হেফাজত ‘কেমন ছিল, যেমন আছে, কেমন থাকতে চায়’

1

‘হেফাজত ছিল আছে থাকবে’ : জুনাইদ আল হাবীব

 ‘কেমন ছিল, যেমন আছে, কেমন থাকতে চায়’ : রশীদ জামীল

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি চেতনা, একটি গণ-জোয়ার, একটি গণবিস্ফোরণ, একটি বেদনাও বটে। যুগে যুগে এভাবেই আন্দোলন ঘোর পাকায়। কখনো সফল হয় কখনো রেশ থাকে আবহমান কাল জুড়ে। বিগত জামানায় বাদশাহ আকবরের দ্বীনে এলাহির বিরুদ্ধে সৈয়দ আহমদ সিরহিন্দী, মুজাদ্দিদে আলফে সানীদের আন্দোলনের ইতিহাস আমাদের সামনে। আসলাফের বিগত ইতিহাস এবং বর্তমান এই আন্দোলনের চুলচেরা বিশ্লেষণের সময় এখন। যে আন্দোলন কোটি কোটি মানুষকে আন্দোলিত করল, যে আন্দোলন তামাম বিশ্বকে নাড়িয়ে দিল, সেই আন্দোলনের বর্তমান-ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের ভাববার দরকার আছে। তাতে কেউ খুশি হলে ভাল, না হলেও আপত্তি নাই। আমরা আমদের জান-মাল-ইজ্জত, ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে খেলা করবার ইজারা কাউকে দিয়ে বসিনি। ভুলকে শুধরে নিয়ে সফলতাকে কাজে লাগিয়ে আগামীর ভিত রচনার উদ্দেশ্যে চাই নির্মোহ পর্যালোচনার।

হেফাজতের আমির, মহাসচিব মহোদ্বয়কে এখানে বসে কথা বলতে রাজি করানো অন্তত আমাদের পক্ষে সহজ মনে হচ্ছিল না। আমরা চেষ্টা করছি সামনে কোনো দিন তাদেরকেও পাঠকের সামনে নিয়ে আসতে।
হেফাজত নিয়ে মানুষের মাঝে অনেক প্রশ্ন, অনেক জিজ্ঞাসা। কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে কথা বলবার মত দায়িত্বশীল কাউকে আমজনতা ধারেকাছেও পায় না। মধ্য জুলাই ২০১৪ তে হেফাজতের আলোচিত-সমালোচিত যুগ্ন মহাসচিব, ঢাকা মহানগরীর সদস্য সচিব, হেফাজতের মিডিয়া উইঙ্গারদের অন্যতম একজন, মাওলানা জুনাইদ আল হাবিবকে পেয়ে গেলাম হাতের কাছে। যুক্তরাষ্ট্র সফর করছিলেন তিনি। চেপে ধরলাম তাঁকে। তিনি কথা বলতে রাজি হলেন।

এক ঢালি প্রশ্ন নিয়ে মুখোমুখি হলাম তাঁর। আর প্রশ্ন পর্ব শুরু করবার আগেই বলে রাখলাম, এভাবে বলেছিলাম, ‘হযরত! কিছু সময়ের জন্য আমাকে ভুলে যেতে হচ্ছে আপনি একজন বিজ্ঞ আলেম এবং এখানে মেহমান। কিছু প্রশ্ন আপনার কাছে বিব্রতকর লাগলেও আমাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। মানুষ জানতে চায়। সে জন্য আগাম সরি বলে নিলাম। সেই সাথে এটাও বলে রাখি, আপনার সাথে এই ইন্টারভিউ এর উদ্দেশ্যে যেমন আপনাকে বিব্রত বা ছোট করা না, একইভাবে আপনাকে বিতর্কমুক্ত করাও নয়। আমরা জানি আপনি মিডিয়ায় অত্যন্ত সাবলিল। উল্টা-পাল্টা প্রশ্ন হ্যান্ডেল করে ভালই অভ্যস্ত আছেন আপনি। কিছু মনে না করার মত উদারতা আপনার আছে জেনেই বলছি। বাজারে যে আপনাকে নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে (সত্য হোক আর অসত্য) সেটা নিশ্চই আপনিও অস্বীকার করতে চাইবেন না। আমার কথা শুনে তিনি হাসি মুখে উপর নিচে মাথা দোলালেন।

রাত ১১ টা থেকে ১টা, পাক্কা তিন ঘণ্টা ধরে চলল প্রশ্নোত্তর পর্ব, লাল চায়ের মগ সামনে নিয়ে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরই ছিল উনার কাছে, দিয়েছেনও। যদিও উনার দেয়া উত্তরের সাথে উনি নিজেই সবগুলোর সাথে একমত কিনা, সেটা নিয়ে প্রশ্ন কর্তা নিশ্চিত হতে পারেননি। কতটা বাস্তবতার ভিত্তি থেকে জবাব দিয়েছেন আর কতটি নেতৃবৃন্দকে সেইভ করবার জন্য, সেটা তিনি জানেন আর জানেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন।
পাঠকদের বলছি। এখানকার কথা পর্বে সমীক্ষার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, সহমত, ভিন্নমত, দ্বিমত কোনোটিই যুক্ত করে ভাববার দরকার নাই।
চলে যাচ্ছি মূল পর্বে-

রশীদ জামীল : আস সালামু আলাইকুম, কেমন আছেন?
জুনাইদ আল হাবীব : ওয়া আলাইকুম আস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। জ্বি আলহামদুলিল্লাহ।

