মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত শিক্ষার্থী হতে আপনার যা করণীয়

0

মুশাহিদ দেওয়ান, শিক্ষার্থী : আরবি সাহিত্য, মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় ::

‘মদিনা।’ আহ! নামটি শুনলেই হৃদয় জুড়ে যায়। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভূখন্ড মদিনাতুর রাসূল সা.। প্রিয় নবীর প্রিয় শহর। শান্তির শহর। ইলমের শহর। এখানে অবস্থিত আছে বিশ্বখ্যাত বিদ্যাপীঠ الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة (মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)। যা পবিত্র হারামের সীমানায়। মসজিদে নববির পাশেই অব‌স্থিত। ইলম-আমলের সুরভিত এক ফুলবাগান। উলামা-মাশায়েখের পদচারণায় প্রাণবন্ত বিশাল ক্যাম্পাস।
এই বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর অন্যান্য গতানুগিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো নয়। এর আছে নিজস্ব মিশন ও ভিশন। নিজস্ব স্বকীয়তা। এক কথায় ধর্মীয় শিক্ষার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। এখানে সমগ্র পৃথিবীর ১৮০ টির অধিক দেশের (তার মানে প্রায় সব দেশ) ছাত্র একসাথে পড়াশোনা করছে। দূর থেকে অনেকেই অনেক রকম ধারণা করেন। কিন্তু বাস্তবচিত্র এখানে না আসলে অনুধাবন করা অসম্ভব।
আজকের আলোচনা মদিনা ভার্সিটির উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা বা শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে নয়। মূলত একটি পরামর্শ নিয়ে। আমার কাছে অনেক ভাই এই ভার্সিটিতে কীভাবে ভর্তি হবেন- এমন প্রশ্ন প্রচুর করেন। নিজেদের আগ্রহের কথা জানান। সবার জ্ঞাতার্থে আজকের এই পরামর্শমূলক পোস্ট । এখানে ভর্তি হওয়ার জন্য বেশ কিছু শর্ত আছে। সর্বোপরি আল্লাহর তাওফিক ও ভাগ্য অনুকূল হওয়াও আবশ্যক।
প্রথমেই বলে নেই যে, মদিনা ভার্সিটির ছাত্র হওয়া ব্যক্তিজীবনের সবচেয়ে পরম সৌভাগ্যের বিষয়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে মসজিদে নববি থেকে ইলম অর্জনের সৌভাগ্য লাভ। যখনতখন ইচ্ছা হারামে যাওয়া যায়। মাশায়েখদের দরসে বসা যায়। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে এখানে সহশিক্ষার ভাইরাস নাই। আপনি পৃথিবীর যেকোন ভার্সিটিতে যান না কেন (সেটা ব্রুনাই মালেশিয়া, তুরস্ক যেখানেই হোক না কেন।) সেখানে সহশিক্ষা থাকবেই। ইসলামিক ভার্সিটি হলেও। আর পশ্চিমাবিশ্বের কথা তো বলা নিষ্প্রয়োজন। এই দু’টি বিষয় পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। এছাড়া উচ্চশিক্ষার উন্নত পরিবেশ, ছাত্রদের আর্থিক সুবিধাপ্রদানসহ নানাবিধ সুযোগ তো আছেই।

