স্বীকৃতি কার্যকর হলে দেশ উন্নতির দিকে যাবে : আনোয়ার আবদুল্লাহ

0

একান্ত সাক্ষাৎকারে সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

কওমি মাদরাসা শিক্ষাসনদের সরকারি স্বীকৃতি আদায়ের আন্দোলনে তরুণদের অন্যতম প্রতিনিধি। কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি ও সংস্কার আন্দোলনের সাথে জড়িত বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, ঔপন্যাসিক বহুগ্রন্থপ্রণেতা সৈয়দ আনোয়ার আব্দুল্লাহ কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে এক সন্ধ্যায় কথা হয় তাঁর সাথে। স্বীকৃতির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কওমিকণ্ঠের সাথে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান।

কওমিকণ্ঠ : কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি নিয়ে আপনি অনেকদিন ধরে কাজ করছেন, তো সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর এ নিয়ে আপনার অনুভূতি কেমন?
সৈয়দ আনোয়ার : নিঃসন্দেহে কওমি সনদের স্বীকৃতি ঘোষণা- এটা সরকারের একটি প্রসংশনীয় কাজ। এর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমি কওমি মাদরাসা সংস্কার ও স্বীকৃতি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে ময়দানে কাজ করছি। কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে আমরা যে জিনিষটি চাচ্ছি, স্বীকৃতির ঘোষণা তার প্রাথমিক একটি পদক্ষেপ। তবে এতে খুব বেশি আত্মতৃপ্ত হওয়ার কিছু নেই। সংসদ অধিবেশস ও মন্ত্রী পরিষদে আইন পাশ না হওয়া পর্যন্ত আমরা সত্যিকারের খুশি হতে পারি না। এমন মৌখিক ঘোষণা এর আগেও দেয়া হয়েছিল। ভোটের জন্য রাজনীতি করতে গিয়ে সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী স্ভীকৃতির ঘোষণা দিয়ে জাতির সাথে প্রহসন করেছিলেন।

কওমিকণ্ঠ : বিএনপি দাবী করেছে, ২০০৬ সালে তারাই কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং গেজেটও প্রকাশ করেছিল। পরবর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কওমির সার্টিফিকেট দিয়ে প্রাইভেট ভার্সিটিগুলোতে ছাত্রও ভর্তি করেছিল। আসলে সেটা কী ছিল?
সৈয়দ আনোয়ার : বিএনপির গেজেট প্রকাশ আর প্রাইভেট ভার্সিটিতে দাওরার সনদে অনার্সে ভর্তি হওয়া- এটা মূলত একটা প্রহসন। হাস্যকর বিষয়। প্রাইভেট ভার্সিটিগুলো যদি বিএনপির ঘোষণার আলোকে অনার্সে দাওরার সনদে ছাত্র ভর্তি করে থাকে, তাহলে দাওরায়ে হাদিস তো এইচএসসির সমমান পেল। একজন শিক্ষার্থী মাস্টার্স করে এইচএসসির সার্টিফিকেট নিবে কোন যুক্তিতে? সব কিছুই ছিল প্রহসন।