রশীদ জামীল : হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য উদ্দেশ্য কী ছিল? প্রতিষ্ঠাকালীন অবস্থা যদি একটু বলেন-
জুনাইদ আল হাবীব : দেখুন, আমি আমার মত করে ব্যাখ্যা দিতে চাই অর্থাৎ আমি যা জানি সেটাই বলব। কওমি মাদরাসা তথা কওমি শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যখন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন মহল থেকে লাগামহীন অপ-প্রচার শুরু হল, ‘কওমি শিক্ষা একটি বেকার সমস্যা, কওমি মাদরাসা জঙ্গিবাদের প্রজনন কেন্দ্র’ ইত্যাদি ইত্যাদি, তখন এ দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম, খলিফায়ে কুতবে আলম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (দাঃ বাঃ) এর আহবানে মুফতি মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা সুলতান যওক, মাওলানা আব্দুল হালিম বুখারিসহ চট্টগ্রামের অন্যান্য শীর্ষ উলামায়ে কেরাম এক বৈঠকে মিলিত হয়ে মাদরাসা ও ইসলাম রক্ষার তাগিদে প্রতিষ্ঠা করেন হেফাজতে ইসলাম।
সেই সভাতেই চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে একটি সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শুরু হয় প্রচারণা। তখন মাওলানা সুলতান যওক সাহেব আমাকে ফোন করেন। বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আপনাকে দাওয়াত করছি। আমাদের মঞ্চে সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত উলামায়ে কেরামকে এখনই আহবান আমন্ত্রণ করছি না কিন্তু আপনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে আপনাকে দাওয়াত করার’।
সিলেটে আমার পূর্ব নির্ধারিত কয়েকটি মাহফিল থাকায় আমি আর লালদিঘীর সমাবেশে যেতে পারিনি। সেদিন বাদ জুহর আমি হবিগঞ্জের এক মাহফিলে থাকা অবস্থাতে সংবাদ পেলাম, আল্লামা আহমদ শফীর গাড়ি বহরকে আটকে দেয়া হয়েছে, গুলি করা হয়েছে। সংবাদ শুনে হবিগঞ্জে আমার সেদিনকার চারটি ওয়াজ মাহফিলকে আমি রীতিমত প্রতিবাদ সভায় রূপান্তরিত করে ফেলি। সেগুলোতে বক্তব্য রেখে রাতেই চিটোগং এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। এই হল শুরুর কথা।
তারপর, শাহবাগের কতিপয় আল্লাহদ্রোহী নাস্তিক ব্লগারদের সীমা-ছাড়ানো কটূক্তির কারণে সারাদেশে বিক্ষিপ্ত প্রতিবাদ হচ্ছিলো। সেই অবস্থায় আল্লামা আহমদ শফী হেফাজতে ইসলামের পক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি দিলেন। প্রতিবাদের দাবানল জ্বলে উঠল সারা দেশে।

রশীদ জামীল : তারপর? লংমার্চ, ঢাকা অবরোধ, এই কর্মসূচিগুলো কি চট্টগ্রাম থেকে আসত?
জুনাইদ আল হাবীব: কথাটিকে আমি এভাবে বলব, কর্মসূচি চট্টগ্রাম থেকে নয়, কেন্দ্র থেকে আসত। আর কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল চট্টগ্রামে। ৯ মার্চ ২০১৩ ইংরেজি হাটহাজারী মাদরাসায় সারাদেশের উলামা-মাশায়েখের সম্মেলন আহবান করা হয়েছিল। তিন-সাড়ে তিন হাজার উলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে সেদিন কর্মসূচি ঠিক করা হয়েছিল।

রশীদ জামীল : সিলেটের মৌলভী বাজারের বরুনায় প্রখ্যাত ওলি শায়খ লুৎফুর রহমান বর্নবী অর্ধ শতাধিক বছর আগে, ১৯৪৪ সালে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাহলে একই নামে নতুন করে আরেকটি সংগঠন দাড় করাতে হল কেন? দৃশ্যত একটা বিরোধ মতন হয়ে গেল না? তাছাড়া ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিরোধই যখন উদ্দেশ্য, তাহলে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারেই কি কাজ করা যেত না?
জুনাইদ আল হাবীব : প্রথম কথা হচ্ছে বরুনার হেফাজতে ইসলাম দেশব্যাপী এতো পরিচিত ছিল না, যে কারণে বলা যাবে একই নামে আরেকটি সংগঠন কেন করা হল। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, আমাদের সংগঠনের নাম হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আর বরুনার সংগঠনের নাম আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম, সুতরাং একই নামে দু’টি নয়। তৃতীয়ত: আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম মূলত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান আর হেফাজতে ইসলাম হচ্ছে ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধের জন্য। আর সবচে’ বড় ব্যাপার হল, আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেন বরুনার আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের আমির শায়খ খলিলুর রহমান হামিদি, শায়খুল হাদীস আল্লামা রশীদুর রহমান হামিদীসহ সকল নেতৃবৃন্দই আমাদের সাথে হেফাজতের আন্দোলনে সরাসরিই যুক্ত ছিলেন। সুতরাং বিরোধ ছিল বলার কোনোই কারণ নাই।

রশীদ জামীল: আমরা জানি হেফাজতে ইসলাম ছিল চট্ট্রগ্রাম ভিত্তিক একটি আঞ্চলিক সংগঠন। কিছু বখাটে ব্লগার কর্তৃক মহানবীকে কটাক্য করার পর হেফাজত ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশে। আচ্ছা সারা দেশের আলেম সমাজ কি স্বেচ্ছায় গিয়ে হেফাজতের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন নাকি কেন্দ্র থেকে তাদের প্রতি আহবান এসেছিলো?
জুনাইদ আল হাবীব : আমি আমার এঙ্গেল থেকে বলছি। ফরম্যালি আমরা জানতাম না। আমরা ভেবেছিলাম এটা চট্ট্রগ্রাম ভিত্তিক সংগঠন হয়ে থাকবে। পরে জানলাম, না-এটা শুধু চট্টগ্রাম ভিত্তিক না, দেশব্যাপী। মাওলানা নুর হুসাইন কাসেমী, মুফতি ওয়াক্কাস, আল্লামা তফজ্জুল হক হবিগঞ্জিসহ সারাদেশের উলামায়ে কেরামকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তারপর সারা দেশের সর্বস্থরের উলামায়ে কেরাম হেফাজতের ব্যানারে সমবেত হয়ে যান।

রশীদ জামীল : মিডিয়ায় আল্লামা আহমদ শফীর খোলা চিঠির মাধ্যমেই হেফাজতের আন্দোলনের সূচনা ছিল। তারপর আমিরে হেফাজতের পক্ষ থেকে অনেক বিবৃতি এসেছে মিডিয়ায়। আমাদের প্রশ্ন হল এই বিবৃতিগুলোর সবগুলো কি উনার জ্ঞাতসারেই দেয়া হত?
জুনাইদ আল হাবীব : আমার জানামতে সকল বিবৃতি বা বক্তব্য তৈরি করে হুজুরকে পাঠ করে শোনানো হত, তারপর প্রচার করা হত।

রশীদ জামীল : হেফাজতের আন্দোলন শুরু হবার পর আমরা লক্ষ করলাম কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনেকের কাছে ব্লগ ব্যাপারটি পরিষ্কার না। যে কারণে তাদের কারো কারো কাছ থেকে এ সংক্রান্ত অপরিপক্ক কথাবার্তা মিডিয়ায় আসতে লাগল। তাহলে আমরা কেন বলতে পারব না আপনারা না জেনে শোনা কথার উপর ভিত্তি করে আন্দোলনে নেমে গিয়েছিলেন?
জুনাইদ আল হাবীব : ব্লগ সম্বন্ধে আমার আগে থেকেই একটু-আধটু ধারণা ছিল। বাকি আলেম-উলামাদের কারো কারো এ ব্যাপারে ধারণা নাও থেকে থাকতে পারে। আর এটা অস্বাভাবিক না। সবার জন্য সবকিছু জানা জরুরি না। পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে আপত্তিকর ব্যাপারগুলো বেরিয়ে আসার পর আলেম-উলামা প্রতিবাদ-মুখর হন।

