একজন কাসেম বিন আবু বাকার এবং বাংলাদেশের মিডিয়ার লুকোচুরি

0

ইকবাল হাসান জাহিদ ::

বাংলাদেশের মিডিয়ায় কাসেম বিন আবু বাকারকে তুলে ধরা হয়নি কোনোকালেই। অথচ বিশ্বমিডিয়া বলছে বাংলাদেশের সবচে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক কাসেম বিন আবু বাকার। হুমায়ুন আহমেদের “মিসির আলী” কিংবা জাফর ইকবালের “নাটবল্টু” টাইপের উপন্যাস দেশের সকল শ্রেণির পাঠকদের মনের গহীনে যে প্রভাব ফেলতে পারেনি এরচেও অনেকগুণ বেশি প্রভাব ফেলতে পেরেছে কাসেম বিন আবু বাকারের “ফুটন্ত গোলাপ” কিংবা “বিদায় বেলায়” টাইপের উপন্যাস।

এএফপি বলছে, স্যেকুলার লেখকরা এমন এক দুনিয়ার গল্প বলেছে, যেখান থেকে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রধান অংশের গ্রামীণ ও ধর্মীয় জীবনের অস্তিত্ব মুছে ফেলা হয়েছে। কাসেম এই শূন্যতার বিষয়টি অনুধাবন করে তার উপন্যাসের বাজার গড়ে তুলেছেন।

কিন্তু কোনো এক রহস্যজনক কারণে বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো কাসেম বিন আবু বাকারের লেখা অসংখ্য উপন্যাসকে চেপে রাখতে চেয়েছে আজীবন। তবে আমার কাছে এর একটা যৌক্তিক কারণও আছে। অধ্যাপক আখতার ফারুকের সাহিত্যকর্ম এদেশের মানুষের অনেকেরই জানা নেই। তাঁর লেখা “জাহান্নামের আগুনে বসিয়া” বইটি বাংলা সাহিত্যের মূলধারায় গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল। অথচ এদেশের মিডিয়া কিংবা বামশ্রেণির সাহিত্যিকদের অজানা এলার্জির কারণে এই সকল লোকের সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করতে অনিহা প্রকাশ করেন। মুহিউদ্দিনের খানের বাংলাসাহিত্যের অবদান কোনোকালেই স্বীকার করেনি এদেশের বস্তুবাদি মিডিয়া। স্বীকার করেন না অনেক পুঁজিবাদপুষ্ট সাহিত্যিকশ্রেণি। বাংলা একাডেমির পুরষ্কারপ্রাপ্ত কবি আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, আমার মতো নগন্য যদি বাংলা একাডেমির পুরষ্কার পায় তাইলে আমার সাহিত্যের গুরুতুল্য মুহিউদ্দিন খান কেনো বাংলা একাডেমির পুরষ্কার পাবেন না? এটা নিশ্চয়ই রহস্যজনক কারণ।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের রিপোর্টে: কাসেম বিন আবুবাকারকে নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। গতকাল ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক মিরর, বার্তা সংস্থা এএফপি, ভারতের টাইমসনাওসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের মেইন স্ট্রিম পত্রিকাগুলো তাকে সেভাবে তুলে না আনলেও সাধারণ পাঠকরা তার বই একচেটিয়া কিনে থাকে। শুধু বাংলাদেশ নয় পশ্চিমবঙ্গেও তার বইয়ের ব্যাপক বাজার রয়েছে।

অনেকের দাবি, কাসেম বিন আবুবাকার বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক। তবে বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমে বরাবরই আলোচনার বাইরে ছিলেন কাসেম বিন আবুবাকার। ঔপন্যাসিক হিসেবেও সাহিত্য সমাজে ‘স্বীকৃতি ও সমাদর’ পাননি তিনি। কিন্তু আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি কাসেম বিন আবুবাকারকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন তিনি। যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইয়াহু নিউজ, মধ্যপ্রাচ্যের আরব নিউজ, মালয়েশিয়ার দ্যা স্টার ও মালয়মেইল, পাকিস্তানের দ্য ডন, ফ্রান্সের ফ্রান্স টুয়েন্টি ফোর ও রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল, হাঙ্গেরির হাঙ্গেরি টুডেসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ফলাও করে কাসেমকে নিয়ে ওই প্রতিবেদন ছেপেছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাসেম বিন আবুবাকার ১৯৭০ দশকের শেষের দিকে একজন বই বিক্রেতা হিসেবে প্রায় সব উপন্যাসের মধ্যে শুধু শহুরে অভিজাতদের জীবনযাত্রার কথা দেখতে পেয়ে নিজেই হাতে কলম তুলে নেন। এরপর ১৯৭৮ সালে কাসেম তার প্রথম উপন্যাস ‘ফুটন্ত গোলাপ’ লেখেন। তবে ‘মোল্লার উপন্যাস বিক্রি হবে না’ বলে এটি প্রকাশকের নজর কারতে প্রায় এক দশক সময় লাগে। ওই প্রকাশকের কাছে মাত্র এক হাজার টাকায় এটির সত্বও বিক্রিও করে দেন তিনি। এরপর ইসলামী মূল্যবোধকে সামনে রেখে কাসেমের লেখা একের পর এক প্রেমের উপন্যাস প্রকাশিত হতে থাকে। এসব উপন্যাস দ্রুতই তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। লাখ লাখ পাঠকের হাতে হাতে ঘুরতে থাকে তার উপন্যাস।

