আসুন! দেশের শীর্ষ আলেমদের সম্মান বজায় রাখতে সচেষ্ট হই

0

সৈয়দ আনোয়ার আব্দুল্লাহ ::

দেশের শীর্ষ আলেম ও কাকরাইলের আহলে শুরার একান্ত আগ্রহে, সর্বসম্মতিক্রমে এবং শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি দা.বা.’র অনুমতিক্রমে শীর্ষ ৫জন বুযুর্গ আলেম তাবলীগের চলমান সংকট নিরসনে কাকরাইলের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছেন। এই পাঁচজন দেশের সকল আলেমদের পক্ষ থেকে তাবলীগের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কাজ করবেন। পরামর্শ, মতামত ও সিদ্ধান্তে পৌঁছবেন। মিডিয়ায় কিছু বলার প্রয়োজন হলে পরামর্শ করে তারাই বলবেন। মুখ খোলার প্রয়োজন হলে তারাই খুলবেন।

তাদের উপর দেশের কোটি কোটি দ্বীনদ্বার মানুষের নিসংকোচ আস্থা রয়েছে। অামাদের সকলকে অবশ্যই তাদের উপর আস্থা রাখতে হবে। অন্তত তাবলীগের বিষয়ে আমাদের সেরেতাজ এই পাঁচজন রাহবারকে আমরা অনুসরণ করতে পারি। শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখাতে পারি এই পাঁচ মুরুব্বির প্রতি। আমার কাছে মনে হয়েছে- সরাসরি রাজনীতিমুক্ত, এখলাসওয়ালা, এলমি যোগ্যতা, বিচক্ষণতা, সর্বোপুরি যুগসচেতন ও বুযুর্গ আলেম এই পাঁচ রাহবার। সর্বজনাব অাল্লামা অাশরাফ অালী দা.বা, মাওলানা মাহমুদুল হাসান দা.বা, মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ দা.বা, মাওলানা আব্দুল কদ্দুস দা.বা, মাওলানা আব্দুল মালিক দা.বা. এই পাঁচজন নিঃসন্দেহে কওমি অঙ্গনের আস্থা ও ভরসার প্রতীক।

তাদের ডিঙিয়ে এখন কথা বলা মানেই আপনার অন্য সমস্যা আছে। আপনি অন্য কোন স্বার্থ হাসিল করতে চান। আপনার দুরভিসন্ধি নিয়ে তাহলে আমাদের ভাবতে হবে। আপনি অনলাইনে, মিডিয়াতে এই পাঁচজন আলেমের বাহিরে তাবলীগ নিয়ে নতুন করে ডাকঢোল পেটানোর অর্থই হল এই শীর্ষ আলেম ও আহলে কাকরাইলের প্রতি আপনি সন্তুষ্ট হতে পারেন নি। তাদের প্রতি আপনার আস্থা নেই। তাদের কথার বা্ইরে আপনারও কিছু কথা আছে। যাত্রাবাড়ির শায়েখ প্রথমদিনই বলেছেন, আলেমদের পক্ষ থেকে তাবলীগ নিয়ে কিছু বললে এই পাঁচজন পরামর্শ করে বলবেন। তাহলে আপনি এখন কেন বারবার নতুন ফর্মুলা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে ও অনলাইনে নিজের অযাচিত ফতোয়া আর মাতব্বরি তুলে ধরে নিজেকে জাহির করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। আগুনে পেট্টোল ঢালার এই ঘৃনীত প্রচেষ্টা দয়া করে আল্লাহর ওয়াস্তে বন্ধ করুন।

যেখানে যাত্রাবাড়ির বৈঠকে আহলে কাকরাইলরা এসে আলেমদেরকে নিজেদের সাথে কাজে জুড়িয়েছেন আন্তরিকতার সাথে। কাকরাইলের আলেম ও আহলে শূরার পক্ষ থেকে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুবাল্লিগে ইসলাম হাফেজ মাওলানা জুবায়ের সাহেব দা.বা. বললেন, “প্রয়োজনে কাকরাইল ছাড়ব কিন্তু দেওবন্দিয়তের নীতি আর্দশ ছাড়বো না। আকাবিরদের পথ থেকে একচুল পিছপা হওয়াও আমরা পছন্দ করি না”। এই কথা শুনার পরেও আপনার “জ্বলন” কমে নি। তাদের সাথে সর্বজনমান্য ৫জন আলেম যোগ হয়ে কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তবুও কারো কারো অনেক কথা থাকে, অনেক পরামর্শ থাকে, অনেক প্রোপাগাণ্ডা থাকে।

