রাখাইনের সহিংসতা কি তবে সুপরিকল্পিত?

0

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মায়ানমারের পূর্বাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা থেকে বাঁচতে ৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আগমন চরম মানবিক সঙ্কটের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা করে এটিকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিহিত করেছে।

‘গ্লোবাল উইটনেস’ এর একটি রিপোর্ট বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক সম্পদ শোষণ, বিশেষত দেশটির বিলিয়ন ডলারের ‘জেডে বা নেফ্রাইট’ ব্যবসার জন্য অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে দেশটিতে ধর্মীয় ও জাতিগত উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছে।

জেডে হচ্ছে এক ধরনের সবুজ পাথর। যেটি দিয়ে দামী অলঙ্কার তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়। মায়ানমারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং শ্রেষ্ঠ মানের জেডে’র রিজার্ভ রয়েছে।

গ্লোবাল উইটনেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে দেশটির জেড শিল্প থেকে ৩১ বিলিয়ন ডলার আয় করে। যেটি মায়ানমারের জিডিপির প্রায় অর্ধেক। তবে বিশাল এই অর্থের সামান্য একটি অংশও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেনি।

মূল্যবান এই সেক্টরটি দেশটির সামরিক অভিজাতদের গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় বলে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়।

মায়ানমারে প্রায় ১০০টির মতো বড় খনি কোম্পানি রয়েছে। এগুলো মাত্র ১০ থেকে ১৫ মালিক কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। লোভনীয় ব্যবসার এসব খনি সাবেক ও বর্তমান সরকার এবং সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে।

‘মায়ানমারের জেডে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা ব্যাপক দুর্নীতির জন্য জন্য বিখ্যাত। এই লাইসেন্সের অনুমতি দেয়া হয় সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকা কাচিন রাজ্যের পাকান্ট শহর থেকে।

এসব পাথরের বেশিরভাগই সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশি চীনে চোরাচালান করা হয়ে থাকে। চীনা সরকার আমদানির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে মায়ানমার থেকে ১২.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই পাথর আমদানি করা হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা, আরটিএনএন

Comment

Share.

Leave A Reply