`মুসলিম বন্ধুদের আচরণে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করি’

0

রাশিয়ায় কমিউনিজমের অধীনে ঈশ্বরের ধারণা গত সাত দশক ধরে অনুমোদন করা হয়নি। তারপরেও সেখানে দ্রুত ধর্মীয় নবজাগরণ প্রত্যক্ষ হয়ে আসছে। দেশটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক ইসলামের মাঝে মনের শান্তি খুঁজে পেয়েছেন।

দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ রাশিয়ান অর্থডক্স খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসী। রাশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মূলত অভিবাসীদের দ্বারা ইসলামের প্রসার ঘটেছে। তা সত্ত্বেও দেশটিতে মুসলমানদের বিদেশি বা বহিরাগত হিসেবে গণ্য করা হয় না।

রাশিয়ার অনেক আদিবাসীরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইসলাম ধর্মের প্রতি তাদের গভীর আনুগত্য প্রকাশ করে আসছে এবং খ্রিস্টানদের সঙ্গে একত্রে বসবাস করছে।

যাইহোক, সোভিয়েত আমলে কোনো ধর্মকে বরদাশত করা হতো না। কিন্তু কমিউনিজমের পতনের পর অর্থডক্স খ্রিস্টান এবং ইসলামের দ্রুত প্রসার ঘটেছে।

বর্তমানে রাশিয়ায় মুসলমানদের সংখ্যা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান নেই। সর্বশেষ আদমশুমারিতে দেশটির নাগরিকদের তাদের ধর্ম সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন জানতে চাওয়া হয়নি।

সুতরাং রাশিয়ান মুসলমানদের সংখ্যা গণনা করা হয় সাধারণত যারা ঐতিহ্যগতভাবে মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর তাদের সব সদস্যদের যোগ করে। এসব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে তাতার, বাশখির এবং চেচেন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ১৬ থেকে ২০ মিলিয়ন ‘জাতিগত মুসলিম’ রয়েছে যা রাশিয়ার জনসংখ্যার ১২-১৫ শতাংশ।

উপরন্তু, সেখানে কিছু ‘নতুন মুসলমান’ যোগ হয়েছে যারা মুসলিম নন কিংবা অন্যান্য ধর্মের প্রতি আনুগত্য ছিল এবং তারপরে ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছেন।

ককেশাস স্টাডিজ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের সিনিয়র সহকর্মী নিকোলাই সিলাভে বলেছেন, ‘এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছে এবং হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে প্রচারণা বেশ বিরল। কিন্তু কোনো মুসলমান গোঁড়া খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হলে রাশিয়া জুড়ে ব্যাপক প্রচার পেত।’

সম্প্রতি ‘রাশিয়া বিয়ন্ড দ্য হেডলাইন’ নামে দেশটির একটি ইংরেজি সংবাদ মাধ্যম ইসলামে ধর্মান্তরিত এক নারীর সাক্ষাৎকার নেয়। আরটিএনএনের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

ওলেয়ানা (৩০)। সাত বছর আগে ২০০৯ সালে ইসলামে ধর্মান্তরিত হন।

ওলেআনা বলেন, ‘ইসলামের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আমার আগ্রহ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে আমি ইসলাম ধর্মের প্রাথমিক ধারণা পাই এবং আরবি শিখি। সেখানে আমার অনেক মুসলমান বন্ধু ছিল। বর্তমানে সমাজে মুসলিমদের নিয়ে স্বাভাবিকভাবে যা বিবেচনা করা হয়ে থাকে তাদের সবার আচরণ ছিল তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ কারণেই আমি ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। আমার বাবা-মা ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা আমার পছন্দ বুঝতে পেরেছিল যেমনটি তারা আশা করেছিল।’

‘আমি স্কার্ফ পরি না তবে নামাজের সময় নিজেকে পরিপূর্ণভাবে ঢেকে নেই। প্রথমে রোজা রাখাটাও আমার জন্য কঠিন ছিল কিন্তু আমি গত তিন বছরে এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এছাড়াও ইসলাম নিয়ে গৎবাঁধা কিছু বিষয় নিয়ে লড়াই করতে হচ্ছে। অনেকে বিশ্বাস করেন, ইসলাম একটি নিষ্ঠুর ধর্ম। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে এমন মতের সঙ্গে ভিন্নমত পোষন করি। আমি মনে করি সকল ঐশ্বরিক শিক্ষা সুমহান কল্যাণ আর ভালবাসা দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে,’ বলেন ওলেয়ানা।

তিনি বলেন, ‘ইসলামে কথিত গৎবাঁধা অনেক বিষয় আছে। উদাহরণস্বরূপ, মুসলমান কর্তৃক কাফের হত্যা, প্রাণি জবাই, স্ত্রীদের মারধর ও অবিশ্বাসীদের গ্রহণ না করা ইত্যাদি। এই মনোভাবের কারণ হচ্ছে অজ্ঞতা। আপনি কিছু বুঝতে না পারলে কিংবা কোনো বিষয়ে ভয় পেলে আপনার উচিত হবে সেই ভয় বাস্তবসম্মত কিনা তা খুঁজে বের করা। আমি মনে করি ধর্মের সঠিক অনুশীলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিই পারে তাদের এই ভয় দূর করতে।’

Comment

Share.

Leave A Reply