মুফতি ওয়াক্কাসকে বহিষ্কার; সিটিস্ক্যান রিপোর্ট

0

ইকবাল হাসান জাহিদ : মুফতি ওয়াক্কাসকে বহিষ্কার করার সিটিস্ক্যান রিপোর্ট যা বলছে তা নিতান্তই দুঃখের। রাজনীতি বিশ্লেষকরা আপাতত যা দেখছেন শুধুই স্বার্থের রাজনীতি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জামায়াত জোট অংশগ্রহণ করলে জমিয়ত ২ সিট, খেলাফত ২ সিট এবং নাম সর্বস্ব ইসলামী ঐক্যজোট বুড়ি আঙুল চুষার দায়িত্ব পেতে পারে। জমিয়ত ২ সিট পেলে নিশ্চিতভাবে সাবেক মন্ত্রী ও এমপি হিশেবে মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস এবং আরেক সাবেক এমপি হিশেবে এডভোকেট শাহীনূর Pasha কেই টিকিট দেয়ার কথা। এবং এটাই সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক নিয়ম।

এক্ষেত্রে আরো দুইজন সিনিয়র নেতার “কাবাব মে হাড্ডি আ-যায়েগা”। জমিয়তের তথা কথিত আগন্তুকনেতা মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী ও সিলেটের কানাইঘাট এলাকার (আদম ব্যবসায়) কারানির্যাতিত নেতা মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক সাহেবের নির্বাচনে অংশগ্রহণ শতভাগ অনিশ্চিত হতে যাচ্ছে।

দুই সিনিয়র নেতার জীবনের শেষ পর্যায়ে এমপি হওয়ার ইচ্ছা ও ইলেকশনে টিকিট পাওয়ার খাহেশ অনেকটা ফিকে হয়ে যায় মুফতি ওয়াক্কাস ও পাশার টিকিটের নিশ্চয়তায়। ঠিক এই সময়ে সুদূরপ্রসারী টার্গেট হিশেবে অন্তত একটা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। মুফতি ওয়াক্কাসকে অনিয়মের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার কিংবা পদত্যাগ করাতে পারলে এক আসন অন্তত নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের। আর অস্পষ্ট শাহীনূর পাশাকে ফুঁক দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে দুই সিটের আসন পাকাপোক্ত করা যেতে পারবে।

সুদূরপ্রসারী এই চিন্তা ঠিক যেমন রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ নেতা বিশিষ্ট শাইখুল হাদিস উবায়দুল্লাহ ফারুকের মাথায় আসবে না, তেমনি আসনের লোভে লালায়িত নয় এমন কোনো নেতা কল্পনাও করতে পারবেন না। মুফতি ওয়াক্কাস আর শাহীনুর পাশা ছাড়া জমিয়তে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি নেই সরাসরি খালেদা কিংবা মির্জা ফখরুলের শিডিউল পাবেন। তৃতীয় একমাত্র ব্যক্তি আব্দুর রব ইউসুফী। যিনি ক্রিটিক্যাল রাজনীতির গুরু, যিনি শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হককে একঘরি করে প্রিন্সিপ্যাল হাবিবকে হাসিনার কিশতিতে চড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

আজ সেই ইউসুফি জমিয়ত ভাঙার কুশীলব হিশেবে জাতির কাছে ধিকৃত হচ্ছেন। এটা হয়তো জাতির বুঝার ভুল, নতুবা তার রাজনৈতিক জীবনের শেষ ভরাডুবি।

একটা কথা মনে রাখা দরকার, মুফতি ওয়াক্কাস বলেন কিংবা পাশা-ফারুক-ইউসুফি বলেন, কেউই আল্লাহর রাডারের বাহিরে নয়। ইসলামী রাজনীতিতে ভাঙ্গাগড়ার খেলা যারাই করবেন আল্লাহর খাতায় রেড ব্লকে নাম লেখা থাকার কথা। এখানে রাজনীতি বিশ্লেষকদের ধারণা কিংবা বিশ্লেষণ ভুল হইলেও যে ধারায় ইসলামী রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাতে একটা ঘোর অন্ধকার ঘনীভূত হচ্ছে বৈ কিছু নয়।

এই অন্ধকার পরিস্থিতিকে সামাল দেয়ার জন্য বাংলাদেশে এই মুহুর্তে কোনও অভিজ্ঞ আলেম ও ইসলামী চিন্তক নেই কী? একেবারে নাই থাকলে দারুল উলুম দেওবন্দকে যারা নিজেদের রাজনীতির মারকাজ মনে করেন, দল ভাঙার আগে অন্তত সেখান থেকে ভালো কিছু নিয়ে আসার চেষ্টাও করা যেতে পারত। তাছাড়া মাওলানা আরশাদ মাদানী যেখানে দেশেই উপস্থিত সেখানে তাঁকেও বিষয়টা ক্লিয়ার করে বলে সমাধান নেয়া যেত।

এর কিছুই হবে না। যতক্ষণ না এমপি হওয়ার খাহেশ আর নেতা হওয়ার নগ্ন ইচ্ছা মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে না পারছেন।

Comment

Share.

Leave A Reply