রশীদ জামীল : ব্লগে নবী সম্পর্কে বিষেদাগার ছিল বছর খানেক আগের, শাহবাগের আন্দোলন শুরু হবার পর সেগুলো লিখা হয়নি। আমাদের প্রশ্ন হল, তখন আলেমরা কোথায় ছিলেন? যদি বলেন আগে জানতেন না, তাহলে এখন অর্থাৎ এর পরে কি আপনাদের কওমি ছাত্রদের জন্য ইন্টারনেট শিক্ষা ও ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার কোনো চিন্তা-ভাবনা আছে? প্রশ্নটি আপনাকে করছি আপনি একটি মাদরাসার প্রিন্সিপাল বা পরিচালক হিসাবে।
জুনাইদ আল হাবীব : আমি মনেকরি বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে শেখা ও শেখানো ইসলামের স্বার্থেই দরকার। এটি এখন ইসলাম প্রচারের একটি বড় মাধ্যম হতে পারে। আমি মনেকরি আমাদের মাদরাসাগুলোতে ইন্টারনেট শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবি। অনেক মাদরাসায় আগে থেকেই কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্স চালু ছিল। বাকিগুলোতেও চালু হয়ে গেছে বা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আল্লামা আহমদ শফী তার নিজ মাদরাসায় ছাত্রদের জন্য ইন্টারনেট প্রশিক্ষণ চালু করেছেন।

রশীদ জামীল : একটু পেছনে যাই আবার। আন্দোলন শুরুর দিকে মহাসচিবকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনারা কেনো আন্দোলন করছেন? কী হয়েছে? তিনি জবাব দিলেন, আমি আমার ছাত্রদের কাছ থেকে শুনেছি ব্লগে মহানবী (সা) কে নিয়ে ব্লগাররা কটূক্তি করেছে। প্রশ্ন হল, তার মানে কি এই না যে, হেফাজতে ইসলাম সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে নয়, শোনা কথায় আন্দোলনে নেমে গিয়েছিলো?
জুনাইদ আল হাবীব : আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী এই সময়ের অন্যতম একজন মুহাদ্দিস। উনার কাবিলিয়ত নিয়ে কোনো শক-শুবা নাই। যথেষ্ট বিজ্ঞ একজন লোক তিনি। আমার ধারণা উনার বক্তব্য যথাযথভাবে মিডিয়ায় আসেনি। আর যদি সত্যই যেভাবে এসেছে তিনি সেভাবেই বলে থাকেন, তাহলেও আমি এটাকে উনার অদূরদর্শিতা মনে করি না কারণ, উনার নিজের পক্ষে সব সময় ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করার কথাও না। এ কাজ উনার জন্য উনার ছাত্ররা করবে-এটাই তো স্বাভাবিক।

রশীদ জামীল : হেফাজতে ইসলামের কর্মপদ্ধতি ও কর্মসূচি মশওয়ারার ভিত্তিতে পরিচালিত হত নাকি এলহামি তরিকায়? প্রশ্নটি কেন করছি আশা করি বুঝতে পারছেন!
জুনাইদ আল হাবীব : হেফাজতে ইসলামের সকল সিদ্ধান্ত সাংগঠনিক নিয়ম-নীতির আলোকে পরামর্শের ভিত্তিতেই নেয়া হত। তার বাইরে আমিরে হেফাজতের পক্ষ থেকে উনার ব্যক্তিগত যে খেয়াল বা রায়গুলো পেশ হত, সেগুলো যদি ইলহামী হয়, হতেই পারে। অবাক হবার কী আছে?

রশীদ জামীল : দেশব্যাপী শাখা গঠন করার ব্যাপারে কি কেন্দ্র থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ইনস্ট্রাকশন ছিল? সারা দেশে হাজার হাজার শাখা-উপ শাখা যে তৈরি হল, সেগুলোর সাথে কি কেন্দ্রের কোনো যোগাযোগ ছিল?
জুনাইদ আল হাবীব : দেখুন, বাংলাদেশের মুসলমানরা ধর্মপ্রাণ। এর আগেও যখন ধর্মীয় ইস্যুতে আলেম-উলামারা ডাক দিয়েছেন, সারাদেশের মানুষ সাড়া দিয়েছে। এর আগে তসলিমা নাসরিন বিরোধী আন্দোলন, ফতওয়া নিষিদ্ধের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনসহ সকল আন্দোলনের সময় মানুষ ঈমানি চেতনায় নিজ নিজ এলাকায় স্ব-উদ্যোগে শাখা তৈরি করেছে। এবারেও তাই হয়েছে। আর ৯ মার্চ ২০১৩ এর সভা থেকেই সারা দেশে কমিটি করার জন্য আহবান জানানো হয়েছিল।

রশীদ জামীল : বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের নামে একাধিক শাখা হয়েছে। এটার কারণ কী ছিল বলে আপনার মনে হয়? এটাকে কি আপনার কাছে সমন্বয়হীনতা বা নেতৃত্বের লোভের কারণেই হয়েছে বলে মনে হয় না? আর কেন্দ্র কি এর জন্য দায়ীদের সনাক্ত করণ ও ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো উদ্যোগ নিয়েছিল কখনো?
জুনাইদ আল হাবীব : কিছু জায়গায় এমন হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। কেন্দ্র এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

রশীদ জামীল : ১৩ দফায় আসি। আচ্ছা এই মুহূর্তে যদি আপনাদেরকে, মানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়, কী মনে করেন, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা সামনে রেখে আপনি কি বিশ্বাস করেন আপনাদের দ্বারা ১৩ দফার সবগুলোর বাস্তবায়ন করা সম্ভব?
জুনাইদ আল হাবীব : দেখুন, ১৩ দফায় কোনো একটি দফাও অলীক বা অবাস্তব কোনো দাবি নয়। দেশ-জাতি ও মানবতার স্বার্থেই ইসলাম। আর ইসলামের সবগুলো বিধি-বিধানই বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী। সুতরাং আমরা মনেকরি দেশে ইসলামি সরকার থাকলে বিশ্ব রাজনীতি ও বিশ্ব ব্যবস্থার সাথে লিয়াজোর ভিত্তিতেই এগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব ছিল।

