শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই!

0

আদিব আহমদ ::

একজন মানুষ হয়ে আরো একজন অসহায় কর্মঅক্ষম মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই তীব্র শীতের আমেজটা ধনীদের কাছে উপভোগ্যই বটে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে মোটা কম্বল গায়ে চাপিয়ে সুখ নিদ্রায় তারা রাত্রি যাপন করে। সকাল হলে পোশাক জড়িয়ে সোফায় বসে গরম চায়ের কাপে চুমুক দেয় আর সংবাদপত্রে চোখ বুলায় কতই না আরামদায়ক জীবন তাদের।অথচ যারা রাত কাটায় খোলা আকাশের নিচে, কী নিদারুণ কষ্ট তাদের শীত নিবারণের জন্য সামান্য শীতবস্ত্র পায় না তারা প্রচণ্ড শীতের রাতে ঠক ঠক করে কাঁপতে থাকে অসহায় মানুষগুলো তাদের কাছে শীত আসে কষ্ট বাড়িয়ে দিতে।যে মানুষগুলো আহার জোটাতে পারে না গরম পোশাক তাদের কাছে স্বপ্ন বৈকি।

আজ রাস্তার পাশে কত শিশু আছে তারা জানে না তাদের পরিচয় জন্মের পর বাবা-মায়ের স্নেহ ভালোবাসা থেকে তারা বঞ্চিত। হাড় কাঁপানো শীতের রাতে মায়ের বুকের উষ্ণতা পেলে শিশুদের কিছুটা হলেও কষ্ট লাঘব হয়। অথচ এ মধুর স্পর্শ তারা কখনো অনুভব করেনি।
অসহায় সম্বলহীন, আশ্রয়হীন এমন মানুষের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়।
কিন্তু তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো লোকের বড় অভাব সমাজের বিত্তবান মানুষেরা সুখ স্বপ্ন বিভোর নিজেদের বিলাস দ্রব্যের পিছনে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করলেও এটুকু ভাবে না যে, তাদের সামান্য অনুগ্রহে কারো বস্ত্রের সংস্থান হতে পারে। দারিদ্যক্লিস্ট মানুষেরা দু ‘বেলা দু ‘মুঠো খাবার খেতে পারে কোন অনাথ শিশুর মুখে হাসি ফুটতে পারে।তারা নিজেদের চিন্তায় ব্যস্ত। অপরের কল্যাণে ব্যয় করার মতো সময় কোথায়?
শীত মৌসুমে দরিদ্রদের কষ্টের সীমা নেই,থাকে না তাদের প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র সমাজের ধনী শ্রেণী যদি তাদের পাশে দাঁড়াত, বাড়িয়ে দিত সহমর্মিতার হাত, তবে শীতে কাতর মানুষগুলো হিমের পরশ থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারত।
সচেতন মানুষ হিসাবে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে।যেগুলো পালন করে আমরা ও জনকল্যাণে অংশ নিতে পারি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে পারি নিরন্ন মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে পারি পথ শিশুদেরকে স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে তাদের ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করতে পারি তাদের লেখাপড়ার সুব্যবস্থা করতে পারি তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারি।

Comment

Share.

Leave A Reply