যুগের ইমাম বোখারি আল্লামা শায়খ শিহাব উদ্দীন দা.বা.’র জীবন ও কর্ম

0

মাওলানা তালেব উদ্দীন শমসেরনগরী ::

সর্বমহলে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধেয়, উপমহাদেশের অন্যতম হাদীস বিশারদ, বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের প্রথম দিন থেকেই শায়খুল হাদীসের মসনদে স্বমহীমায় আসীন, অর্ধশতাব্দিকালব্যাপী জামেয়া রেঙ্গায় বুখারী শরীফের দরস প্রদানের বিরল কৃতিত্বের অধিকারী, শায়খুল মাশায়েখ, শায়খুল হাদীস আল্লামা শায়খ শিহাব উদ্দীন দাঃ বাঃ একটি নাম; একটি ইতিহাস, একটি প্রেরণা। আলোর দিশারী, চেতনার বাতিঘর। জীবনের প্রতিটি ধাপে ধাপে যার রয়েছে ঈর্ষণীয় সাফল্য। খেদমতে খালকে দৃঢ়প্রত্যয়ী, নিরলস পরিশ্রম, অদম্য স্পৃহা অসীম সাহস, বৈচিত্র্যময় গুণাবলী সম্পন্ন এক বিরল ব্যক্তিত্ব। অসাধারণ প্রতিভা, ব্যতিক্রমী কর্মস্পৃহা, বহুমুখী প্রতিভার, অত্যান্ত বিচক্ষণ, জ্ঞানী, বাগ্মী, আধ্যাত্বিক কামালতের মুর্তপ্রতীক , ইলমের গভীরতা ও তায়াল্লুক মা’আল্লার ঝান্ডাবাহী। উস্তাজুল আসাতিজা ওয়াল মুহাদ্দীসীন, বহুমাত্রিক বিশাল সাফল্যমন্ডিত কর্মময় জীবনের অধিকারী। স্বমহীমায় উজ্জল সত্যিকারের নায়েবে নবী। চিরশাশ্বত জোতির্ময়তায় আপ্লুত, অনুস্বরণীয়, আমার মুহতারাম উস্তায, সাদাসিধে জীবনের অধিকারী পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।

জন্ম : সবুজ বাংলার সিলেট জেলার অন্তর্গত, পুণ্যবানদের অন্যতম ঘাটি খ্যাত কানাইঘাট থানার ৫ নং চতুল ইউনিয়নের পর্বতপুর নয়াফৌদ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত দ্বীনদার পরিবারে মরহুম আলহাজ্ব ক্বারী মাও. নিসার আলী রহ. ও আলেমা মহিয়সী নারী মরহুমা মোছা. আয়েশা বেগম রাহ. এর ঔরশে ১৩৫৫ বাংলার মাঘ মাসে মোতাবেক ১৯৪৮ ইং সালের সোমবার ১২ রবিউল আউয়ালে সোবহে সাদিকের সময় (অবশিষ্ট সন- তারিখ বের করতে পাঠক মহলের সহযোগীতা চাই) এই মহান মনীষী প্রকৃতির কোলে সবুজঘেরা এক নিবিড় পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন। মানুষ মানুষের কাছে অচিনভাবে আসে আপন চরিত্রগুণে সকলের চোখে ভাসে অপরুপ নিসর্গশোভা মায়াবী পরিবেশে শৈশবের সোনাঝরা দিনগুলো তিনি অতিক্রম করেন। মুুক্ত আবহাওয়ায় বেড়ে উঠেছেন বলে বাল্যকাল থেকেই তাঁর চিন্তা-চেতনা এক অসম ব্যাপ্তি লাভ করে। পিতা-মাতার স্নেহছায়ায় থেকে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের কঠিন পাঠগুলো সহজেই আত্মস্থ করে নেন। শিশুকাল থেকেই তাঁর সত্তায় লুকিয়ে ছিলো দ্বীনে ইলাহীর তীব্র তৃষ্ণা। আরাধ্য ইবাদতে ছিলেন অনুস্বরণীয়।