রশীদ জামীল : তাই যদি হয়, তাহলে ১৩ দফাতে আটকে থাকছেন কেন? সরাসরি কেন ইসলামি হুকুমতের জন্য আন্দোলনে নেমে পড়ছেন না? ইসলামি হুকুমত হয়ে গেলে তো এই ১৩ দফাসহ বাকিগুলোও সব ভেতরে ঢুকে যায়?
জুনাইদ আল হাবীব : দেখুন। আমি হেফাজতে ইসলামের একজন কর্মী হিসেবে এই প্রশ্ন আপনি আমাকে করতে পারেন না। এটা রাজনৈতিক প্রশ্ন। রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলন হল রাজনৈতিক আন্দোলন আর হেফাজতে ইসলাম সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি সংগঠন। আমাদের স্ট্যাটেজি হল যখন যে সরকার থাকবে তার মাধ্যমেই আমাদের দাবি আদায় করা। নিজেরা ক্ষমতায় যাওয়া নয়।

রশীদ জামীল : বিশ্বব্যাপী ঝড় তুলল হেফাজত। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে হেফাজত ছিল আলোচনার শীর্ষে। মিশ্র প্রতিক্রিয়াও ছিল। প্রশ্ন হল, আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে, বিশেষত মুসলিম বিশ্বের সাথে হেফাজতের কেনো কোনো রকমের যোগাযোগ করল না?
জুনাইদ আল হাবীব : হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ছিল আমাদের দেশের অভ্যন্তরীন আন্দোলন। এটা ছিল আমাদের ঘরোয়া ব্যাপার। সারাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিল আমাদের সাথে। সুতরাং আমরা এ ব্যাপারে মুসলিম বিশ্বের সাথে যোগাযোগের দরকার মনে করিনি।

রশীদ জামীল : সরকারের সর্ব প্রকার বাধা উপেক্ষা করেই ৬ এপ্রিলের লংমার্চ সফল হয়েছিল। ৬ তারিখের কর্মসূচিতে বাধার সৃষ্টি করার পর জনতার ঢল সরকারকে কাপিয়ে দিয়েছিল। তারপর কেন্দ্র কী করে নিশ্চিত হল শাপলা চত্বরে লক্ষ লক্ষ লোককে আবার নিশ্চিন্তে জড়ো হতে দেবে?
জুনাইদ আল হাবীব : দেখুন, আমরা এদেশেরই নাগরিক। আমাদের অধিকার আছে সভা-সমাবেশ করার। আর আমরা যাবতীয় নিয়ম-নীতি মেনেই সেদিন শাপলায় জড়ো হয়েছিলাম। আর এর আগে কোনো রকমের ঝামেলা ছাড়াই লক্ষ লক্ষ লোকের লংমার্চ সফল করে আমরা প্রমাণ করেছিলাম আমরা শুধু লক্ষ লক্ষ লোককে জড়ো করতেই জানি না, তাদেরকে কন্ট্রোল করতেও জানি।

রশীদ জামীল : ৫ মে তো ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ছিল? সেদিন তাহলে শাপলায় জমায়েতের সিদ্ধান্তটি কার ছিল? আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী আমিরে হেফাজত শাপলায় জমায়েতের পক্ষে ছিলেন না। উনার অসম্মতিতে বা ইমোশনাল ব্ল্যাক-মেইল করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল? এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য জানতে চাই।
জুনাইদ আল হাবীব : এটা ঠিক নয়। আলোচনার ভিত্তিতেই শাপলায় জড়ো হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। আর সেটা আমিরের স্বেচ্ছা সম্মতিতেই হয়েছিল। তাছাড়া আমাদের দেশের আন্দোলনের ট্র্যাডিশন খেয়াল করলে দেখবেন যে কোনো হরতাল, অবরোধ বা মিছিলের পরে একটি সমাপনি সমাবেশ হয়ে থাকে। সে সভায় পরবর্তী কর্মসুচি ঘোষিত হয়। সে অনুযায়ীই আমরা শাপলায় জমায়েতের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

রশীদ জামীল : সারাদিন পল্টন সহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় গাছ কাটা, পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়া ইত্যাদি নাশকতামূলক যে কাজগুলো হচ্ছিল, সেটা কারা করছিলো? আপনি যদি বলেন এগুলোর সাথে হেফাজতের সম্পর্ক নেই তাহলে আমাদের প্রশ্ন আপনারা কেন দায়ীদের চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিলেন না?
জুনাইদ আল হাবীব : আমাদের পরিষ্কার কথা হচ্ছে, এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হেফাজতের কোনো কর্মী করে নাই, হেফাজতের নামেও করা হয় নাই। এগুলো তারাই করেছে যারা ইসলাম ও আল্লাহ বিদ্বেষী। এগুলো তাদেরই কাজ যারা প্রকাশ্যে হেফাজতের আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য সব রকমের অপ-তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।

রশীদ জামীল : তারা কারা? আরেকটু সুনির্দিষ্ট করে কি বলবেন?
জুনাইদ আল হাবীব : ঘটনার পর পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে দোষীদের সনাক্ত করা হবে। আমরা এখনো অপেক্ষা করছি। আমরা অপেক্ষা করছি প্রধানমন্ত্রী তার কথা রাখবেন। একটু সময় করে ভিডিও ফুটেজগুলো নিয়ে বসবেন। দেখবেন। চিনবেন। জাতি জানতে চায় তারা কারা ছিলো? কাদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে লালিত তারা।

রশীদ জামীল : আচ্ছা, আলোচনা করেই যদি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকে শাপলায় গিয়ে জড়ো হওয়া হবে, তাহলে আমাদের জিজ্ঞাসা, হঠাৎ সিদ্ধান্তে এবং অবশ্যই কোনো রকমের আগাম পরিকল্পনা ছাড়া লক্ষ লক্ষ মানুষকে শাপলায় জড়ো করার পর সেখানকার সিচুয়েশন কন্ট্রোলে রাখার ব্যাপারে অথবা সম্ভাব্য এবং প্রায় অবধারিত আঘাত আসলে সেটা থেকে আত্মরক্ষা বা প্রতিরোধের কোনো চিন্তা ভাবনা কি আলোচিত হয়েছিল সেই সভায়, যে সভায় নেয়া হয়েছিল এই সিদ্ধান্ত?
জুনাইদ আল হাবীব : দেখুন, সমাবেশ ব্যবস্থাপনা ও কন্ট্রোল এর যাবতীয় ব্যবস্থাই নেয়া ছিল। কোথাও কোনো ত্র“টি ছিল না। আর আত্মরক্ষার কথা বললেন। সেটা আমরা মোটেও বিবেচনায় রাখিনি কারণ, আমরা তো আর বানের পানিতে ভেসে আসা কেউ নই। আমরা তো এদেশেরই মানুষ। আমাদের কল্পনাতেই ছিল না সরকার এভাবে আমাদেরকে রাতের আধারে নির্বিচারে গুলি করতে পারে! পৃথিবীর ইতিহাসে এমন হামলার কোনো নজির নাই।

