যন্ত্রণা

0

ইলিয়াস মশহুদ ::

একটি দুঃসংবাদ; জীবন যেখানে পরাজিত
গল্পে গল্পে আড্ডা মারছিলাম আমরা ক’জন বন্ধু। বেশ জমছিলো আড্ডাটা। ঈশিরাত পাড়ি দিয়ে তখন নিঝুম-নিস্তব্দ নিশিচর। এদিকে কারো কোনো খেয়ালই নেই। গল্প আড্ডায় মেতে আছি সবাই। চায়ের কাপে চুমুক দিতে ঠোট লাগিয়েছি মাত্র। তর্জন- গর্জন করে হঠাৎ কেঁপে উঠল পকেটে থাকা ১১১০ মডেলের মোবাইল ফোনটা। হ্যালো বলে রিসিভ করতেই ওপার থেকে ভেসে এলো কান্নার ধ্বনি। হতভম্ভ আমি।
কোনো মতে নিজেকে সামলে নিয়ে বোনটি আমার বললো- ভাইয়া! আব্বু…। আর বলতে পারলো না কিছুই। ফুপিয়ে ফুপিয়ে ডুকরে কাঁদতে লাগলো। বুঝতে আর অসুবিধা হলো না-ঘটনা কী? আমি যেনো তখন শান্তনা দেবার ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম।
আমার এক খালু। পেটের ফিকিরে থাকতেন মধ্যপ্রাচ্যে। নাড়ির টানে গাট্টিগুট্টি বেঁধে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত এসেছিলেনও। তবুও আসা হলো না আর। নিয়তির কাছে পরাজিত তিনি। ফ্লাইট মিস হল। হোটেলে ফিরলেন। অখানেই তাঁর জীবন প্রদীপ নিভে গেলো। দেশে আর আসা হলো না। শেষবারের মত দু’টো মেয়ের মুখ দেখা হলো না। আল্লাহ তাঁকে শান্তিতে রাখুন। আমিন।

যন্ত্রণা
সৃষ্টি যন্ত্রণার রক্তচিহৃও একদিন মুছে যায়, যা কিনা নাড়িছেঁড়া যন্ত্রণা! বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও স্নেহের বিচ্ছেদে ভাষা রুদ্ধ, চোখ টলমলে। তখন নোনাজলই একমাত্র ভরসা। তবুও কালের আবর্তে সূর্যোদয় ও তার অস্ত; এ যে নিয়তিরই পরম খেলা! অতএব, সাবধান!
সময়ের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্চি আমি ও আমরা। হারিয়ে যাচ্ছি শূন্য আকাশে। নিক্ষিপ্ত হচ্ছি ইতিহাসের আস্থাকুড়ে। প্রজন্ম আমাদের মুখভরে গালি দেবে। কথায় কথায় অভিসম্পাৎ করবে।
আমরা আছি, কিন্তু পূর্ববর্তীদের মতো পরবর্তীতে থাকব না। থাকার কথাও না। আমরা হলাম সমাজের বোঝা। সমাজ, দেশ ও জাতির বর্জ্য (তাদের ভাষায়) হকিকতও তো তাই বলে। তবে ইল্লা…।
আমরা সমাজ, দেশ ও জাতিকে নিয়ে ভাবি না। এ আমাদের দোষ! আমাদের সময়টা কই? তারা ভাবে। আমাদের বিনাশে তারা দিবানিশি সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে।
আমাদের নিয়ে, কওমিঅলাদের নিয়ে তাদের যত মাথাব্যথা। যত পেরেশানী। আর আমরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাই। একটিবার জাগারও চেষ্টা করি না। বরঞ্চ ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখি খেলাফত কায়েমের! দেখতে ভালো লাগে বলে। কখনো কখনো চিৎকার দিয়ে উঠি; জয় খেলাফত। ইসলামি হুকুমত। আমরা মঞ্চে উঠি। ফুলের মালা দেই। সম্বর্ধনা গ্রহণ করি। আর কয়দিন! এই তো! সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা পাঠ করবো- আমি শপথ করিয়া বলিতেছি যে…!
অত:পর মাননীয় স্পিকার! স্পিকার! স্পিকার!

