প্রেমপ্রলেপ!

0

আহমাদ হাবীব শাকির ::

রিয়ান চিরকুট লিখে হাসানকে, -‘আজ থেকে তুমি আমার বন্ধু, তোমাকেই জনম জনম আগলে রাখবো হৃদয়ে।’ রিয়ান। হাসানের সহপাঠী, পড়ালেখার, খেলাধুলার।

রিয়ান ভব্য ছেলে। লেখাপড়ায়ও এ্যানাফ ট্যালেন্ট। ঈষৎ দুষ্টুমি করলেও আদব-আখলাকে তার মতো ছেলে নেহাতই কম। অবাক যতোসব কবিতা রচনা করে বাঘা বাঘা সাহিত্যিকদের তাজ্জব করে দেয়ার অগুনতি রেকর্ড আছে রিয়ানের। মাশাল্লা, সবসাইটেই দক্ষতা তার সমানে সমান। বলা চলে অলরাউন্ডার।

রিয়ান বয়েসে বড় হয় হাসানের। তারও খুব শখ রিয়ানের মতো হবার। সে তাকে অকৃত্রিম মান্য করে। হাসান এখনো বেশ ছোট। বোঝে না ‘বন্ধু’ কী। কিন্তু তবুও রিয়ান বলে কথা। তার পছন্দের মানুষ বলে কথা। হোক না সেটা আগাছা, যাই বলুক- ওটাই রাইট। হাসান রিয়ানের কথা উপেক্ষা করতে পারে না। প্রত্যুত্তরে লিখে- ‘একসেপ্ট….’। রিয়ান খুশি হয়। হাসানেরও সে কী খুশি!

আজ সমাপনীপরিক্ষা শেষ হলো হাসানদের। তারা যার যার বাড়িতে চলে যাবে। সেই সাত-সকাল থেকে কেমন কেমন যেনো লাগছে হাসানের। বন্ধুকে ছেড়ে ক্ষীণক্ষণের জন্যেও দূরে যেতে তার মন মানছে না। বিক্ষিপ্ত ভাবনা তার সরল হৃদয়টাকে ক্ষত-বিক্ষত করছে।

হাসানদের গাড়ি ইশকুলগ্যাটে ব্র্যাক করেছে। বেশুমার হর্ণ বাজাচ্ছে। হর্ণের ধ্বনি যেনো বলছে, ‘হাসান, তাত্তাড়ি চলে এসো!’

হাসান বিদায় নিতে আসে রিয়ানের কাছে। রিয়ান জড়িয়ে ধরে হাসানকে। তার চোখ বেয়ে একফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে হাসানের মুখে। হাসান রিয়ানকে আরো জোরে বুকের সঙ্গে চেপে ধরে। রিয়ানের চোখ থেকে অঝোরধারা বয়ে যায়। কেঁদে চলে। থামে না। যেনো থামতে চায় না। হাসানও কাঁদে। ওকবহীন-মৌনকান্না। ফুঁপিয়ে কান্না।

হাসান গাড়ির দিকে পদপ্রসারিত করে। রিয়ান অশ্রুল চোখে পলকহীন তাকিয়ে থাকে! স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে কতো মান-অভিমান, রাগ-অনুরাগ আর স্বপ্নীলমুহূর্তের সুখ-শোকদৃশ্য! রিয়ান ভাবতে থাকে। কতো কথা, কতো কী! যেনো কূল-কিনারা নেই! একসময় হাসানদের গাড়ি অদৃশ্য হয়ে যায়। রিয়ান সামনের দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

Comment

Share.

Leave A Reply