো। জাযাহুমুল্লাহ।

কওমিকণ্ঠ : হালজামানার রাজনীতি, বিশেষত ইসলামি রাজনীতি নিয়ে কিছু বলুন।
লিসানুল হক : যাদের বলবো, তারা আমার চেয়ে বেশি বুঝেন।

কওমিকণ্ঠ : লেখালেখির সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে?
লিসানুল হক : রাজনীতিক লেখক হলে পাঠক সীমিত হয়ে যায়।

কওমিকণ্ঠ : কলম না কী-বোর্ড, কোনটাকে বেশি গুরুত্ব দেন এবং কেনো?
লিসানুল হক : আজকাল দুটোই। ছাত্রদের জন্যে কলম ফরজ।

কওমিকণ্ঠ : চারদিকে কওমি শিক্ষা সংস্কার ও সনদের দাবি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল আলোচনা সমালোচনা, বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
লিসানুল হক : পক্ষে হোক আর বিপক্ষে হোক, অনেকেরই আদবের অভাব আছে। আদব কওমী মাদরাসার প্রাণ। এটা না থাকলে স্বীকৃতি পেলেও কী আর না পেলেও কী?

কওমিকণ্ঠ : শুরুতে কী হওয়ার ইচ্ছে ছিল, আর হয়েছেন কী?
লিসানুল হক : কবিতা আর অনুবাদের প্রতি ঝোঁক বেশি ছিলো এবং এখনও সেই ঝোঁক বর্তমান।

কওমিকণ্ঠ : লেখালেখি, শিক্ষকতা নিয়ে আপনার কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে?
লিসানুল হক : ছাত্রদের থেকে অন্ততঃ দুয়েকজন আদর্শ লেখক এবং দুয়েকজন আদর্শ ছাত্র যারা পূর্ববর্তীদের ঐতিহ্য রক্ষা করবে।

কওমিকণ্ঠ : ধরা যাক- আপনাকে বলা হল শৈশবে ফিরে যেতে, তখন কী করতেন?
লিসানুল হক : তখন আমি এমন শৈশব চাইবো যাতে পরিণামদর্শী বুদ্ধি থাকবে। যেন শৈশবে তৈরি হয়ে বড় হবার পর পস্তাতে না হয়।

কওমিকণ্ঠ : প্রিয় কবি?
লিসানুল হক : হযরত আলী রা., হযরত হাসসান রা., আল্লামা বুসীরী রাহ., আল্লামা জামী রাহ., শেখ সাদী, আমীর খসরু, হালী, গালিব, রুমী, ইকবাল, নজরুল ও ফররুখ রহিমাহুমুল্লাহ।

কওমিকণ্ঠ : প্রিয় ব্যক্তিত্ব?
লিসানুল হক : প্রিয়তম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

কওমিকণ্ঠ : আপনার পাঠাভ্যাস কেমন?
লিসানুল হক : প্রচুর, কিন্তু সময় কম।

কওমিকণ্ঠ : এই যে আপনার লেখালেখি, তো জীবনের পড়ন্তবেলায় নিজেকে কোন পর্যায়ে দেখতে চান?
লিসানুল হক : সফল লেখকের পর্যায়ে।

কওমিকণ্ঠ : কোন ধরনের বই পড়তে পছন্দ করেন এবং কেন করেন?
লিসানুল হক : সীরাত, তাফসীর, হাদীস, সাহিত্য, বুজুর্গদের গল্প, বিজ্ঞান ও কবিতা। কারণ বিষয়ই বলে দেয়।

কওমিকণ্ঠ : সবকিছুর পরে আপনি একজন আলেম, লেখক, তো আর সবার মতো আপনারও অনেক সমালোচক-কল্যাণকামী রয়েছেন, তাদের সম্মানে কিছু বলার আছে?
লিসানুল হক : প্রেমের চর্চা করুন, প্রিয় হয়ে যাবেন। নিন্দার চর্চা যে করে সে-ই নিন্দনীয়। নন্দিত ব্যক্তির নিন্দা নির্বুদ্ধিতা।

কওমিকণ্ঠ : সামর্থ্যানুযায়ী অন্তত নিজস্ব এ্যাঙ্গেলে এবং অঙ্গনে দায়িমান ছাবিতান রাখার মতো দৈনিক, সাপ্তাহিক না হলেও অন্তত পাক্ষিক কোনো ইলেক্ট্রিক মিডিয়ার চিন্তা করা যায়না?
লিসানুল হক : যতোই দেখছি ততোই হতাশা বাড়ছে। আমাদের সব কাজের মূল কেন্দ্র তো মাদরাসা। প্রতিটি মাদরাসার উস্তাদ ছাত্র সমমনা হলে এবং সমস্ত মাদরাসা পারষ্পরিক আস্থাশীল সম্পর্ক তৈরি করতে পারলেই এরকম অনলাইন মিডিয়া দৈনিক করাও সম্ভব। কিন্তু আমাদের কদর্য মানসিকতা এরকম কাজে এগুতে দেবে বলে মনে হয় না। যাদের কাছে মানুষ ঐক্যের সবক নেবে তারাই প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলে প্রতিক্ষণে। আবার এসব প্রতিহিংসামূলক আচরণকে হালাল করতে কেউ কেউ ‘অসঙ্কোচ, সত্যপ্রকাশ’ বলে দাবি করে।

কওমিকণ্ঠ : পাঠকের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
লিসানুল হক : ইসলাম মানে আনুগত্যের জন্যে বিনা শর্তে আত্মসমর্পণ। ঈমানের সাতাত্তর শাখা মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন আর ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করুন। দেখবেন নিজের মধ্যে ঈমান কতটুক আছে কতটুক নেই। একটা একটা করে বাস্তবায়ন করলে সাতাত্তর বছর বয়সেও কুলোবে না। তাই পরচর্চায় সময় নষ্ট না করে ঈমানের নবায়ন করুন বারবার।
অল্প সময়ে অধিক মুনাফা তাবলীগে সময় দেওয়া। কী নেই সেটা না দেখে কী আছে সেটাই গ্রহণ করুন। একজন পথভোলা বান্দাকে মিষ্টি কথায় কালেমা পড়াতে পারলে জিহাদের কী দরকার? কিন্তু জিহাদকে পছন্দ না হলে সেটাও ঈমানের অনুপস্থিতির আলামত। যেখানে জিহাদ চলমান সেখানেও অনেক মানুষ দরকার। সুযোগ থাকলে ময়দানে চলে যান। একে অপরকে অবজ্ঞা নয়, সহযোগিতার নাম ইসলাম। যারা সমালোচনা করে একজনকে আরেকজন থেকে দূরে সরিয়ে দেয় তারা মুসলমান নয় মুনাফিক।
দু’টি যুদ্ধ অত্যাসন্ন। এক গযওয়ায়ে হিন্দ। দুই হযরত মাহদী আ.’র নেতৃত্বে বিশ্বযুদ্ধ। উভয়টির প্রক্রিয়া চলমান। অতএব প্রস্তুতি গ্রহণ করুন দ্রুত।

কওমিকণ্ঠ : আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্যে অনেক নেক শুকরিয়া। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
লিসানুল হক : আপনাকেও অনেক শুকরিয়া।

Comment

Share.

Leave A Reply