সময়ের সর্বাধিক আলোচিত একটি নাম। সর্বসাধারনের জন্য ছায়াদার একটি বটবৃক্ষ। একটি অবিস্মরণীয় ইতিহাস। পুর্ণতার প্রতিচ্ছবি, একটি চেতনা। এ শতাব্দীর কিংবদন্তীতুল্য মহাপুরুষ। একটি গণবিপ্লব, প্রকৃত মুমিনের জন্য একজন অবিসংবাদিত যোগ্য রাহবার। সহজ সরল, উদারমনা, নিরহংকারী হযরত শায়খ গণমানুষের শান্তির ঠিকানা। তার মুহতারাম পিতা ছিলেন হাকিমুল উম্মত হযরত থানভী রহঃ’র হাতে বাইআত। আবালবৃদ্ধবণিতা, নারী-পুরুষ সবার কাছে তিনি দেওবন্দী নামে ছিলেন পরিচিত। শায়খের পিতা উচ্চশিক্ষার জন্য দেওবন্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তিনি দেওবন্দ থাকাবস্থায় তার পিতা, শায়খের দাদা মারা যান দেওবন্দ থেকে উচ্চশিক্ষার সম্পন্ন করে ইলমুল কিরাআত বিভাগে ভর্তি হয়ে কিরাতে সাবআ আসারার ডিগ্রী অর্জন করেন। তার পিতা শায়খকে ছোট অবস্থায় আনুমানিক ৭ বৎসর বয়সে বাড়িতে রেখে তার হাতে ভাংতি সিকি জাতিয় টাকা দিয়ে চট্রগ্রাম হইতে পানির জাহাজ যোগে সাড়ে তিন মাসে ১৪০০ টাকায় হজব্রত পালন করেন। হজ্বশেষে বাড়ীতে আসার মুহুর্তে বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে শায়খ বিচলিত হন। অবশেষে আল্লাহর রহমতে তিনি সহিহ সালামতে ফিরলে তাকে নৌকাযোগ দরবস্ত বাজার থেকে এসে বাড়ীতে নিয়ে যান। শায়খের মুহতারামা মাতা সাংসারিক কাজকর্মের ঝামেলা সত্বেও নিয়মিত তেলাওয়াত, তরজমায়ে কোরআন ও অন্যান্য উর্দু কিতাবাদী নিয়মিতভাবে মোতাআলা-অধ্যয়ন করতেন। শায়খের মাতা-পিতা বারবার স্বপ্নযোগে রহমতে আলম, নবীয়ে আকরম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দেখেছেন। শায়খ সম্পর্কে ও তারা অনেক গুরুত্বপুর্ণ স্বপ্ন দেখেন।সে সব স্বর্ণপুরুষের স্বপ্নিল প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠেন আধ্যাত্বিক জগতের সুর্য, মফাক্কিরে ইসলাম, উম্মাহর দুরদর্শি দরদী রাহবার আল্লামা শায়খ শিহাব উদ্দীন দাঃ বাঃ। শায়খের পিতা আজ থেকে ৩০ বৎসর আগে ৭৫ বৎসর বয়সে ১৯৮৭ ইং সালের ২৭ ডিসেম্বর ৯৪ বাংলার শুক্রবার সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটের সময় ইন্তেকাল করেন এবং তার মাতা ৮৫ বৎসর বয়সে আজ থেকে ৭ বৎসর পুর্বে ইন্তেকাল করেন। শায়েখ তার আব্বা ও তিন চাচার মধ্যে তিনি তার পিতা ও হাজী চাচাকে পেয়েছিলেন, দুই চাচা শায়খের জন্মের পুর্বেই মৃত্যু বরণ করেন। শায়খের দাদা হাজি আহমদ আলী রহঃ দাদী মোছাঃ মফুরা বিবি রহঃ উভয়ই ১২০ টাকা করে সে সময় হজব্রত পালন করেন। শায়খের একমাত্র ফুফুকে তিনি জীবিতাবস্থাথায় পেয়েছিলেন।

চলবে…

 

Comment

Share.

Leave A Reply