হোস্টেলের কান্না

0

বাশিরুল আমিন ::

খুব-ই কম বয়সে ঘর ছাড়ি। শৈশবেই হোস্টেলবাস। মায়ের জন্য কান্না করতাম, বাড়ি পালানোর রাস্তা খুঁজতাম। অচেনা কারো মৃত্যুর এলানে চোখে নামতো জলের ফোয়ারা। বোর্ডিংয়ের ডাল দেখে কাদতাম, বিকেলে খেলতে যেতে না পেরেও কান্না আসতো। কেঁদেকেটে সন্ধ্যা রাতেই চোখে নামতো রাজ্যের ঘুম। পড়তে বসলেই ঝিমুনি।
ডেস্কে মাথা রেখে কখনোবা ডেস্কের নিচে লম্বা হয়ে থাকতাম, ঘুমাতাম। প্রায়শই হোস্টেল সুপারের হাতে ধরা খেয়ে বেত খেতে হতো এর জন্য। তখন ভাবতাম- ইশ্, না ঘুমিয়ে যদি একটি রাত কাটাতে পারতাম। বাড়ির কথা আর একটি বারের জন্যেও মনে না আসতো, কারো মৃত্যু যদি আমাকে বিচলিত না করতো!

ইচ্ছেগুলি পূরণ হয়েছে আমার। সন্ধ্যা রাতে আর ঘুম আসে না, রাত কেটে যায়। ভোর আসে নির্ঘুম। কারো জালিবেত পিঠে পড়ে না। কান্না ভুলে গেছি বহুদিন, কারো মৃত্যু আর আমাকে ছোঁয় না। আমি রাতগুলি চায়ের কাপে চুমুকে চুমুকে খরচ করে ফেলি ভাউচারহীন, আর কবিতা লিখি-
উষ্ট্রীর হাওদায় জন্ম আমার
মরু যাযাবার, নিরাবেগি হাবিল।

Comment

Share.

Leave A Reply