করিম উল্লাহ মার্কেটের নির্বাচন কাল; সম্পাদক পদে এগিয়ে আজহারুল ইসলাম

0

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী কাল শনিবার (৯ ডিসেম্বর ২০১৭) ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঐতিহ্যবাহী এই মার্র্কেটের নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীসহ ক্রেতাসাধারণের মাঝে অন্য রকম এক আমেজ বিরাজ করছে। ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে ভোটার ছাড়াও সচেতন মহলের আগ্রহের কমতি নেই। চলছে নানা হিসেব-নিকেশ। জল্পনা-কল্পনা আর গুঞ্জন।

ঐতিহ্যবাহী করিম উল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির (২০১৮-২০২০) সাধারণ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন রাজিব টেলিকমের সত্বাধিকারী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাওলানা আজহারুল ইসলাম চৌধুরী ।
কাল শনিবার সমিতির নির্বাচন অনুষ্টিত হবে। এরই মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
হার-জিতের লড়াইয়ে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি ছাড় দিতে নারাজ। যার যার মত প্রচারণায় ব্যস্ত সবাই। মাঠ জরিপে জনপ্রিয়তার আজহারুল ইসলাম আর সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। তবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতাকারী সবাই চান জয় ঘরে তুলতে।
আজহারুল ইসলামের (মোবাইল মার্কা) প্রতিদ্বন্ধি হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন হিলাল আহমদ (চাকা মার্কা)।
ইতোমধ্যে আজহারুল ইসলাম ৮ দফা ইশতেহার দিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে সার্বিক চিন্তাধারা মাথায় রেখে ইশতেহারের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
তবে মার্কেট ঘুরে সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, সাধারণ সম্পাদক পদপার্থী মাওলানা আজহারুল ইসলাম চৌধুরী (মোবাইল প্রতীক) অনেকটাই এগিয়ে আছেন। মাত্র একদিন পর করিম উল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নির্বাচন। বেশিরভাগ ব্যবসায়ীগণ সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছেন কার হাতে তুলে দিবেন তাদের আমানত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান তাদের পছন্দের প্রার্থীর কথা। তাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে আছে ক্লিন ইমেজের ব্যবসায়ী মাওলানা আজহারুল ইসলামের নাম।
মূলত দুই বছরের জন্য ব্যবসায়ীগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করে থাকেন। এ দুই বছরেই প্রার্থীরা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন। ব্যবসায়ীদের বিপদে আপদে তারা পাশে থাকেন।
কে হবেন সাধারণ সম্পাদক? কার ভোটের পাল্লা ভারি? এ নিয়ে ভোটারদের আগ্রহের কমতি নেই। তবে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিই নির্বাচিত হবেন। এমন প্রত্যাশা সবার।
আজ সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় কয়েক জন ক্রেতার সাথে। শেরপুর থেকে মোবাইল কিনতে আসা সাইফ রাহমান নামে একজন বলেন, “মার্কেটে এখন নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। সাবার মুখেই শুধু আজহার ভাইয়ের নাম।”
হবিগঞ্জ থেকে পাঞ্জাবীর কাপড় কিনতে এসেছেন মীম মাহফুজ নামের একজন। তিনিও জানালেন একই কথা। “সারা মার্কেটেই যেনো আজহার ভাই আজহার ভাই রব উঠেছে। ”
নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধিতাকারী মাওলানা আজহারুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, “একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমি সব সময় ব্যবসায়ীদের স্বার্থে ও কল্যাণে কাজ করেছি। আমার বিশ্বাস, কালকের নির্বাচনে ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।
তিনি আরো বলেন, সমিতি একটি অরাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীদের কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। আমরা সকলে মিলে চাঁদাবাজিমুক্ত নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চাই। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং তাদের স্বার্থ, কল্যাণ ও উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করতেই এ নির্বাচন। আমি এ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হয়েছি। ভোটাররা তাদের বিবেচনা দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করবে এটাই স্বাভাবিক। নির্বাচনে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবে বলে আমি আশাবাদী।”

এ নির্বাচনে ভোটাররা সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন বলে আশা করেন মার্কেটের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, আমরা সবাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যবসা করতে চাই। সেজন্য যারা নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট হবেন তারাই নির্বাচিত হবেন।

শনিবার দিনব্যাপী করিম উল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে করিম উল্লাহ মার্কেট অফিস কক্ষে।

Comment

Share.

Leave A Reply