রশীদ জামীল : সেদিন রাত ৯ টায় বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া ঢাকাবাসীকে হেফাজতে পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছিলেন। আপনার কী মনে হয়? কেন তিনি এই ঘোষণা দিলেন? আর উনার এই ঘোষণা কি হেফাজতকে রাতের মধ্যেই শাপলা ছাড়া করতে সরকারকে বাধ্য করেছিল বা উসকে দিয়েছিল বলে মনে করেন?
জুনাইদ আল হাবীব : এটা তো জিজ্ঞেস করবেন খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনাকে। খালেদা জিয়া জানেন তিনি কোন উদ্দেশ্যে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন। রাজনীতবিদরা কখন কোন উদ্দেশ্যে কী করেন সেটা তারাই ভাল জানেন। অপরদিকে শেখ হাসিনা ভাল বলতে পারবেন তিনি বেগম জিয়ার এই ঘোষণায় ভিত-সন্ত্রস্ত হয়ে গিয়েই আমাদের উপর হামলে পড়েছিলেন কিনা?

রশীদ জামীল : অনেকেই বলেন হেফাজতের ফ্রন্ট লাইন নেতাদের সাথে বিএনিপি-জামাতের যোগাযোগ ছিল অর্থাৎ তারাই হেফাজতকে মাঠে নামিয়েছিল বা নেপথ্যে থেকে পরিচালনা করছিল। টাকা পয়সার যোগান দিচ্ছিলো বলেও কথা উঠেছে। মন্তব্য করুন।
জুনাইদ আল হাবীব : দেখুন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবং ঢাকা মহানগরীর সদস্য সচিব হিসেবে আপনি সম্ভবত আমাকেও ফ্রন্ট লাইন নেতাদের কাতারে গণ্য করবেন। আমি আপনাকে পরিস্কার ভাষায় বলতে পারি, আমি জুনাইদ আল হাবীবের সাথে বিএনপি-জামাতের কোনো স্থরের কারো সাথেই কোনো প্রকার যোগাযোগ হয়নি। আমার জানামতে হেফাজতের অন্য কোনো নেতার সাথেও কোনো যোগাযোগ হয়নি। এগুলো নিছক অপ-প্রচার ছাড়া আর কিছু নয়।

রশীদ জামীল : সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শাপলায় সমাবেশ করার কথা ছিল। তাহলে রাত্রি যাপনের সিদ্ধান্ত কেন নেয়া হল? এই প্রশ্নের জবাবে আমরা হেফাজতের ফ্রন্ট লাইন অনেক নেতাকেই বলতে শুনি, সারাদিন যেভাবে আমাদের কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছিলো, তাতে রাতের অন্ধকারে আমরা তাদেরকে অনিশ্চিত মৃত্যুর পথে কীভাবে ছেড়ে দিতে পারতাম? আমাদের প্রশ্ন হল, অনিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে মরুওত আর মহব্বত বাধা হয়ে দাঁড়ালো কিন্তু নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ছেড়ে চলে যেতে বিবেক নীরব থাকলো কোন যুক্তিতে?
জুনাইদ আল হাবীব : আমি আগেই বলেছি যে, আমরা কল্পনাও করতে পারিনি আমার দেশের সরকার বা তার বাহিনী এদেশেরই লক্ষ লক্ষ মানুষের উপর এভাবে হামলা করতে পারে। আর সারাদিন যেভাবে রাস্তাঘাটে আমাদের কর্মীদেরকে মেরে লাশ বানানো হচ্ছিল, তাতে শাপলা চত্বরকেই আমাদের কাছে নিরাপদ মনে হয়েছিল। আর কর্মীদের আমরা ফেলে রেখে যাইনি। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সকলেই স্পটে ছিলেন সারা রাত।

রশীদ জামীল : অসংখ্য আলেম-উলামা সেদিন শহীদ এবং জখমী হয়েছেন। কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি না সৌভাগ্যক্রমে বলব নাকি দুর্ভাগ্যক্রমে, আহত-নিহতদের তালিকায় আমরা হেফাজতের কোনো কেন্দ্রীয় নেতার নাম পাইনি। এর থেকে স্পষ্টতই প্রমাণিত হয় তারা কেউই তখন স্পটে ছিলেন না। আমাদের প্রশ্ন হল তারা সবাই কি তখন একত্রে নিরাপদ কোনো স্থানে ছিলেন নাকি যার যার সুবিধা মত স্থানে? আবার কেন্দ্রীয় কোনো নেতা তখন মঞ্চে না থাকা এটাই প্রমাণ করে অবধারিত হামলার ব্যাপারে তারা নিশ্চিত ছিলেন। আমাদের জানতে চাওয়া হল, তাহলে তারা কোন বিবেকে লক্ষ লক্ষ সন্তানদের গুলির মুখে রেখে সটকে পড়লেন? এটা কেমন বাবা সুলভ আচরণ হলো?
জুনাইদ আল হাবীব : আপনাদের এই ধারণা সঠিক নয়। নেতৃবৃন্দ কেউই মাঠ ছেড়ে যাননি। সকল কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ফজরের নামাজ পর্যন্ত শাপলা চত্বরের একশ গজের মধ্যেই ছিলেন। খোদ মহাসচিব স্পটে ছিলেন এবং আহত হয়েছেন। আমি নিজেও তখন সেখানে উপস্থিত ছিলাম। বাতি নিভিয়ে মিডিয়া বন্ধ করে তিন দিক থেকে একই সাথে কমান্ডো স্টাইলে অতর্কিত হামলায় কিং কর্তব্যবিমূঢ় হয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পরষ্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। যে কারণে তাৎক্ষনিকভাবে কিছু করার ছিল না।

রশীদ জামীল : শাপলায় লাশ পড়ল, রক্ত ঝরল কিন্তু শহীদদের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই হেফাজত নীরব হয়ে গেল কেন? কিসের ভয়ে? তাহলে কেন বলা যাবে না হেফাজত নেতাদের কাছে নবীর ইজ্জতের চেয়ে নিজেদের জানের মায়াই বেশি?
জুনাইদ আল হাবীব : হেফাজত নীরব হয়ে যায়নি। হেফাজত তার আপন গতিতেই কাজ করে যাচ্ছে।

