প্রসঙ্গ : ভিন্ন মত এবং অশালীন শব্দচর্চা

0

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ ::

বিষয়টি নিয়ে সবারই কথা বলা উচিত। আমি সাময়িক বা চলমান কোন বিষয় নিয়ে কেবল কথা বলছি না বরং দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে দেখে আসা একটি বিষয় নিয়ে চিন্তাশীল তরুণদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাচ্ছি। যে বিষয়টি কেবল আমাকে নয় বরং সুস্থ মস্তিস্কের সবাইকে গভীরভাবে ভাবায়।

সম্প্রতি অনলাইনে পারস্পারিক নানান বিষয়-আশয় নিয়ে লক্ষণীয় হারে “গালিগালাজ” বেড়ে চলছে। এটা আর্দশিক তরুণদের হাতিয়ার হতে পারে না। গালি বা অশালীন শব্দের ব্যবহার ওয়ারাসাতুল আম্বিয়াদের মুখের ভাষা হতে পারে না। মতের উল্টো হলেই উস্তাদতুল্য বুর্জুগ হোন বা যেই হোন না কেন, অশালীন ভাষায় নগ্ন আক্রমণ থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছেন না। কেউ উস্কে দিলেই কোন প্রকার যাচাই-বাচাই ছাড়া আমরা ঘৃণিত শব্দ প্রয়োগে হামলে পড়ি।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সুলেখক রশীদ জামীল একবার লিখেছিলেন, ‘আমি জানি না গালির সবক আপনারা কোথায় নিয়েছেন? কওমিতে তো অবশ্যই নয়। আমার জানামতে, কওমি মাদরাসাগুলোতে গালি-গালাজের কোনো চর্চা হয় না। তাহলে কোন কাননের ফুল আপনারা?

আচ্ছা, যেই কাননেরই হোন, আপনারা আপনাদের আঙিনায় কথা বলুন। কারো মতের সাথে দ্বিমত হলে, সমালোচনা করুন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করুন। কোনো গালিবাজ কওমি প্রজন্মে অতীতে ছিল না। হতেও পারে না। একজন তার কথা বলছে। ভিন্ন মত দিয়েছে। ভালো লাগলে ভালো। না লাগলে আপনি আপনার মতামত লিখুন। আপনি আপনার মত লেখালেখি করুন। কেউ তো বারণ করেনি। গালিগালাজ করে বংশ মর্যাদা জানান দেয়ার তো দরকার নেই।’

যে কারো যে কোনো বক্তব্য আপনার কাছে অঠিক মনে হলে কেনো অঠিক, ব্যাখ্যা করতে পারেন। পাল্টা বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন। কিন্তু চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করা, এটা কোন ক্যাটাগরির ভদ্রতা? একজন আলেম বা নায়বে-নবী কিংবা নবীর বাগানের ইলমে ওহীর ত্বালাবা হয়ে, যদি বস্তির মেথর বা ডুমের মতো অশালীন ভাষা ব্যাবহার করেন, তখন সাধারণ মানুষের কাছে কওমি মাদরাসা ও আলেম-উলামা নিয়ে কি ম্যাসেজ পৌছবে?

তার মানে এই নয় যে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যাবে না। অবশ্যই যাবে। করা উচিত। তবে প্রতিবাদের ভাষাটা শালীন হওয়া দরকার। যেই হন, যে কোনো কথার পাল্টা কথা খাড়া করার অধিকার যে কারো আছে। কিন্তু কথা তো কথার ভাষায় হওয়া দরকার।

অনলাইনে অনেকগুলো পরিচয়ের মধ্যে একটা হল ‘বেয়াদব তৈরির কারখানা’, এটা জানি। কিন্তু আদব-আখলাকই তো কওমির মূল সম্পদ। এটাও যদি বিসর্জন দেয়া হয়ে গেল, তাহলে আর বাকি থাকলো কী!’

আমাদের তরুণরা গালি-গালাজের নষ্ট সবক বা এই ভাষায় কথা বলার তালিম কোথা থেকে পেল? কাদের কাছ থেকে পাচ্ছে! বিষয়টি নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে নতুন করে। কওমি অঙ্গনের কোন উস্তাদ, শায়েখ বা মুরুব্বী কস্মিনকালেও তার কোন শিষ্যকে মুহুর্তের জন্য এই অনৈতিক শিক্ষা দিতে পারেন না। তা কল্পনাও করা যায় না। তাহলে এই গালিবাজ প্রজন্মের নাটেরগুরু কারা তাদের চিহ্নিত করতে হবে। নতুবা কওমিয়ানদের জন্য সামনের দিনগুলো খুব সুখকর নাও হতে পারে।

যারা গালির ভাষায় বা গালিগালাজ ও ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে, বড়দের নিয়ে সবসময় কথা বলে, তাদেরকে বয়কট করে চলা যেখানে প্রয়োজন ছিল সচেতন আলেমদের, সেখানে আশঙ্কার কথা হল এবং লক্ষণীয় যে, যাদেরকে কওমি অঙ্গনের চিন্তাশীল তরুণ মনে করা হয় তাদেরও কেউ কেউ নানান স্থানে ম্যানশন করে সময়ে সময়ে ভিন্নমতকে ঘায়েল করতে দাওয়াত দিয়ে এই ‘গালিবাজ অসুস্থ চিন্তার তরুণদের’ মাঝে মধ্যে উৎসাহিত করতে দেখে অবাক হতে হয়। এবিষয়টি যে আমাদের অঙ্গনের জন্য কতোটা ভয়াবহ ক্ষতি ও পদস্খলন ডেকে আনছে তা একটু অনুভব করা কি আমাদের উচিত নয়?

মিথ্যা উস্কানি দিয়ে অসত্যের বাস্প ছড়িয়ে, জর্ঘন্য গালিগালাজ ভাইরাল করে সাময়িক মাট গরম করা যায়, সহজ সরল ছাত্র আর বুর্জুগদের শাপলাচত্বরের মতো ধোকা দিয়ে বোকা বানিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করা যায়, এটা যেমন সত্য, তার চেয়ে কঠিন সত্য হল, ‘ইতিহাস থেকে ক্ষমা পাওয়া ও ময়দানে মাহশরে আল্লাহর আদালত থেকে নিজেকে বাঁচানো যাবে না।’

Comment

Share.

Leave A Reply