কুরবানি সংক্রান্ত কয়েকটি মাসআলা

0
মুফতী জিয়াউর রহমান ::

১. কয়েক ভাই মিলে ব্যবসা করছেন৷ এমতাবস্থায় দোকানের সমষ্টিগত পণ্যের উপর ভিত্তি করে কুরবানি ওয়াজিব হবে না৷ বরং প্রত্যেকের অংশ হিসাব করলে যদি সবাই আলাদা আলাদা নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হয়ে যান, তখন সবার উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে৷

২. গরীব লোক৷ কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় কুরবানি করার খুব শখ৷ সারাবছর একটু একটু করে টাকা জমিয়ে একটি গরু বা ছাগল খরিদ করে কুরবানির জন্যে বেঁধে রাখলেন৷ দুঃখজনকভাবে সেই পশুটি চুরি হয়ে গেলো কিংবা হারিয়ে গেলো৷ এমতাবস্থায় ওই গরীব লোকটির উপর আর কোনো কিছু ওয়াজিব হবে না৷ চুরি হয়ে গেলেও আশা করা যায় গরীব লোকটি কুরবানির সওয়াব পাবে৷

তবে ধনী এবং সামর্থ্যবান হলে আরেকটি পশু খরিদ করে কুরবানি করতে হবে৷ (বাদায়েউস সানায়ে’: ৫/৬৬)

৩. এক ব্যক্তির উপর কুরবানি ওয়াজিব৷ কিন্তু ওই ব্যক্তি নিজ পক্ষ থেকে কুরবানি না দিয়ে নিজের মৃত বাবা বা মা’র পক্ষ থেকে কুরবানি দিয়ে দিলেন৷ বর্ণিত পদ্ধতিতে নিজের পক্ষ থেকে কুরবানি না দিলেও তার ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে এবং মৃত ব্যক্তি সওয়াবও পেয়ে যাবেন৷ (শামী: ৯/৪৮৪)

৪. অমুসলিমদেরকেও কুরবানি ও আকীকার গোশত দেয়া জায়েয আছে৷ ক্ষেত্রবিশেষে এরকম দেয়া উত্তমও বটে৷ (আলমগীরী: ৫/৩০০)

৫. কুরবানিদাতা অনেকেই চামড়া বিক্রি করার মতো কাজে জড়িয়ে পড়েন৷ অথচ কুরবানির গোশত বিক্রি করা যেমন ঠিক নয়, তদ্রূপ চামড়া বিক্রি করাও ঠিক নয়৷ কেউ যদি বিক্রি করেই ফেলে, সঙ্গে সঙ্গে সাদাকা করে দেয়া জরুরি৷ কসাইয়ের মজুরি দেয়া তো কোনোভাবেই জায়েয নয়৷

৬. কোনো এলাকার মানুষ দুর্যোগগ্রস্ত, অসহায় ও চরম অভাবে ভুগছে, এই অবস্থায় নফল কুরবানিদাতা কুরবানি না করে সেখানে অর্থসহায়তা পাঠানো উচিত৷ তবে যাদের উপর কুরবানি ওয়াজিব, তারা অবশ্যই কুরবানি করবে৷ এক্ষেত্রে অর্থসহায়তা কুরবানির স্থলাভিষিক্ত হবে না৷
দারুল উলূম দেওবন্দের মুফতি কেফায়াতুল্লাহ রাহ, লেখেন- কেউ নফল কুরবানি করবে, এমতাবস্থায় জন্তু কুরবানি না করে তার মূল্য অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দেয়া উত্তম৷ (কেফায়াতুল মুফতি: ৮/২০৭)

Comment

Share.

Leave A Reply