রশীদ জামীল : ৬ মে দুপুর বেলা মহাসচিবকে পুলিশের হাওলা করে আপনাদের আমির সাহেব নিরাপদে চিটোগং চলে গেলেন। কী মনে হয় আপনার? সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল? নেতৃত্ব-সুলভ হয়েছিলো?
জুনাইদ আল হাবীব : মুহতারাম আমির মহাসচিবকে পুলিশের হাওলা করে রেখে যাননি। ঢাকায় সাংগঠনিক কাজেই রেখে গিয়েছিলেন। হাজার হাজার কর্মী আহত। অসংখ্য কর্মী নিঁখুজ। তখন মহাসচিবের ঢাকায় থাকা দরকার ছিল। আর যেহেতু আমিরের অবস্থান চট্টগ্রামে, তাই উনার যাওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক।

রশীদ জামীল : একটু ভিন্ন প্রসঙ্গ। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ সাহেব শাহবাগে গিয়ে গণ জাগরণ মঞ্চের সাথে সংহতি জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে তিনি আবার বলেছেন, শাহবাগে গিয়ে তিনি জীবনের সবচে’ বড় নেক কাজ করছেন। মন্তব্য করুন?
জুনাইদ আল হাবীব : এ ব্যাপারে আমি এক কথায় বলব, উনার ইলিম সলব হয়ে গেছে। উনাকে গোমরাহী পেয়ে বসেছে।

রশীদ জামীল : শাপলা ট্রাজেডির পর আজ অবধি হেফাজতের বিভিন্ন কর্মসূচী ডাকা এবং প্রত্যাহার করার হাস্যকর প্রবণতা আমরা দেখে আসছি। হেফাজত কি তবে কিংকর্তব্য-বিমূঢ়? অথবা এমন কোনো চাপে আছে, যে চাপ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না?
জুনাইদ আল হাবীব : মোটেও না। হেফাজত কোনো কর্মসূচী দিয়ে সেটা নিজে থেকে কখনো প্রত্যাহার করেনি। যেগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে সেগুলো করতে দেওয়া হয়নি। সরকার করতে দেয়নি।

রশীদ জামীল : আপনারা যদিও বলেছেন আপনাদের আন্দোলন সরকার বিরোধী আন্দোলন ছিল না কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে ছিল আন্দোলন, তারা তো সরকারেই প্রটেকশনে বা ছত্র-ছায়াতেই ছিল। তাহলে কি আন্দোলনের প্রতি-পাক্ষিক মেরুতেই সরকারের অবস্থান ছিল না? তাহলে কেন বলছেন, আপনাদের আন্দোলন সরকার বিরোধী ছিল না? আর সরকার বিরোধী ছিল বলেই তো সরকার আপনাদের কর্মসূচি পালন করতে বাধা দিয়েছিল?
জুনাইদ আল হাবীব : আমরা বার বার বলেছি কাউকে ক্ষমতা থেকে নামাতে বা কাউকে ক্ষমতায় বসাতে আমাদের আন্দোলন নয়। সুতরাং আমাদের আন্দোলন সরকার বিরোধী আন্দোলন ছিল না। আমরা একবারের জন্যও সরকারকে পদত্যাগের কথা বলিনি বরং সরকারে কাছেই ১৩ দফা দাবি জানিয়েছি।

রশীদ জামীল : আপনি যেভাবেই বলুন, আন্দোলনের প্রতিপক্ষেই ছিল সরকারের অবস্থান। হেফাজত সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল। আর আপনারাও বিভিন্ন সময় বলেছেন, সরকারকে ১৩ দফা মানাতে বাধ্য করা হবে। সরকার যদি আমাদের দাবি না মানে, তাহলে এই সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হবে না। তাহলে?
জুনাইদ আল হাবীব : আমার জানা মতে আমিরে হেফাজত বা মহাসচিব অথবা কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউই ‘দাবি না মানলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হবে না’-এমন কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দেননি। মাঠ পর্যায় থেকে অতি আবেগী কেউ যদি তেমন কথা বলে থাকেন, সেটা হেফাজতের বক্তব্য ছিল না বা হতে পারে না।

রশীদ জামীল : সরকার কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেয়নি মাথায় রেখেই বলছি, ৫ তারিখের পর হেফাজত আর মাঠে নামল না কেন? লংমার্চও তো করতে দিতে চায়নি, শাপলার সমাবেশও না। সেগুলো তো সরকারের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করেই করা হল?
জুনাইদ আল হাবীব : দেখুন, বর্তমান সরকারের দমন নীতি আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভয়ংকর। যেখানে বিএনপি-জামাতের মত রাজনৈতিক সংগঠিত দলগুলো তাদের কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নামতে পারছে না বা নামতে দেয়া হচ্ছে না, সেখানে একটি অরাজনৈতিক দল হিসেবে হেফাজত কী করে মাঠে নামতে পারতো?

রশীদ জামীল : কী করে মানব এ কথা? জামাত-বিএনপি যেখানে ৫০ হাজার লোককে জড়ো করতে হিমশিম খায় সেখানে আপনাদের ডাকে ৫০ লক্ষ লোক জড়ো হয়ে গেল। তাও আবার সকল প্রকার বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে। তাহলে তাদের সাথে আপনাদের অবস্থা মিলাচ্ছেন কেন? আর দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ তো সরকারের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করেই আপনাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল বার বার। জনগণের উপর থেকে আপনাদের আস্থা উঠে যাওয়ার কারণ কি?
জুনাইদ আল হাবীব : আমরা জনগণ থেকে আস্থা হারাইনি কিন্তু তাদের জান-মালের হেফাজতের বিষয়টিও তো আমাদের বিবেচনায় রাখতে হয়েছে।

রশীদ জামীল : ৫ এপ্রিল ২০১৩ লংমার্চের আগে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের অনেককেই আমিরে হেফাজতের কাছে ছুটে যেতে দেখা গেছে। সরকার চেয়েছিল বসে আলোচনা করতে। তখন কেন আলোচনায় রাজি হলেন না কেন?
জুনাইদ আল হাবীব : আমার জানামতে আমাদের দাবির ব্যাপারে বিবেচনার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব সরকার থেকে আসেনি। প্রস্তাব এসেছিল আন্দোলন স্থগিত করার ব্যাপারে।

রশীদ জামীল : হেফাজত কী চেয়েছিলো আর এখন কী চাচ্ছে? একজন সাধারণ মুসলমানের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করতে বললে আপনার চোখে হেফাজতের সফলতা এবং ব্যর্থতাগুলো কি কি?
জুনাইদ আল হাবীব : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এদেশে আল্লাহ, রাসুল, ইসলাম, মসজিদ, মাদরাসা ও আলেম-উলামাদের নিয়ে যে কোনো কুৎসা, ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা ও দারভাঙ্গা জবাব দেয়ার জন্য সৃষ্টি হয়েছিল। হেফাজত তার লক্ষে স্থির আছে এবং সেভাবেই কাজ করে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

