উৎসবের আবহে শেষ কেমুসাস বইমেলা

0

উৎসবের আবহে চলা কেমুসাস বইমেলা শেষ হলো বিদায়ের সুরে। এক বছরের জন্যে ভাঙলো লেখক-পাঠক-প্রকাশক-বিক্রেতাদের মিলনমেলা।
গতকাল বুধবার দশ দিনব্যাপী মেলার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লেখক-পাঠকদের এ মিলনমেলা ভাঙে। সন্ধ্যে ৭টায় কেমুসাসের শহীদ সোলেমান হলে শুরু হয় বইমেলা সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেমুসাস সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর আব্দুল আজিজ বলেন, একটি উন্নত ও মননশীল সমাজ গঠনে কেমুসাস তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অবদান রেখে আসছে। লেখক-পাঠক, সংস্কৃতিকর্মী ও সাহিত্যসেবীদের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান। কেমুসাস বইমেলা সেরকমই একটি পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, গত ৮৩ বছর ধরে সাহিত্য-সংস্কৃতি কর্মকা- চালিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সবাইকে আরো জানার ও জানানোর সুযোগ করে দিতে হবে। এখানে দেশ-বিদেশের অসংখ্য গবেষক তাদের গবেষণার জন্য আসেন। সিলেটের স্থানীয় লেখক-গবেষক ও শিক্ষার্থীদের বেশি করে কেমুসাসে এসে ঋদ্ধ হবার আহ্বান জানান তিনি।
দশম কেমুসাস বইমেলার সদস্য সচিব ও কেমুসাসের সহ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মবনুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কেমুসাসের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন কেমুসাসের সহ সভাপতি ও বইমেলা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আ ন ম শফিকুল হক ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক প্রতিযোগী ও তাদের অভিভাবক উপস্থিত হন। দশদিনের মেলায় ১৫টি বিভাগে বিজয়ী অর্ধশতাধিক প্রতিযোগিকে পুরস্কৃত করা হয়।
কেমুসাসের সহ সভাপতি ও বইমেলা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আ ন ম শফিকুল হক তার বক্তব্যে দশ দিনব্যাপী বইমেলা সফল করতে সহায়তা করায় সিলেটবাসীকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিজয়ী প্রতিযোগিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হচ্ছে- চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিশেষ বিভাগে ১ম স্থান নামিরা সাদেক পিয়া, ২য় স্থান নুসাইবা বিনতে শরীফ, ৩য় স্থান জারিয়া খান ফারাবী, ‘ক’ বিভাগে ১ম স্থান সাদমান সাকিব জারিফ, ২য় স্থান দিব্যজ্যোতি গোস্বামী (সূর্য), ৩য় স্থান তালহা আব্দুর রহমান, ‘খ’ বিভাগে ১ম স্থান মো. আফজাল হোসেন রাফি, ২য় স্থান সামিয়া সাদেক লিয়া, ৩য় স্থান সৈয়দা রাইদা সাবাহাত দিয়ানাহ, ‘গ’ বিভাগে ১ম স্থান সৈম্য দাস (অর্ণব), ২য় স্থান ফাহিমা আলভী রহমান রিফা, ৩য় স্থান নাফিসা তানজীন অর্জন করেন।
আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিশেষ বিভাগে ১ম স্থান আফ্রিদা রহমান, ২য় স্থান নামিরা সাদেক পিয়া, ৩য় স্থান যৌথভাবে তাহিয়া রাবাব ও নুসাইবা নুরই আজিজ, ‘ক’ বিভাগে ১ম স্থান তাসনিম যারীন চৌধুরী ২য় স্থান ঐশ্বর্যা কুন্ডু শ্রেয়া, ৩য় স্থান যৌথভাবে ফাইজা চৌধুরী ও মাত্রিবা রহমান, ‘খ’ বিভাগে ১ম স্থান সামিরা সাদেক লিয়া, ২য় স্থান তাসফিয়া জাহান তাহিয়া, ৩য় স্থান যৌথভাবে দেওয়ান তাসীন রাজা শাফী ও মাইশা আনজুম অর্পা, ‘গ’ বিভাগে ১ম স্থান মিহদা-তুল-জান্নাত, ২য় স্থান শেখ ফাহিমা সুলতানা রীমি, ৩য় স্থান ফারিয়া তাহসীন প্রিমা, ‘ঘ’ বিভাগে ১ম স্থান হিমেল মাহমুদ, ২য় স্থান তাহরাতুল জান্নাত নিঝুম, ৩য় স্থান মো. তানভীর আহমেদ। হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় ‘ক’ বিভাগে ১ম স্থান আরিফা জান্নাত ফেরদৌসী, ২য় স্থান শেখ মাহজাবিন তারানা ¯েœহা, ৩য় স্থান নাহিয়া ইসলাম নওসিন, ‘খ’ বিভাগে ১ম স্থান আয়েশা আক্তার, ২য় স্থান রেজওয়ান আল হক, ৩য় স্থান সাবিনা আক্তার, ‘গ’ বিভাগে ১ম স্থান নাফিজা ইসলাম নওরিন, ২য় স্থান তাসনিম ইফরিত খান, ৩য় স্থান যৌথভাবে ফাহিমা আলভী রহমান রীফা, যারীন তাহসিন তৃণা ও মো. রিফাত হোসেন। নির্ধারিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় ‘খ’ বিভাগে ১ম স্থান শেখ আহনাফ নাফি, ২য় স্থান সামিরা সাদেক লিয়া, ৩য় স্থান অগ্নিলা দাস। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিক গ্রুপ সাস্ট এস.ডি ও রানার্স আপ হয় নর্থইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গেরিলা-৭১। এ গ্রুপে শ্রেষ্ঠ বিতার্কিকের পুরস্কার পান সুমাইয়া ইসলাম ঐশী (সাস্ট এস.ডি)। স্কুল পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় সিলেট ক্যাডেট মাদ্রাসা ও রানার্স আপ হয় জামিআ সিদ্দিকিয়া। এ বিভাগে শ্রেষ্ঠ বিতার্কিকের পুরস্কার পান মো. আব্দুল হাসিব জাহিদ (সিলেট ক্যাডেট মাদ্রাসা)।-বিজ্ঞপ্তি

Comment

Share.

Leave A Reply