আবাসিক মাদরাসা ও শাস্তির ধরণঃ এ যুগে যেভাবে চাই

0

মাহবুবুর রহমান তালুকদার :

“হুজুর এই নেন আমার পোলারে দিলাম আপনার হাতে। আমারে খালি হাড্ডি পাঠাইলেই চলবে।” বাচ্চাকে মাদরাসায় দেয়ার সময় এরকমই বলতেন আমাদের অগ্রজ মুরুব্বিরা ।

হুজুররা ছিলেন খুবই রাগী। পান থেকে চুন খসলেই চলত বেতের সপাং সপাং বাড়ি।

কিন্তু তারা ছিলেন নীতিবান। হক কথা বলতে ভয় পেতেন না। কাউকে তোষামুদি তো করতেনই না। কেউ উল্টা পাল্টা কিছু বললে পরদিন নিজে থেকে এসেই মাফ চেয়ে নিত।

এ রকমই ছিলেন আমাদের আকাবির আসাতিজাহ।

কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় নীতিবান শিক্ষকের সংখ্যা কমে এসেছে। ধান্ধাবাজ মুদাররিসের সংখ্যা আগে ছিল নগণ্য; এখন অনেকটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক।

আরো একটা পরিবর্তন এসেছে। আগে শিক্ষকরা ছাত্র পেটালে গার্জিয়ানরা ছাত্রকেই দুষতেন। তারা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ নিয়ে অভিযোগ করা পছন্দ করতেন না। পাল্টা তাদের নিজের বাচ্চাকেই অভিযুক্ত করতেন। সান্ত্বনা দেয়ার জন্য মিছামিছি বলতেন, উস্তাদের আঘাতের স্থানটুকু বেহেশ্তে যাবে। এখন যুগ পাল্টেছে। সরকারি নিয়মেও বলা হয়েছে, শিশুদেরকে শারীরিক শাস্তি প্রদান করা অবৈধ।

শারিরীক শাস্তির অবৈধতার এ যুগে যখন নীতিহীন শিক্ষকের সংখ্যাও বেড়ে চলছে, নিশ্চয়ই আমাদের সবাইকে এ নিয়ে ভাবতে হবে।
সব আবাসিক স্কুল মাদরাসায় সিসিটিভি লাগানো হোক।
আধুনিক যুগ চাহিদাকে কেউ অগ্রাহ্য করতে পারবে বলে হয় না। শিক্ষকদেরকে ইন্টেন্সিভ টিচার্স ট্রেইনিং দেয়া হোক। শারিরীকভাবে আঘাত ছাড়াও যে শাস্তি দেয়া যায়- অনেকেই তা জানেন না। বাচ্চাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার সেসব পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হোক।
এই যুগে এসেও কেউ যদি ছাত্রদেরকে খাদিম বানিয়ে কাপড়-চোপড় ধোয়া থেকে নিয়ে উস্তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় সব কাজ করান- তা মানা যায় না। অবশ্য কোন ছাত্র যদি স্বেচ্ছায় মাঝে মাঝে করে দেয়- তা ভিন্ন কথা। এসব খাদিম খুদ্দামগিরি একদম বন্ধ করে দেয়া হোক। হুজুরদের প্রাইভেট রুমে যে কোন ছাত্রের আসা যাওয়া বন্ধ করে দেয়া হোক। স্পেশালি বাচ্চাদের প্রতিষ্টানে।

Comment

Share.

Leave A Reply