রশীদ জামীল : আপনারা বার বার বলেছেন যদিও, কাউকে ক্ষমতা থেকে নামাতে বা কাউকে ওঠাতে হেফাজতের আন্দোলন নয় কিন্তু অনেকেই মনে করেন শেষ মুহূর্তে জামাত বিএনপি হেফাজতের ঘাড়ে চড়ে ক্ষমতায় যেতে চাইছিলো। বাস্তবতার আলোকে মন্তব্য করুন, প্লিজ?
জুনাইদ আল হাবীব : এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। হেফাজত কারো জন্য ব্যবহৃত হয়নি। সেই সুযোগও কাউকে দেয়নি।

রশীদ জামীল : তখন কোটি কোটি টাকার লেনদেন হওয়ার খবর চাউর হয়েছিল। এর সত্যতা কতটুকু? আর এতো বিশাল দু’টি কর্মসূচি সফল করতে নিশ্চয় অনেক টাকার প্রয়োজন হয়েছে। টাকার যোগান আসলো কোথ্যেকে?
জুনাইদ আল হাবীব : এগুলো সম্পূর্ণই অপ-প্রচার। হেফাজতের এতো বড় আন্দোলন করতে আমাদেরকে আলাদা করে টাকার জন্য ভাবতেই হয়নি। যেখানে যেখানে প্রোগ্রাম হয়েছে, সেখানে মুসলমানরা লোকালি স্বেচ্ছা অনুদানের মাধ্যমেই সেগুলো করেছে। সারা দেশে কেন্দ্র থেকে কোনো টাকা পয়সা দিতে হয়নি। আর কেন্দ্র যে দু-তিনটি বড় প্রোগ্রাম করেছে, সেগুলোও কর্মীদের অনুদান এবং মুসলমানদের স্বেচ্ছা দানের মাধ্যমেই হয়েছে। আমি আপনাকে একটি তথ্য দেই। ৫ তারিখে যে অবরোধ হল, ৬ টি স্পটে। সেখানের কোনো একটিতেও আমাদের তরফ থেকে একটি মাইক পর্যন্ত দিতে হয়নি। লোকাল মুসলমানরাই সেগুলোর ইন্তেজাম করেছিল। সুতরাং কোটি টাকা লেনদেনের সংবাদ অলীক ও অবাস্তব।

রশীদ জামীল : হেফাজতকে দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর অর্থ সহায়তা দিয়েছে মুসলমানরা। কেন্দ্রের অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ দায়িত্বশীল হিসেবে আপনার জানার কথা টাকার পরিমাণ কত? আর যদি জানা নাই বলেন, তাহলে মানুষ কেন ভাবতে পারবে না হেফাজত চলেছে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে, ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মত?
জুনাইদ আল হাবীব : চট্টগ্রামে আমাদের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদকের কাছে জমা-খরচের সম্পূর্ণ হিসাব আছে। সামান্য যে টাকা কেন্দ্রে জমা হয়েছে, সেগুলো কেন্দ্রের মশওয়ারার ভিত্তিতেই খরচ করা হয়েছে।

রশীদ জামীল : তাহলে এখন পর্যন্ত আমরা কেন্দ্র থেকে আয়-ব্যয় এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান জানতে পাইনা কেনো। আমাদের প্রশ্ন হল, হিসাবে স্বচ্ছতা থাকলে প্রকাশে সমস্যা কোথায়? যেহেতু এটা নিয়ে কথা উঠেছে?
জুনাইদ আল হাবীব : আমি তো আগেই বললাম সম্পূর্ণ হিসাব আছে। কেন্দ্র যথাসময়ে প্রয়োজন হলে অবশ্যই হিসাব প্রকাশ করবে। কোনো সমস্যা নাই।

রশীদ জামীল : আপনি কেন্দ্রের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীরও অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ পদে অর্থাৎ সদস্য সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। ঢাকায় আপনাদের কাছেও অনেক টাকা জমা হয়েছে দেশ-বিদেশ থেকে। আপনার কাছে আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রশ্নটি হল, ঢাকায় হেফাজতের তহবিলে জমা হওয়া টাকার মোট পরিমাণ কত? সেই টাকা ব্যয় এর খাত কি?
জুনাইদ আল হাবীব : আমাদের ঢাকা মহানগরের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমাদের কাছে ঢাকা ও তার আশেপাশের মাদরাসাগুলো থেকে আসা সকল টাকা-পয়সা আমাদের আহবায়ক এর কাছে জমা হয়। উনার কাছে সকল হিসাব লিপিবদ্ধ আছে, হিসাব জন সমক্ষে প্রকাশ করার বিষয় নয় তবে যে কেউ দেখতে চাইলে যে কোনো সময় গিয়ে দেখতে পারেন, কোনো বাধা নাই।
হেফাজত ট্রাজেডির পর আমি ইংল্যান্ড সফর কালে সেখানে কিছু লোক হেফাজতের আন্দোলনে আহত-নিহতদের সাহায্যে কিছু অনুদান দিয়েছিলেন। যার কিছু সরাসরি কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছেন তারা। আমার কাছে আসা যতসামান্য টাকা জমা হয়েছিল। আমি আমার ঢাকা মহা নগরীর আহবায়কের কাছে লিখিতভাবে হিসাব জমা দিয়েছি।

রশীদ জামীল : সেদিনের ট্র্যাজেডিতে ঠিক কত লোককে হত্যা করা হয়েছে, সেটার সঠিক পরিসংখ্যান কি আপনাদের কাছে আছে? না থাকলে নেই কেন আর থাকলে প্রকাশ করতে সমস্যা কী?
জুনাইদ আল হাবীব : অবশ্যই আমাদের কাছে পরিসংখ্যান আছে। সময় মত প্রকাশ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

রশীদ জামীল : ইন্ডিভিজুয়ালি কে কী করেছেন, সে কথা আমরা জানতে চাইছি না। আমাদের প্রশ্ন হল কেন্দ্রীয় হেফাজতের কাছে। আহতদের সু-চিকিৎসার ব্যাপারে আমাদের জানামতে কেন্দ্র কোনো ভূমিকাই রাখেনি, কেন?
জুনাইদ আল হাবীব : এটা ঠিক না। আহতদের যে যেখানে আছে খবর পেয়েছি, আমরা তার চিকিৎসার ব্যাপারে সহায়তা দিতে চেষ্টা করেছি। নিহতদের পরিবারকেও সহায়তা করা হয়েছে। এমন কি শাহরিয়ার কবিররা যাদেরকে ধরে এনে ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছিলো আর বলছিল, হেফাজত এদের কোনো খোজ-খবর নেয় না সেই তাদেরকেও ১০ হাজার নয়, আরো বেশি অনুদান দেয়া ছিল আগে থেকেই।

