স্মার্টফোনে চার্জ সাশ্রয় করবেন যেভাবে

0

জীবনের প্রয়োজনীয় সব কাজ হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্ট মোবাইলের মাধ্যমেই করা সম্ভব হয়। অফিসের জরুরি যে কোনো কাজ অথবা ছবি তোলা, ভিডিও করা, সিনেমা নামানো, দূর-দূরান্তের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাসহ সব কাজের ক্ষেত্রেই এই যন্ত্রটি ছাড়া সবই অচল! মোট কথা, জরুরি কাজ থেকে শুরু করে বিনোদনের মাধ্যম সব সময়ই প্রয়োজন নিজের প্রিয় মোবাইল ফোনটি।

কিন্তু জরুরি কাজের মুহূর্তে এসে প্রয়োজনীয় যন্ত্রটির ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে কাজের যন্ত্রটি এক মুহূর্তেই অকেজো হয়ে যায় একদম। সাধারণত স্মার্ট মোবাইলের ব্যাটারির চার্জ খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং একদিনের বেশি একেবারেই থাকে না। তবে ছোট্ট এবং দারুণ কিছু ট্রিক্স মেনে চলতে পারলে স্বাচ্ছন্দ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের পরেও ব্যাটারির চার্জ থাকবে দীর্ঘসময়।

ওয়ালপেপারে রঙিন ছবি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা

মোবাইল ফোনের ওয়ালপেপার হিসেবে সবাই অনেক রঙিন এবং উজ্জ্বল ছবি ব্যবহার করেন। এতে করে ব্যাটারির চার্জ দ্রুত কমে যায়। যে কারণে ওয়ালপেপার হিসেবে সাদা-কালো এবং কিছুটা অনুজ্জ্বল ওয়ালপেপার ব্যবহার করা উচিত।

মোবাইলের স্ক্রিনের জন্য ‘অটো টাইম আউট’ অপশন ব্যবহার করা

অনেকেই তার মোবাইলের স্ক্রিনের জন্য ‘টাইম আউট’ অথবা ‘স্লিপ’ অপশনটি ব্যবহার করেন না। যে কারণে মোবাইলের স্ক্রিন সব সময় চালু থাকে। এই অপশনের সাহায্যে সময় (১৫ সেকেন্ড, ৩০ সেকেন্ড) নির্ধারণ করে দিলে নির্ধারিত সময় পরে অটো স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যাবে। এতে করে ব্যাটারি কম খরচ হয়।

কাজ শেষে জিপিএস, ব্লুটুথ এবং ওয়াই-ফাই বন্ধ করা প্রয়োজনীয় কাজ শেষে অবশ্যই মনে করে এই সব অপশন বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ এসব অপশন চালু থাকলে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি খুব বেশি খরচ হতে থাকে।

ব্যাকগ্রাউন্ড প্রোগ্রাম চালু না রাখা

সারা দিনে নিশ্চয় অনেকগুলো মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ফেসবুক থেকে শুরু করে গুগল ম্যাপস কিংবা জি-মেইল সব প্রয়োজনীয় অ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমেই দিনের শুরুটা হয়। তবে মনে করে সব অ্যাপস ব্যবহারের পরই বন্ধ করে দিতে হবে। পুরোপুরিভাবে অ্যাপসগুলো বন্ধ না করলে ব্যাকগ্রাউন্ডে সেসব অ্যাপস চালু থাকে বিধায় ব্যাটারির চার্জ ব্যবহৃত হতে থাকে। প্রতিবার প্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যবহার শেষে সেই অ্যাপের উইন্ডো অফ করে দিতে হবে।

মোবাইল সব সময় হাতে ধরে না রাখা

শরীরের নিজস্ব উষ্ণতা রয়েছে। যার ফলে মোবাইল ফোন বেশি সময় ধরে হাতে রেখে দিলে হাতের উষ্ণতা গ্রহণ করে মোবাইল ফোনের ব্যাটারির চার্জ দ্রুত কমে যেতে শুরু করে। যে কারণে, কাজ শেষে মোবাইল ফোন ব্যাগে অথবা পকেটে রেখে দিতে হবে।

অটো-রোটেশন অপশন বন্ধ করে রাখা

জরুরি কাজের ক্ষেত্রেই শুধু অটো-রোটেশন অপশনটি অন করতে হবে। এ ছাড়া বাকি সময়ে এই অপশন বন্ধ করে রাখা প্রয়োজন। কারণ এই অপশনটির জন্য একটি বিশেষ ধরনের সেন্সর ব্যবহৃত হয়। যার নাম ‘অ্যাক্সেলেরোমিটার’। যেটা মোবাইলের ব্যাটারি খুব দ্রুত নিঃশেষ করে দেয়।

মোবাইলের ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখা

এই ব্যাপারটা কমবেশি সবাই জানেন। মোবাইলের ব্রাইটনেস সর্বোচ্চ দেয়া থাকলে ব্যাটারির চার্জ অনেক বেশি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। যে কারণে মোবাইল ফোনের ব্রাইটনেস ৩০-৪০%-এর বেশি দেয়া উচিত নয়। এ ছাড়াও, রোদের আলোতেও মোবাইল ফোনের ব্রাইটনেস বাড়িয়ে না দিয়ে অটো-ব্রাইটনেস অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে।

ভাইব্রেশন মোড বন্ধ রাখা মোবাইল ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হল মোবাইল ফোন ভাইব্রেশন মোডে রাখা। শুধু প্রয়োজনের সময় যেমন: অফিসিয়াল মিটিং কিংবা পরীক্ষার সময় ছাড়া অন্য সব সময়ে মোবাইলে ভাইব্রেশন মোড বন্ধ করে রাখতে হবে।

চার্জিং পোর্ট পরিষ্কার করা

শুধু মোবাইল ফোনের স্ক্রিন নয়, চার্জিং পোর্টটিও নিয়মিতভাবে পরিষ্কার করতে হবে। প্রতিদিনের ব্যবহারে মোবাইলের চার্জিং পোর্টে ময়লা জমে আস্তরণ পরে যায়। যার ফলে অনেক সময় মোবাইলে চার্জ হতে সমস্যা দেখা দেয়। তাই কটনবাড অথবা টুথপিকের সঙ্গে টিস্যু লাগিয়ে মোবাইল ফোনের চার্জিং পোর্ট কয়েকদিন পরপর পরিষ্কার করতে হবে।

মোবাইল ফোন সুইচ অফ করে রাখা

রাতে ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোনটি সুইচ অফ করে রাখা প্রয়োজন। কারণ এতে করে মোবাইল ফোন ও মোবাইল ফোনের ব্যাটারির বিশ্রাম হয়। যে কারণে ব্যাটারি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত চার্জযুক্ত থাকে।

Comment

Share.

Leave A Reply