কওমিকণ্ঠ : প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বীকৃতি ঘোষণার পর অনেকে একটি আইনি জটিলতার কথা বলছেন যে, দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দেওয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নেই, সমমান দেওয়ার জন্য একুইভ্যালেন্স কমিটি (equivalence committee) লাগে, বাংলাদেশে কোনো equivalence committee নেই। সে ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
সৈয়দ আনোয়ার : আপনি লক্ষ্য করবেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন, “আমরা একটি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। যাতে এর মাধ্যমে কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি হতে পারে। অনেক সমস্যাই এখন থাকতে পারে এখানে। তবে ধীরে ধীরে আমরা এগুলো আলোচনা করে দূর করবো”। কিন্তু আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সনদের মান গ্রহণ আলেমরা মেনে নিবেন না বলেই মনে হচ্ছে।
এখানে আমার পরামর্শ হচ্ছে, আরবী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে equivalence না নিয়ে কওমি উলামায়ে কেরামের একটু অপেক্ষা করতে হবে। সরকার ‘ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন’ (ইউজিসি) ভেঙ্গে ‘উচ্চশিক্ষা কমিশন’ করতে যাচ্ছে, এই কমিশন সারাদেশের ইউনিভার্সিটিগুলোকে ডিল করবে। ‘উচ্চশিক্ষা কমিশনের খসড়া প্রস্তুত, মন্ত্রিসভায় পেশ হলেই স্বীকৃতি পাবে এবং মঞ্জুর হয়ে যাবে। এই কমিশন বিএ থেকে নিয়ে পিএচডি সব কিছুই ডিল করবে। এটি হবে একটি ক্ষমতাধর কমিশন। এই কমিশন দেশি-বিদেশি সব ধরনের সার্টিফিকেটের equivalence দিয়ে থাকে। তাই আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যেয়ে আত্মহত্যা না করে সরকারের কাছে দাবি জানাতে হবে, যেন কওমিদের সমমান সার্টিফিকেট (equivalence certificate) ‘উচ্চশিক্ষা কমিশন’ থেকে দেওয়া হয়।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নতুন আইন প্রণয়নের কথাও বলেছেন। সংসদে স্বীকৃতির বিল পাশ হলে এ বিষয়ে সরকার নতুন আইন সৃষ্টি করতে পারে, যা একুইভ্যালেন্স কমিটি (equivalence committee) লাগবে না। কওমি মাদরাসা তার স্বতন্ত্র অবস্থানে থেকেই উচ্চশিক্ষার স্বীকৃতি পাবে। স্বাধীনতার পর একক সংখ্যাগরিষ্ট সরকার হিসেবে এবং সরকার প্রধান হিসেবে দলীয় ক্ষমতাবলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই নতুন আইন তৈরি করতে পারেন তার সাংসদদের মাধ্যমে, জাতীয় স্বার্থে। কওমি ধারার সর্বোচ্চ ডিগ্রির স্বীকৃতি দেশকে টেকসই উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ মাত্র। এটা হলে কাউকে কোনো আইনী জটিলতায় পড়তে হবে না।

কওমিকণ্ঠ : শুধু দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স-এর মান নয় আপনারা তো চাচ্ছিলেন নিচের ক্লাসগুলোতে এসএসসি ও এইচএসসির মান দেয়া হোক, সেটা কী কখনো বাস্তবায়ন হবে?
সৈয়দ আনোয়ার : আমি আগেই বলেছি, সামনে এখনো অনেক পথ বাকি। প্রাথমিক একটি কাজ শুরু হয়েছে মাত্র।
উলামাদের নিকট হাতজোড় করে এখনো অনুরোধ করব, আপনারা শুধু দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি না দিয়ে নিচের আরো ৩টি সনদের স্বীকৃতিরও দাবি জানান। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকের সমমান না নিলে মাস্টার্সের কোনো মূল্য থাকবে না। শুধু মাস্টার্সের সার্টিফিকেট দেখে সবাই হাসি-তামাশা করবে। তাই দাবি যেহেতুা জানিয়েছেন, দয়া করে বাকি ৩টিরও জানান। কাজ একসাথে হয়ে গেলেই ভালো। এক্ষেত্রে দাওরায়ে হাদিস থেকে নিচে এক বছরের গ্যাপ রেখে আরো ৩টি ক্লাসকে বেফাকের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং বাকি ৪টি ক্লাস মাদরাসার পরীক্ষার মাধ্যমে ৮ বছর পূর্ণ করতে হবে। কওমি কর্ণধারদের সেটা বুঝাতে আরেকটু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

কওমিকণ্ঠ : অনেকেই বলছেন যে সেটা হলে কওমির স্বকীয়তা নষ্ট হয়ে যাওয়া সমূহ সম্ভাবনা আছে, স্বকীয়তা বজায় রাখার লক্ষ্যেই শুধু মাস্টর্সএর মান নেয়াই ভ লো। অন্যতায় হিতে বিপরীত হতে পারে।
সৈয়দ আনোয়ার : আসলে কওমির স্বকীয়তা বজায় রাখতেই সেটা করাই উচিত। কারণ, আমাদের মেধাবী হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রাইভেটে সনদের জন্য সরকারি মাদরাসা থেকে দাখিল আলিম পরিক্ষা দিচ্ছে। তাতে আমাদের স্বকীয়তা বিনষ্ট হচ্ছে। এক সময় তো মাস্টার্সের মান নিলে স্বকীয়তা হারানোর কথা অনেকে বলতেন। সেটা এরকমই। সুতরাং স্বকীয়তা বিনষ্টের সম্ভাবনা নেই।