রশীদ জামীল : যত লোককে এ কারণে গ্রেফতার করা হল, তাদের ব্যাপারে হেফাজতকে সাংগঠনিক-ভাবে আমরা কোনো ভূমিকা পালন করতে দেখিনি? কারণ কি? কর্মীদের দায় না নিলে কেমন নেতৃত্ব সেটা?
জুনাইদ আল হাবীব : যথাযথ খবর নেয়া হচ্ছে। সব রকমের আইনি সহায়তাও দেয়া হচ্ছে।

রশীদ জামীল : তখন বলা হতো নাস্তিকদের দোসরদের সাথে কোন আলোচনা নেই। এখন তাদের সাথে আলোচনা হয় কী করে? এ সম্পর্কে আপনার মতামত কি?
জুনাইদ আল হাবীব : এখন কোনো আলোচনা হচ্ছে বলেও তো আমার জানা নাই। আমিরে হেফাজতের সাথে যে কেউ দেখা করতেই পারেন। সেটাকে আলোচনা বলার সুযোগ কোথায়?

রশীদ জামীল : এবার ব্যক্তিগত একটি প্রশ্ন করি। আপনার ব্যাপারে অভিযোগ হল, আপনি ৫ তারিখ রাতেই লক্ষ লক্ষ মানুষকে গুলির মুখে রেখে রাতের আধারে দেশ ছেড়ে বিলেত পাড়ি জমিয়েছিলেন। কথা কি সত্যি? যদি সত্যি হয় তাহলে সেটা কি একজন আদর্শ নেতার জন্য সঠিক কাজ হয়েছিলো? আর যদি এটা মিথ্যা হয়ে থাকে, তাহলে সত্যটা কি? আর সেটার পক্ষে প্রমাণ কি?
জুনাইদ আল হাবীব : দেখুন ৬ তারিখের পর আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেককেই বাধ্যতামূলক আত্ম গোপনে থাকতে হয়েছে। সময়ের তাকাযা ছিল সেটাই। আর আন্দোলনের আবহমান কালের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে এটাই সাভাবিক। আমরা তখন বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে যাই। সিদ্ধান্ত হয় নিজেদেরকে গ্রেফতার এড়িয়ে সংগঠিত হতে হবে আবার।
অন্যদিকে কেন্দ্র তখন সময়ের প্রয়োজনেই হেফাজতে ইসলাম মাঠের কর্মসুচি থেকে বিরত থাকছিল। এদিকে ৬ তারিখ রাত ১২ টায় আমার জামেয়া কাসেমিয়া আশরাফুল উলুম মাদরাসায় পুলিশ গিয়ে হানা দেয় এবং মাদরাসার নাজিমে তা’লিমাতসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। একই সাথে আমার বাসা ঘেরাও করেও তল্লাসি চলতে থাকে এবং আমার অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। তারপর আমি সিদ্ধান্ত নেই দেশের বাইরে কিছুদিন অবস্থান করে পরিস্থিতি বিচার করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার।

রশীদ জামীল : বুঝলাম তখনকার অবস্থার চাহিদা ছিল কিছুদিন আত্ম গোপন করে থাকা। কিন্তু আপনি তো ৫ তারিখ রাতেই বিদেশ পাড়ি জমালেন! কেমনে কি? তাহলে আমরা কেনো বলতে পারব না ভিসা-টিকেট আগেই কনফার্ম করে রাখা ছিল!
জুনাইদ আল হাবীব : আমি ৫ তারিখ দেশ থেকে বের হইনি। আমি ৮ তারিখ রাত ৯টায় এমিরাত এয়ারলাইন্স যোগে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। ৮ তারিখ রাত ৯ টা পর্যন্ত কোথায় কার বাসায় বা বাড়িতে ছিলাম, সঙ্গত কারণেই সেটা পাবলিকলি বলতে চাই না।
রশীদ জামীল : আগেই বলেছি কিছু মনে করতে পারবেন না আজ। মানুষ তো এই ব্যাপারটিকে সন্দেহের নজরে দেখছে। আপনি যে ৮ তারিখেই দেশ ছেড়েছিলেন, সেটাই-বা মানুষ বিশ্বাস করবে কেনো? কিছু মনে না করলে আমরা কি আপনার পাসপোর্টে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে বের হবার তারিখ মানে ডিপার্চার সিল এবং হিথ্রোতে এ্যারাইবল সিলযুক্ত পেইজগুলোর ফটোকপি পেতে পারি?
জুনাইদ আল হাবীব : আমি কাল-পরশুর মধ্যে (২০১৪ সালের জুলাই) আপনাদেরকে ফটোকপি পৌঁছে দেব।

রশীদ জামীল : আচ্ছা ঠিকাছে। সম্প্রতি হেফাজতের সাথে সরকারে একটা আপোষের কথা জোরালোভাবেই বাজারে আছে। আর সেটার আলামত হেফাজত নেতৃবৃন্দের কথা ও কাজে প্রমাণ মিলছে? মন্তব্য করুন।
জুনাইদ আল হাবীব : তেমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। আর তেমন কিছু হয়ে থাকলে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল হিসেবে আমার জানার কথা ছিল।

রশীদ জামীল : মানলাম এটাও, আপনি যেভাবে বললেন, সেভাবেই পাঠককে জানানো হবে। বিশ্বাস করা না করা তাদের ব্যাপার। আচ্ছা হেফাজতের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
জুনাইদ আল হাবীব : আল্লাহ ও রাসুলের ইজ্জত রক্ষা, মসজিদ মাদরাসা, আলেম-উলামা ও দ্বীনের হেফাজতে কাজ করে যাওয়া।

রশীদ জামীল : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সময় দেয়ার জন্য।
জুনাইদ আল হাবীব : আপনাকেও ধন্যবাদ। সমীক্ষার মাধ্যমে দেশবাসীকেও ধন্যবাদ।

(উৎস. সমীক্ষার সাথে সাক্ষাতকার, জুলাই ২০১৪)

Comment

Share.

1 Comment

  1. mahmud hasan on

    বাটপারের বাটপারি উত্তর,
    এসব উত্তর তিনি আল্লাহর সামনে দিতে পারবেন…?
    পাসপুর্টের ফটোকপি পেয়েছিলেন কি…?

Leave A Reply