শুরা অার এমারত নিয়ে অাপনি অাজগুবী তত্ব হাজির করেন। যেখানে খোদ দারুল উলুম দেওবন্দ তাদের সর্বশেষ “ওযাহাতনামা”তে উল্লেখ করেছেন, “তাবলীগের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দেওবন্দ কোন হস্তক্ষেপ করবে না, এটা তাবলীগের আকাবিরদের নিজস্ব ব্যাপার”। সেখানে আপনার এমন নাক গলানো, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নতুন নতুন তত্ব আমদানি ও মিডিয়াতে সাপ্লাই করানো, আমাদের নতুন করে ভাবাচ্ছে। জানতে বড় ইচ্ছে করছে আপনি কোন দেওবন্দকে অনুসরণ করছেন? আপনার দেওবন্দিয়তের আর দারুল উলুম দেওবন্দের মেজাজ ও লক্ষ্য উদ্দেশ্য কখনো এক ও অভিন্ন হতে পারে না!

অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এসব অনলাইনে আর মিডিয়াতে ভাইরাল করতে না পারলে আপনার “মিশন” সফল হয় না। অামাদের জানতে ইচ্ছে করে, তাহলে অাপনার মিশনটা কি? নাকি পাঁচ শীর্ষ আলেমের ভেতর আপনার নামটি নেই বলে এত অন্তদহনে জ্বলছেন? অাপনার কার্যক্রমে মনে হয় মাঝপথে এই আলেমরা কাকরাইলের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে আপনার মিশনে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছেন। আপনি সন্তুুষ্ট হতে পারছেন না। তাদের সংশ্লিষ্টতা যদি বাস্তবেই “এলহামি” হয়ে থাকে তাহলে আপনি কেন তাদের উপর আস্থা রেখে চুপ থাকতে পারছেন না। বড়দের কাজের উপর ভরসা রেখে এখন কি সবার চুপ থাকা উচিত নয়?

অনেক হয়েছে। দোড়াদৌড়ি কম করেন নি। গত দুবছর ধরে অনলাইনে কম নীতিবাক্য প্রচার করেন নি। অনলাইনে এসব বিভ্রান্তিতে কার লাভ হচ্ছে লোক হাসানো ছাড়া? আমাদের বড়রাতো এসব ফেসবুকীয় অনলাইন থিউরি কখনো দেখেন না। তাহলে এসব করছেন কাদের দেখানোর জন্য। কোনদিন তাবলীগের সাথে নুন্যতম সম্পর্ক না রাখলেও আজ অনেক তাবলীগ বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। কওমি অঙ্গনের ভেতরই একটি চক্র ক্রমশ তাবলীগ বিরোধী হয়ে দেখা দিয়েছে। নানা মতবাদ ও ফেরকায় আক্রান্ত এরা তাবলীগকে গায়েল করার মোক্ষম সুযোগ বা হাতিয়ার পেয়ে বসেছে চলমান সংকটে। এরা তাবলীগের প্রতি মায়াকান্না দেখিয়ে অনলাইন -অফলাইনে খুব কৌশলে সাধারন মানুষের মাঝে “তাবলীগের সংকট” সমস্যাগুলো ছড়িয়ে দিতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। বেদাতি, জামাতি, লামাযাহাবি তাবলীগ নিয়ে যা বলত, এখন তারা অনলাইনে সেসব বলার চেষ্টা করছেন। যাতে সাধারন মানুষ তাবলীগের মেহনত থেকে মূখ ফিরিয়ে নেয়। নষ্টামিতো কম করেন নি। বড়দের ভূল বুঝিয়ে, বিভ্রান্ত করে,উত্তেজিত করে, উত্তরাতে মাইক লাগিয়ে, উম্মতকে লাইভ দেখিয়ে ছাড়লেন।