বিবেক, বিবেক, বিবেক অত:পর আবেগ
কথায় অছে-একমন আবেগের অন্তত তিনমন বিবেক থাকতে হয়। শুধু আবেগ দিয়ে কোনো কাজে শতভাগ সফলতা আসে না। হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ যদিও আমার উপলব্দি, তবুও আমি ভুক্তভোগী। সীমাহীন আবেগী এই আমি।

বাজার
এই দুনিয়ার সবচে’ নীচস্থান! তবুও আমরা বাজারে যাই। কারণ, সামাজিক প্রয়োজন, পেটের তাগিদ ইত্যাদি নানাবিধ জরুরত মেটাতে। তাইতো বাজার দুনিয়ার সবচে’ বাজে স্থান হওয়া সত্বেও আমরা বাজারে যাই।

বই পোঁকা
এই আমি’র আশাটা যেনো পুরণ হয়। জীবনে যা কিছু চাওয়ার আছে, শখের জিনিস আছে, তারমধ্যে সবচে’ অগ্রগণ্য শখ হচ্ছেÑদেশি-বিদেশি নানান রকমের বইয়ের সমাহার দিয়ে একটা ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা বা লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা।
ইচ্ছে আছে বাড়িতে পৃথক একটা রুম তৈরি করে তাতে তরে তরে সাজিয়ে রাখবো আমার প্রিয় লেখকদের প্রিয় সব বই।

শক্তির জয় হোক!
মনটা ভীষন খারাপ। ক্রোধ, রাগ আর গোস্বা মাথায় কিলবিল করছে। শক্তি নেই, সামর্থ নেই, সাহসও নেই; নয়ত?
ব্যক্তিস্বার্থ, অহমিকা, মনচায় ক্ষমতার প্রয়োগ, আত্মগরিমা কাউকে আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তায় পৌঁছাতে পারে না। তবে ক্ষমতার দাপটে, ভয়ে তটস্থ হয়ে বাহ্যিক সম্মান পাওয়া এদেশে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। আর আড়ালে ঠিকই থুথু ফেলে।

উপলব্দি
আজ বছর দুয়েক হলো- সৃষ্টিশীল কিছু লেখা হয়ে ওঠেনি। ভাবছিলাম, পাঠ অভাবে হয়ত এমনটা হচ্ছে। গেল রমযানে বেশ সময় নিয়েই পাঠ করলাম সাহিত্য গবেষক সৈয়দ হককে। ‘মার্জিনে মন্তব্য’ নামক ঐতিহাসিক তার সাহিত্যকর্মকে। পাঠান্তে ক্ষণিক বিশ্বাস জন্মেছিলো- আমি পারবো! কিছু একটা হতে পারব! কিন্তু না, রবিন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে কালের গর্ব মুসা আল হাফিজ পর্যন্ত আমাকে আরো বেশি করে পাঠ করতে হবে।

আহ্, খয়েরখাহ্!
সম্মানিত অথচ দোষিত, কর্মতৎপরতা এবং নানা প্রতিভায় প্রতিভিম্বিত, দোষেগুণে গুণান্বিত, পরিচিত বা চিহ্নিত; ভিন্নধারায় আলোচিত বা সমালোচিত মহান ব্যক্তিত্ব?
সাহিত্য সমালোচক হতে হলে সাহিত্যিক হতে হয়। জ্ঞানীর স্খলন ধরিয়ে দিতে জ্ঞানী হতে হয়। আর পাগলকে পাগল বলে জানতে, চিনতে হলে নিজে পাগল হতে হয়?
সত্যিই অদ্ভূত! সত্যিই সেলুকাস! বিনা মেঘে বজ্রপাত!
আমরা বাঙালি। উপকারিকে লাথি দেই। অন্যের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খেতে ভারি মজা।