এএফপিকে বাংলাদেশের সাংবাদিক কদরুদ্দিন শিশির বলেছেন, কাসেম বিন আবুবাকার এমন এক নতুন পাঠকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছেছেন, তার আগে যাদের অস্তিত্বের কথা কেউ ভাবেইনি। তিনি আরও বলেন, গ্রাম এলাকায় তরুণ প্রেমিকরা তাদের প্রেমিকাকে সেরা উপহার হিসেবে কাসেমের উপন্যাস দিয়ে থাকে। কাসেমের উপন্যাস মাদ্রাসা বা ধর্মীয় আবাসিক স্কুলের ছাত্রদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হওয়ার একটি ব্যাখ্যা এএফপির কাছে তুলে ধরেন সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ। তিনি বলেন, তারা কাসেমের গল্পের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারে। আর এসবের কাহিনী বিন্যাস এবং ভাষাও তাদের কাছে আরামদায়ক মনে হয় বলে পারভেজের মত।

এছাড়া কাসেমের এ প্রচেষ্টা থেকে নতুন প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশী লেখক অনুপ্রাণিত হয়ে সমকালীন ‘ইসলামী উপন্যাস’ লিখে সাফল্যের পথ খুঁজে পেয়েছেন। এদের মধ্যে আবদুস সালাম মিতুল, কাউসার আহমেদ এবং আবদুল আলিমের মতো লেখক উল্লেখযোগ্য।

কাসেম বিন আবু বকরের লিখিত ৭২ টি উপন্যাসের তালিকা—

১।আমিও মানুষ 2। তুমিও মানুষ ৩।ফুটন্ত গোলাপ ৪।বিদেশী মেম ৫।ক্রন্দসী পিয়া ৬।কি পেলাম ৭।প্রেমের পরশ ৮।বিলম্বিত বাশর ৯।প্রেমওস্বপ্ন ১০।তোমার প্রত্যাশায়। ১১।ভাঙা গড়া ১২।পাহাড়ী ললনা ১৩।হৃদয়ে আকা ছবি ১৪।কে ডাকে তোমায় ১৫।মেঘলা আকাশ ১৬।অনন্ত প্রেম ১৭।শেষ উপহার ১৮।কলংকের ফুল ১৯।শহরের মেয়ে ২০।ফুলেরকাটা ২১।স্বর্ণ তুমি ২২।হৃদয় যমুনা ২৩।বহু রুপিনী ২৪।বধুয়া ২৫।কামিনী কাঞ্চন ২৬।বিয়ের খোপা ২৭।পলাতকা ২৮।কালো মেয়ে ২৯।অমর প্রেম ৩০।আমি তোমার ৩১।ধনীর দুলালী ৩২।হঠাৎ দেখা ৩৩।শরীফা ৩৪।বিদায় বেলায় ৩৫।আধুনিকা ৩৬।জে্োৎস্নারাতে কালো মেঘ ৩৭।স কোন বনের হরিণ ৩৮।বিকেলে ভোরের ফুল ৩৯।যেতে নাহি দেব ৪০।প্রেম বেহেস্তের ফুল ৪১।কেউ ভোলে কেউ ভোলে না ৪২।একটি ভ্রমর পাচঁটি ফুল ৪৩।শ্রেয়সী ৪৪।প্রেম যেন একসোনার হরিন ৪৫।প্রতিবেশিনি ৪৬।অসম প্রেম ৪৭।পল্লী বালা ৪৮।অবশেষে মিলন ৪৯।ভালোবাসি তোমাকেই ৫০।বিয়ে বিভ্রাট ৫১।চেনা মেয়ে ৫২।অবাঞ্চিত উইল ৫৩।কাঙিক্ষত জীবন ৫৪।তুমি সুন্দর ৫৫।সংসার ৫৬।বড় আপা ৫৭।অচেনা পথিক ৫৮।বালিকার অভিমান ৫৯।বাসর রাত ৬০।অলোকিক প্রেম ৬১।মানুষ অমানুষ ৬২।প্রতীক্ষা ৬৩।পথে পরিচয় ৬৪।ধুমায়িত পথ ৬৫।মেঘে ঢাকা মন ৬৬।শ্রাবনী ৬৭।নাফ নদীর বাকে ৬৮।সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে ৬৯।স্বনির্বাচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ৭০।প্রেমের ফসল ৭১।আজরাঈল(আ:) এর কান্না ৭২।প্রেম

Comment

Share.

Leave A Reply