কওমিকণ্ঠ : স্বীকৃতি নিয়ে বাম-রাম-কতিথ আহলে সুন্নত জামাতের মাঠপর্যায়ে বিরোধীতা এবং গুটি কয়েক ব্যক্তির বক্তব্যকে দেশের শীর্ষসারীর মিডিয়া খুব গুরুত্বের সাথে তুলে ধরছে। স্বীকৃতি প্রসঙ্গ এখন বাংলাদেশের টক অব দ্যা কান্ট্রি, এটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
সৈয়দ আনোয়ার :স্বীকৃতির ঘোষণায় আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হল, কওমি আলেমদেরকে অনন্য এক উচ্চাতায় পৌঁছে দিয়েছে। তাছাড়া অন্য ঘরানার যারা এতোদিন কওমি মাদরাসা নিয়ে অন্ধকারে ছিলেন, তারাও এখন এটা নিয়ে স্ট্যাডি করছেন, টকশোতে সলিমুল্লাহ খানদের বক্তব্য শুনলে সেটা দেখতে পারবেন। যারা বিরোধীতা করছেন তাদের স্বার্থ নষ্ট হবে বলেই বিরোধীতা করছেন। কওমি সনদের ফলে কওমির শত্রু-মিত্র চেনা সহজ হয়েছে। এর ফলে কওমি আলেমরা  ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বীকৃতির পক্ষে কাজ করছেন। এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

কওমিকণ্ঠ : অনেকেই স্বীকৃতিকে হেফাজতের সাথে আওয়ামীলীগের সন্ধি বলে মনে করছেন? আসলে কী তাই?
সৈয়দ আনোয়ার : সেটা সম্পূর্ণ অপপ্রচার। আলেমরা আওয়ামীলীগের কাছ থেকে স্বীকৃতি নেননি,  নিয়েছেন সরকারের কাছ থেকে। এটা বিএনপি সরকারের কাছেও আলেমদের দাবি ছিল। যা জামাতের কারণে হোক বা অন্যকোনো কারণে, বিএনপি সেটা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আর স্বীকৃতি প্রক্রিয়ার সাথে যারা আছেন, সেসব আলেমদের বড় একটি অংশ হেফাজতের আন্দোলনের সাথে ছিলেন না। তাই স্বীকৃতি ও হেফাজতকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

কওমিকণ্ঠ : বিএনপির আমলে স্বীকৃতি নিয়ে জামায়াত বিরোধীতা করেছিল, এটা কতটুকু সত্য?
সৈয়দ আনোয়ার : বিএনপির আমলে জামায়াত নেতা ইসলামী ব্যাংক পরিচালক মুখলেছুর রহমান সরাসরি কওমি সনদের বিরোদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন। একাধিক বৈঠকের খবর সবার জানা। এটা মনে রাখতে হবে, কওমির উন্নয়নে জামায়াতে ইসলামী থেকে আওয়ামীলীগ অনেক ভালো। আপনি দেখবেন, কওমি মাদরাসায় চাঁদা প্রদান, কমিটিতে সব সময় আ’লীগের লোকজনকে পাওয়া যায় কিন্তু জামায়াতিদের পাওয়া যায় না। কওমি মাদরাসা এবং কওমির আলেমদেরকে তারা হিংসার চোখে দেখে। তারা কখনো চায়না, কওমির উন্নতি হোক।

