ইন্টারভিউ

0

মুত্বীউল মুরসালীন ::

নিঃছিদ্র আঁধারে তলিয়ে গেছে পৃথিবী। সুখগুলো হারিয়ে গেছে বিভৎস এই শূন্যতায়। শুকিয়ে গেছে জীবন-নদীর পানি। বেঁচে থাকার স্বপ্ন-সম্ভাবনা কোনোটাই নেই রহিমা বেগমের।
আজ এক মাস বিছানার সাথে তার অযাচিত সখ্যতা। প্রয়োজনের সবকাজ সারছেন এই এখানেই। দেয়ালে রাখা মরহুম স্বমীর ছবিতে চোখ বিদ্ধ করে দিনে-রাতে একবার দুবার কখনও ভেতর শুকিয়ে এলে কয়েকবারও কাঁদেন তিনি। মেয়ের শত আবেদনে তবুও না সূচক মাথা নাড়ছেন।
মৃত্যুমুখী মা’ কেন তাকে ইন্টারভি দিতে বাধা দিচ্ছে?
— রুহির ভাবশক্তি কাজ করছে না।
একটা চাকুরী পেলেই তো তাদের জীবনে আলোর বিচ্ছুরণ হতো। আধুনিক চিকিৎসাকল্যাণে আজকাল তো সব রোগই নিরাময় হয়।
তবুও কেন?
নাহ!
এবার বেচারির অগোচরে একটা কিছু করতে হবে। মিথ্যের আশ্রয় নিল রুহি। চাকুরীটা হয়ে গেলে আরও একটা মিথ্যে বলে রেগুলার অফিস করা যাবে।
দুই.
ভোরের আলোতে আজ শুভ্রতা নেই—পাখিদের কণ্ঠে মৌনতা। শিশিরের মতো এক্ষুণি ঝরে পড়বে ফুলগুলো। রুহি বিষ গলধঃকরণের আগে পৃথিবীকে এই কবিতা উপহার দেয়— অসুস্থ মায়ের নিষেধটা এতোই কঠোর ছিলো?
পৃথিবী তুমি আমায় শোধালে না!
ইন্টারভির নামে সম্ভ্রম কেড়ে নিলো— মানবমুখোশধারী এই হায়েনা!

Comment

Share.

Leave A Reply