কলেজ-ভার্সিটি পড়ুয়া তাবলীগি ভাইদের উদ্দেশ্যে…

1

মুহাম্মদ মসীহ উল্লাহ ::

প্রিয় ভাই!
গতকাল আলোচনা করছিলাম মেহনতের মাধ্যমে নিজের তরক্কী অনুভূত না হওয়ার কারন প্রসংগে। বলছিলাম, অনেক সময় আল্লাহ তায়ালাই আমাদের হেফাজতের জন্য তরক্কীর উপর পর্দা ঢেলে দেন। তরক্কী অনুভূত না হওয়ার দ্বিতীয় কারণ হলো, একজন সাথী যখন প্রথম কাজে লাগে, সে তো একপ্রকার শুন্য থেকে শুরু করে। আগে নামাজ পড়া হতো না, এখন নামাজ পড়া হয়। আগে দাঁড়ি ছিল না, এখন মা শা আল্লাহ সুন্দর দাঁড়ি এসেছে। আগে গুনাহকে গুনাহই মনে হতো না, এখন মা শা আল্লাহ গুনাহ থেকে বাঁচার তৌফীক হয়। তো, প্রথম দিকের আগে বাড়া ছিলো এমন যেমন একটা খালি গ্লাসে পানি ভরতে থাকা। এটা তো একদম স্পষ্ট দেখা যায়, গ্লাসে ধীরে ধীরে পানি বাড়ছে।কিন্তু যখন সাথী মা শা আল্লাহ মোটামুটি আমলের একটা স্ট্র্যাকচারের উপর উঠে গেছে।

এরপর আগে বাড়ার যে স্টেজ শুরু হয়, সেটি হলো গুনগত দিক দিয়ে আগে বাড়া। যেমন কিনা গ্লাসভর্তি পানিকে চিনি মিশিয়ে শরবত বানানো। তো স্বাভাবিক ভাবেই পানি যে শরবতে পরিণত হচ্ছে তা তো বাহির থেকে দেখা যায় না। ঠিক এমনই গুনগত আগে বাড়াটা বাহির হতে অনুভূত হয় না। আগে ছিল কেবল নামাজী হওয়ার মেহনত, যা অনেকটা অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আসার মতো। এখন হচ্ছে নামাজে খুশুখুযু পয়দা করার মেহনত। আগে ছিল আমল বাড়ানোর মেহনত, এখন চলছে আমলে ইখলাস আনার মেহনত। তো স্বাভাবিক ভাবেই গুনগত তরক্কী যেটি, সেটি হতে সময় লাগে। আর বাস্তব কথা হচ্ছে, প্রথম স্টেজে উঠার জন্য যে পরিমাণ কোরবানি লাগে, দ্বিতীয় স্টেজে আগে বাড়ার জন্য আরও বেশি কোরবানি করতে হয়। আর এটিই সাধারণত বেশি হয়, কোরবানি আগের চেয়ে কমে গেছে। মেহনত অনেকটা আদত বনে গেছে। প্রথমদিকে নানাজন নানা কথা বলতো, ফলে দিলে আঘাত লাগতো, এখন মানুষও আগের মতো কথার ছোবল হানে না। সর্বদিক দিয়ে কোরবানি কমে আসে। ফলে কোরবানি না বাড়ার কারনে অগ্রগতি ধীর হয়ে পড়ে। যেটাকে তুমি ভাবতে থাক, কই মেহনতের দ্বারা আর তো ইসলাহ হচ্ছে না। বাস্তবে কিন্তু এখনও আগে বাড়ছো, কিন্তু অনুভব হচ্ছে না।

আর একটা বিষয়, কেবল মেহনত এবং কুরবানিই সব নয়। বরং মেহনত হতে হবে সিলেবাস অনুযায়ী। যে কোনভাবে মেহনত করলেই কি ডাক্তার হয়ে যায়? না। বরং সিলেবাস সঠিক হতে হয়। সিলেবাস বুঝে মেহনত, আর না বুঝে মেহনতের মধ্যে আসমান-জমিন পার্থক্য। মেহনতের সিলেবাস যদি তুমি বুঝতে চাও, তোমাকে আরেকটু কষ্ট করতে হবে। হজরতজী ইলিয়াস রহঃ ও তাঁর দ্বীনি দাওয়াত কিতাবটি একটু পড়ে নাও। সিলেবাসের কিছুটা তুমি বুঝতে পারবে। আর তোমার দ্বীনি মুরুব্বী তো আছেনই, যিনি একজন আলিমে রব্বানী।

খবরদার, আলিম ওলামা ও আল্লাহওয়ালাদের সোহবতের সাথে ইলম ও আমালের মেহনত করে নি, কেবল মেহনত করেই মুরুব্বী হয়ে গেছে, এমন কাউকে কখনই পরামর্শদাতা বানাবে না। (আমার এই বাক্যটি একটু তিক্ত, বাস্তবতার কারণে কষ্ট হলেও হজম করতে হবে, আর এতেই মঙ্গল) ব্যতিক্রমও পাওয়া যায়, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনই করা চাই, অনেক বিষয় সুক্ষ্ম হয়ে থাকে, ইলম ছাড়া বুঝা মুশকিল। আর আলিমও দুনিয়াদার হলে চলবে না। বিষয়টি বেশ কঠিন এবং নাজুক।

তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।মেহনত করতে পারা, আমলের উপর টিকে থাকতে পারা এটিও এক ধরনের তরক্কী।
চলবে…

Comment

Share.

১ Comment

Leave A Reply