কানাডার কুইবেক শহরে নিকাব নিষিদ্ধ আইনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

0

কানাডার কুইবেক প্রদেশে সরকারি কর্মচারী এবং পাবলিক পরিষেবা গ্রহণকালে জনসাধাণের মুখ ঢেকে রাখাকে নিষিদ্ধ করে যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল তা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন প্রদেশটির একজন বিচারক।

শুক্রবার ‘ধর্মীয় নিরপেক্ষতা’ নামের নতুন এই আইনটি স্থগিত করেন উচ্চ আদালতের বিচারক বাবাক বারিন।

নতুন এই আইনটির মাধ্যমে বোরখা পরিধানরে ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল।

বিচারক বলেন, মুখ ঢেকে রাখা নিয়ে অক্টোবরে বিধানিক পরিষদে যে বিধানটি গৃহীত হয়েছে, সে বিষয়ে কিভাবে বিধি-নিষেধ আরোপ করা যায় তা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো গাইডলাইন না নেয়া পর্যন্ত বিধানটি কার্যকর করা যাবে না।

এর আগে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে আগামী গ্রীষ্ম পর্যন্ত তারা এই আইনটি বাস্তবায়ন করবে না।

বিচারক বারিন লিখেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য রাষ্ট্রীয় ধর্ম নিরপেক্ষতার মতাদর্শ মহৎ হতে পারে, সরকারকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে জনকল্যাণের জন্য গৃহীত আইনটি সুসঙ্গত এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ।’

তিনি আরো লিখেন, ‘কানাডীয় সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্যে জনসাধারণের স্বার্থে সমাজের উদ্বেগ এবং শনাক্তযোগ্য গ্রুপের বিশেষ আগ্রহ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করেন ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস এবং কানাডিয়ান সিভিল লিবার্টিজ এসোসিয়েশন। এছাড়াও, এটি চ্যালেঞ্জ করেন মারি-মিশেল ল্যাকটো নামে কুইবেকের একজন মুসলিম নারী ও ওয়ার্দা নেলি নামে একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম নারী। তারা উভয়েই নিকাব পরিধান করে থাকেন।

তারা বলছেন যে নতুন এই আইনটি কানাডিয়ান এবং কুইবেক চার্টার অনুযায়ী ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন।

নেলি সিবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমার মর্যাদা সুরক্ষিত এবং এটা কিভাবে পার্থক্য করবে আমি বুঝতে পারছি না।’

তিনি জানান, তাকে তার পর্দা খুলতে বলা হবে- এমন পরিষেবা তিনি এড়িয়ে চলছেন। এমনকি তিনি এজন্য ডাক্তারের কাছেও যাচ্ছেন না বলে তিনি জানান।

বাদী পক্ষের আইনজীবী ক্যাথেরিন ম্যাকেন্জী সিবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমরা যুক্তি দিয়েছি যে এই আইনটির মাধ্যমে বাদীসহ নারীরা অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এই আইনের কারণে তারা চিকিৎসা পরিষেবা, স্কুল বা পাবলিক পরিবহনের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

ম্যাকেনজী বলেন, এখন সরকার এব্যাপারে কি পদক্ষেপ নেয় তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এবং নেই অনুয়ায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

কুইবেকের প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ কুইলার্ড বলেন, তিনি বিচারকের এই রুলে বিস্মিত হননি।

কুইবেক সিটির সেন্ট-ফেলিসিওনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি এই রায় নিয়ে অসন্তুষ্ট নই কারণ এই রায়ে চার্টার বা বড় কোনো সাংবিধানিক সমস্যা নিয়ে কোনো লঙ্ঘনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।’

কুইবেকে কত নারী নিকাব পড়ে সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে ২০১৬ সালের এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী- কানাডার ৩ শতাংশ মুসলিম নারী চাদর পরে এবং ৩ শতাংশ নারী নিকাব পরে।

Comment

Share.

Leave A Reply