প্রিয় পাঠক!
আপনি যদি মদিনা ভার্সিটিতে পড়তে চান তাহলে আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী টার্গেট নিতে হবে। সর্বপ্রথম প্রয়োজন ইলম অর্জনের খালিস নিয়ত ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি। দ্বিতীয়ত এপ্লিকেশন করতে সর্বপ্রথম উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট আবশ্যক। তাই আলিম বা ইন্টার পরীক্ষা অবশ্যই দিতে হবে। সনদের ৫ বছর অতিক্রম হতে পারবে না এবং আপনার বয়স ২৫ বছরের বেশি হতে পারবে না। মূলত এটাই গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এছাড়াও আরো কিছু শর্ত আছে যেগুলো আপনারা বিস্তারিত https://admission.iu.edu.sa/WelcomePortal.aspx
ভার্সিটির এডমিশন পেজে পাবেন। উপরের লিংকে গিয়ে ভর্তি আবেদন করতে পারবেন। এছাড়াও আরো তথ্যের জন্য ভার্সিটির ওয়েব পেইজ ভিজিট করতে পারেন।
আপনি যদি দাখিল পরীক্ষা দিয়ে থাকেন তাহলে সামনের আলিম পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার প্রস্তুতি নিন। এরপর এপ্লাই করবেন। অতীতে প্রাইমারি ও জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষা ছিল না। তাই অনেক কওমী পড়ুয়া ভাইগণ সরাসরি দাখিল-আলিম দিতে পারতেন। কিন্তু এখন যেহেতু সেই পদ্ধতি নেই তাই আপনাকে ছোটকাল থেকেই টার্গেট নিতে হবে। ধাপে ধাপে সময়মত এসব পরীক্ষা দিয়ে অগ্রসর হতে হবে।

যেসব কওমী পড়ুয়া ভাইদের সরকারি সনদ নেই বা আর পরীক্ষা দেওয়ার মতো সুযোগ নেই, তারা নিজেদের ছোট ভাই/ভাতিজাকে (বা অন্যান্য ছোট আত্মীয়স্বজনকে) আগামী দিনের জন্য গড়ে তুলতে পারেন। আপনার তত্ত্বাবধা‌নে রেখে তাকে মাদরাসা বা স্কুল থেকে জেএসসি, এসএসসি (দাখিল) এইচএসসি (আলিম) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করান। পাশাপাশি তাকে আরবিতে দক্ষ করে তুলুন। সময় থাকতে প্রচেষ্টা না করলে পরবর্তী আক্ষেপ ছাড়া কিছুই ভাগ্যে জুটে না। আপনি যদিও এখানে ভর্তি হতে পারছেন না, কিন্তু আপনার ছোট ভাই যদি হতে পারে, তাহলে সেটাও তো কম সৌভাগ্য নয়!

আমরা চাই বাংলাদেশ থেকে বেশি পরিমাণে মেধাবী ছাত্র আসুক। সরকারি সনদ না থাকায় আমার জানা মতে অনেক মেধাবী কওমি পড়ুয়াগণ আক্ষেপ করেন। তাই এখন থেকেই পরিকল্পনা নিন। আগামী দিনের জন্য গড়ে উঠুন। আপনাদের জন্য সুসংবাদ যে, ভার্সিটির প্রশাসনিক ভবন ও ছাত্রাবাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন নতুন ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। সামনে হয়ত স্কলারশিপ কোঠা বৃদ্ধি করা হবে। তাই এখন থেকেই মদিনায় ইলম অর্জনের স্বপ্ন দেখুন ও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে যান।

আমি যখন মিশকাত জামাতে (২০০৯) পড়তাম তখন থেকেই মদিনা ভার্সিটিতে পড়ার স্বপ্ন দেখতাম। ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করতাম। অব‌শে‌ষে ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার মদিনায় আসার সৌভাগ্য হয়। এই ৬ বছর নীরবে চেষ্টা করেছি। নিভৃতে আল্লাহর দরবারে দুআ করেছি।
নিজের জীবনের গল্প বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে কোন কিছু হঠাৎ করে পাওয়া যায় না। ত্যাগ-সাধনা করতে হয়। দীর্ঘ মেয়াদী একটা পরিকল্পনা ও ইচ্ছাশক্তি থাকতে হয়। আর আল্লাহর রহমতে সেই ইচ্ছা একদিন অবশ্যই বাস্তবায়িত হয়।
আল্লাহ তায়ালা বলেন-

– وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ
– وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَى
– إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا

Comment

Share.

Leave A Reply