তাবলীগ নিয়ে আপনার দরদ আছে। ভালো কথা। কাকরাইল ওয়ালাদের সাথে বসুন। সেটা ভালো না লাগলে, দেশের শীর্ষ যে পাঁচজন আলেম কাকরাইলের সাথে যোগ হয়েছেন, তাদের যে কারো কাছে গিয়ে আপনার সুচিন্তিত মতামত,পরামর্শতো মনখুলেই বলতে পারেন। তাদের সাথে প্রযোজনে বারবার কথা বলুন। সে সুযোগ আছে। শতবার ঘরোয়া পরামর্শ করুন নিজেদের ভিতর। মাইক লাগিয়ে সমাবেশ। বড়বড় হুংকার। লাইভ সম্প্রচার। আক্রমানাত্তক বক্তব্য, অনলাইন, পত্রিকায় তাবলীগের অভ্যন্তরীন বিষয়কে হাইলাটস করাতো অনেক হয়েছে। এসব কিসের আলামত।

চেষ্টা করেছেন, জনগণকে বুঝানো তাবলীগে বড় ধরণের সমস্যা আছে, সেটা থেকে মুখ ফিরাতে হবে। এখন অন্তত এসব প্রচারণা বন্ধ করুন মুরব্বি আলেমদের সম্মানে। এখনো মিডিয়াতে আপনার মতো মানুষের বকবকানি কিসের লক্ষণ? কোন দরদী আলামত? আপনার এতো শংকা, আতঙ্ক, উল্লাস আর প্রচারণার দরকার নেই। যেহেতো বিষয়টি এখন আলেমদের সমন্বয়ে চলছে তাদেরকে সকলে অনুসরণ করা উচিত।

সমস্যা কোথায় নেই- কোন দল বা প্রতিষ্ঠান সমস্যার বা্ইরে? সমস্যা আছে বলেই তো খোদ দারুল উলুম দেওবন্দ দুটি হয়েছে। সমস্যা ও সংকট আছে বলেইতো জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ দুটি। সমস্যা থেকেই তো উপমহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীনী প্রতিষ্ঠান সাহরানপুর মাদরাসা দুটি। সমস্যার কারণেই তো আমাদের দেশে কয়েক হাজার লোকের একেকটি দ্বীনী রাজনৈতিক দল ভেঙ্গে টুকরো টুকরো, খান খান। এই ক্ষেত্রে বিলিয়ন মানুষের একটি জামাত যে কোন মুহুর্তে সেখানেও সংকট তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। ছাহাবায়ে কেরামের মাঝেও সংকট এবং মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। দুপক্ষই হকের উপর থেকে পারস্পরে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে, সিফফিনের যুদ্ধ’ ৭০ হাজার সাহাবী একে অপরের হাতে শহীদ হয়েছেন।

সাহাবাদের যুগ থেকে এতপরে এসে দ্বীনী বিষয়ে দুর্বল উম্মতের মাঝে সংকট, সমস্যা, মতবিরোধ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক বিষয়। সব সংকটের সমাধান আছে। আমাদের বড়রা সেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আসুন শীর্ষ আলেমদের প্রতি আস্থা রাখি। ভরসা রাখি সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুরুব্বি রাহবারদের প্রতি। দেখুন তারা কি করেন। কোন পথে হাটেন। কি সিদ্ধান্তে পৌছেন। কতোটা সফল হন। মাত্র কয়দিন হল তাদের সংশ্লিষ্টতা কিন্তু আপনি এখনি এত মতামত দেওয়া শুরু করে দিলেন। প্লীজ আল্লাহর ওয়াস্তে সবাই জবানে লাগাম টেনে ধরুন।

আল্লাহ বুঝ দান করুন। যেখানে দেশের শীর্ষ আলেমদের কাকরাইলে সংশ্লীষ্টতা ও উলামাদের পরামর্শ ও নিগরানি দেশের সকল সাধারণ তাবলীগের সাথীদের মাঝে সুবাতাস বইছে। সেখানে নতুন করে যে বা যারা চিহ্নিত অনলাইনে, ফেসবুকে, মিডিয়াতে নিজেকে জাহির করে বিভ্রান্ত ছড়ানোর চেষ্টা করছেন তাদের ব্যাপারে উম্মাহকে এখনি সর্তক হতে হবে।

আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। পুরো উম্মতের হেদায়তের জরিয়া হিসাবে কবুল করুন। সকল প্রকার ষড়যন্ত্র, বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার থেকে উম্মাহকে হেফাজত করুন। আমিন।

Comment

Share.

Leave A Reply