কওমিকণ্ঠ : আপনি তো বার বার দারসে নেযামির কথা বলে কওমি সংস্কার নিয়ে কথা বলেন? সে সম্পর্কে কিছু বলুন?
সৈয়দ আনোয়ার : দারসে নেযামি একটি ব্যাপক ও বিস্তৃত শিক্ষাব্যবস্থা ছিল। এতে ৩০-৩৫ বা তারও বেশি জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের কিতাব ছিল। পক্ষান্তরে, দ্বীনি ইলমের কিতাব ছিল মাত্র তিনটি। জালালাইন, মিশকাত ও হেদায়া। উলুমে শরঈয়্যার মৌলিক এই তিনটি কিতাব ছাড়া পাঠ্যপুস্তকের বাকি সব কিতাবই সেই সময়ের জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানবিষয়ক ছিল। বিজ্ঞান, গণিত, চিকিৎসাবিদ্যা, ভূগোল ও রসায়নসহ অন্য সব প্রয়োজনীয় শিক্ষার সমন্বয়ে এই সিলেবাস প্রণীত হয়েছিল। আমাদের কাছে দ্বীনি ইলম এবং জাগতিক বিদ্যা, এ বিভক্তিই বিভ্রান্তিকর। অথবা এ কথা বলারও যথেষ্ট সুযোগ আছে যে, এর মর্মটিকেই পাল্টে দেয়া হয়েছে।

কওমিকণ্ঠ : তাহলে কি দুনিয়া ও দ্বীনী শিক্ষার মাঝে কোনো বৈপরিত্য নেই?
সৈয়দ আনোয়ার : দুনিয়াবি বিষয়াদিকে সঠিক ও সুন্দরভাবে ব্যবহার করা এবং শরিয়তের হুকুম-আহকামকে যথাযথভাবে পালন করার নামই হলো দ্বীন। জীবনকে নিয়ন্ত্রণকারীর নামই হলো দ্বীন। শিল্প, ব্যবসাবাণিজ্য, প্রকৌশলবিদ্যা, রাষ্ট্রনীতি ও সায়েন্স; এসবই উলূমে ইসলামিয়্যার অন্তর্ভুক্ত। এগুলোকে ইসলামি রীতিনীতি অনুযায়ী পড়া এবং পড়ানো উচিত। অবশ্য কুরআনুল কারিমের তাফসির, হাদিস শরিফের ব্যাখ্যা ও ফিকহে ইসলামির জ্ঞান-গবেষণা এগুলো মৌলিক ইলম। বাকিগুলো এদের অনুগামী। মৌলিক ও অনুগামী এই দুই ইলমের মধ্যে কোনো বৈপরিত্য বা বিরোধ নেই।
শরিয়াহ ইলমের সম্পর্ক মহান আল্লাহ তায়ালার সত্তার সাথে, তাঁর গুণাবলির সাথে, তাঁর মারেফাতের সাথে, তাঁর আহকামের সাথে, তাঁর শৃঙ্খলার সাথে, তাঁর আইন-কানুনের সাথে, তাঁর কিতাবের সাথে। সুতরাং এর সম্পর্ক তাঁর শরিয়তের সাথেও হওয়া উচিত। এখানে এই বিষয়টিও খুব গুরুত্বসহকারে স্মরণ রাখতে হবে যে, যেই ইলমের সম্পর্ক আল্লাহ তায়ালার জাত বা সিফাতের সাথে নেই, সেটি ইলম নামের মুর্খতা। এটি ইবলিশ-শয়তানের জুলমানি (অন্ধরাকারাচ্ছন্ন) ইলম। সদা সর্বদা অন্তরে এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আমাদের সৃষ্টিকর্তা এবং মালিক হলেন আল্লাহ তায়ালা। আমাদের পালনকর্তা ও বিধানদাতা হলেন আল্লাহ তায়ালা।
অপরদিকে তাঁর ‘সৃষ্টি করা’র মহান সিফাতের প্রতি তখন দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, যখন তাঁর সৃষ্টির প্রতিটি বিষয় ইলমের আয়ত্বসীমার মধ্যে এসে গেছে। সুতরাং এখন আমাকে বলে দিন যে, কোন বিভাগ, কোন অনুষদ, কোন বিষয় ইলমের সীমার বাইরে? ইলমের সীমার বাইরে আর কী বাকি রয়ে গেল?

কওমিকণ্ঠ : সময় দেয়ার ন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
সৈয়দ আনোয়ার : আপনাকেও ধন্যবাদ।

Comment

Share.

Leave A Reply