অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে সবাই ফল মেনে নেবে : বার্নিকাট

0

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে সবাই তার ফল মেনে নেবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট। তিনি বলেন, নির্বাচনে স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে তার ফলে ভোটাররা বেশি আস্থাশীল হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বার্নিকাট বলেন, একটা কার্যকর গণতন্ত্রে সব রাজনৈতিক দলের মুক্তভাবে কাজ করার সুযোগ থাকতে হবে। নাগরিকদের ভোটার হওয়ার স্বাধীনতা থাকতে হবে। কোনো ধরনের বাধা বা চাপমুক্ত থেকে ভোট দেয়ার সুযোগ থাকবে হবে। বাংলাদেশে গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনও স্থান নেই।

তিনি বলেন, সরকার প্রধান, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার নারী হলেও বাংলাদেশে এখনো রাজনৈতিক দলে ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীরা পিছিয়ে। নির্বাচনী ব্যবস্থায় নারীদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ বিভিন্ন কারণে নিরুৎসাহিত করা হয়ে থাকে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এটাই আশা করি। শুধু রাজনৈতিক দলের নেতারা নন, আমরা আশা করি, সব স্তরের নাগরিকরা একসঙ্গে এসে সমস্যা সমাধান করবে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের এক বছর বাকি থাকলেও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মতপার্থক্যের অবসান এখনো হয়নি। এই মতপার্থক্য থেকে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে ভোট ঠেকাতে নেমেছিল বিএনপি; তখন সহিংসতায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে।

বার্নিকাট বলেন, গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। যখন নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ থাকবে, স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ হবে, ভোটারদের কাছেও এর ফলাফল অনেক বেশি আস্থার হবে। গণতন্ত্র যে শুধু ব্যালট বাক্সে ভোট দেয়া নয়।

তিনি বলেন, নাগরিকেদের স্বাধীনভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাতে দেওয়া উচিৎ। কোনো ধরনের ভয়, ঘর বা চাকরি হারানোর শঙ্কা ছাড়া ভোটের নিবন্ধন করতে পারা ও বৈধ নির্বাচনের ফলাফলকে শ্রদ্ধা করতে পারা উচিৎ।

প্রতিবন্ধকতামূলক সামাজিক ও ধর্মীয় প্রত্যাশা, লিঙ্গভিত্তিক ও রাজনৈতিক সহিংসতার কারণেই নারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে বলে তার মত।

গোলটেবিলে মূল বক্তা সিইসি নূরুল হুদা বাংলাদেশে নারীদের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোতে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে চাপ দিয়ে যাবে ইসি।

তিনি বলেন, রাজনীতিতে নারীদের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। স্থানীয় সরকারেও নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। কাজেই পৃথিবীর অনেক দেশের থেকে বাংলাদেশ এগিয়ে। জাতীয় নির্বাচনে নারীর মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দলগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্বাচন ইসির হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। তবে দলে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে চাপ প্রয়োগ করতে পারি।

লেইক শোর হোটেলে এই আলোচনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বিএনপি নেতা আবদুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ অংশ নেন।

Comment

Share.

Leave A Reply