জাগ্রত রহিমা

0

মুতীউল মুরসালীন ::

সবাই ঘুমিয়ে পড়ছে। ঝিঁঝি পোকারাও এখন ক্লান্ত। জানাযার নীরবতা পালন করছে পৃথিবী। মনের পর্দায় বারবার হামলে পড়ছে তুরাব আলীর দানবীয় চোখ-মুখ। হৃদপিণ্ডে প্রলয়াঘাত করছে তার পাশবিক হাত-পা। বারবার শুধু পানি পান করছে। তবুও শুকিয়ে যাচ্ছে রহিমার ঠোঁটমুখ। রুবির বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো আজ এমনটা হতো না। তার অটো চালানোর টাকা দিয়ে নিশ্চিন্তেই রুবিকে বরের হাতে দিতো পারতো। জেনেবোঝে কেউ সাপের গর্তে হাত দেয় না। কিন্তু রহিমা দিয়েছে। কেবল মেয়েটির সুখস্বপ্নে। আজ বিকেলে তুরাব আল্টিমেটাম দিয়ে গেছে। কাল দশটার আগে ধান কিংবা টাকা না দিলে তাকে…।

তুরাব যা বলে তাই করতে পারে। কেউ বাধা দেবে না। কারণ এ বাড়ির সবাই লেনদেনে তার কাছে জিম্মী। সেদিন সবার সামনে সাদা চুলঅলা জলিল মিয়ার দাড়ি ধরে জুতাপেটা দিছে। গ্লাসের পর গ্লাস পানি ভেতর ঢালছে‌। সকাল দশটার আগে ধান কিংবা ঋণের ঐ বিশ হাজার টাকা ফেরত না দিতে পারলে তুরাব তার সাথে…। কাপড় দিয়ে শরীরের ঘাম মোছে ছোট মেয়েটির পাশে বসে। ভাবতে থাকে ওদের বাবার কথা। আহ! বেচারা যদি আজ বেঁচে থাকতো!

… ভাবতে ভাবতে সহসা মনে পড়ে বিগত জীবনের বিস্ময়কর এক ঘটনা।

তড়িগড়ি ওযু করে দাঁড়িয়ে যায় দরবারে খোদার। এক রাকাত দুরাকাত এভাবে কয়কে রাকাত নামায পড়ে। চোখের ঝরণানাধারাকে বাঁধহীন করে আকাশের দিকে হাত তোলে ঘুমন্ত পৃথিবীর জাগ্রত রহিমা। রহিমার বিশ্বাসের পাঁজর খুবই দৃঢ়। তার বিশ্বাস- সেদিনের মতো আজও একটা কিছু হবে। খোদার তরফ থেকে কোনো না কোনো সাহায্য আসবে।
রাত প্রায় শেষের দিকে ।আকাশময় ছড়িয়ে পড়ছে সুবহে কাযিবের আভা। উঠোনে মৃদু বাতাস বইছে। নির্ঘুম রাতের ক্লান্তি দূর করতে বাইরে বেরোতেই দেখে খোদায়ী মদদ! মাসখানিক আগে তার হারিয়ে গরুটি উঠোনের এক কোণে খাড়া!
লেখক: শিক্ষার্থী জামেয়া রেঙ্গা,সিলেট

Comment

Share.

Leave A Reply