অধ:পতন
অত:পর অধ:পতন অবধারিত। অহেতুক অবিচার অসহনীয়। অকর্মণ্য, অবিশ্বাস, অসদাচরণ অকল্পনীয় অন্তত অনিমেষ। অসৌজন্য, কুলীন আত্মগরিমা ধ্বংশ আনে বেশ।
যত্ত দোষ নন্দঘোষ। প্রতিহিংসার জয় হোক। এই আমার ‘আমিত্ব’কে সবাই জানুক। সহযাত্রীর অহোরাত্রি দাম্ভিকতায় পূর্ণ হোক!
সেই দু’হাজার এগারো সাল থেকে স্বপ্ন দেখা। লালন করা। অত:পর দু’হাজার বারোয় সূর্য ওঠা। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হয়, বিজলি চমকে। আলো আঁধারির খেলা চলে। চলছে! চলবে.! স্বপ্ন পূরণ হবেই। সাথে থাকুন। পাশে থাকুন। সবসময়। সবখানে।

ভাবতে হবে
জীবনকে এবার সাজাতে হবে! ভাবতে হবে! সমাজে কিছু লোক আছে এমন, যারা অন্যকে কষ্ট দিয়ে, ব্যাথা দিয়ে, মানসিক আঘাত দিয়ে, কৌশলে প্রতারিত করে অন্তরে প্রশান্তির হাওয়া অনুভব করে। প্রকৃতপক্ষে তারাই দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ট বুদ্ধিমান!
একঘেয়েমি, স্বার্থপরতা, আত্মকেন্দ্রিক অহমিকা, স্বজনপ্রীতি, কপট, হিংসুক, অযোগ্য- তবে থোথাবাজ ও চাটুকার যারা; অন্যের পদলেহন, চামচামি করে যারা-তারাই আজ দেশ সমাজের কর্ণধার! মুতলাকান প্রতিটি ডিপার্টমেন্টেই এরা মূল চালিকাশক্তি! অন্যায়ের জয় হোক।

মাত্র কয়েকটা মশার ভ্যাঁন ভ্যাঁন শব্দ, আচমকা শুঁড়ের খোঁচা- না, আর পারলাম না। বাধ্য হয়ে খাঁচায় প্রবেশ করতে হল। মশার কাছে আমরা পরাজিত! এটুকুনই বুঝি আমাদের শক্তি! মশার কাছে পরাজিত এই আমি ও আমরা। তবে কেনো এত্তা বড়াই!

অত:পর?
জীবনের জয়গানে, তারুণ্যের সাময়িক উচ্ছলতার জোয়ারে গা ভাসিয়ে এই আমি আজ এক নবঅধ্যায়ের দিকে যাত্রা করছি।
ইথারে নিন্দুকের বিশ্রী হাসি আমাকে আরো এবং আরো বেশি তাড়িত ও আলোড়িত করে। কালান্তরের বিয়োগান্তে, স্বার্থের পিছু হেঁটে এই আমি আজ স্বার্থপর! অত:পর?
রক্ত দেখে হাসবো আমি, কাঁদবো সবার সুখে!

জেগে উঠুন
নদীর প্রবাহ থেমে গেলে বলা হয় মরা নদী। তেমনি পড়ালেখায় সময়ের সাথে এগিয়ে না চললে আমরাও পিছিয়ে পড়ব। ক্রমাগত এই ‘আমাদের’ গতিটা মরা গাঙের মত হারিয়ে যাবে।
চলমান নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এগিয়ে এসেছেন কিছু মহৎপ্রাণ। নিয়েছেন ভিবিন্ন কর্মসূচী। জেগে উঠুন। জেগে তুলুন। আলোর পথ দেখাবেই।

অতীত!
ফেলে আসা দিনগুলি মোর!
সুখস্মৃতির হারিয়ে যাওয়া প্রহরগুলি মোর!
তুমি এতো নিষ্টুর? এতো রোমাঞ্চকর?
হে অতীত! হে অতীত! হে অতীত!
তোমাকে মনে পড়ে খুব। খু-উ-ব।

Comment

Share.

Leave A Reply