শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী রায় বাহাদুর ইনস্টিটিউশন; অপসংস্কৃতি থেকে মুক্তি চাই

0

মুহাম্মদ ইয়ামিন ::

মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখানের শেখর নগর একটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের অনেক ইতিহাস রয়েছে যা জনমনে খুব পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধ থেকে নিয়ে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক বৈপ্লবিক ঘটনা আছে ঐতিহ্যবাহী এ শেখরনগরে। এখানে পাক হায়েনারা মানুষের উপর অত্যাচার করেছে। অত্যাধিক জুলুম-নির্যাতের শিকার হয়েছে মাজলুম জনগণ। পাক হানাদাদের বর্বরতা সহ্য করতে না পেরে মুক্তিবাহিনীতে যুক্ত হন এ ইউনিয়নের অনেকে। আবার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সাহায্যও করেছেন শেখরনগর নিবাসীরা।

শিক্ষা, প্রগতি, অগ্রগতি, ধর্মীয় কৃষ্টি-কালচার সব কিছু দিয়েই যেন শেখরনগর ইউনিয়ন অন্যান্যদের থেকে এগিয়ে। তবে দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজ বলতে হচ্ছে- অপসংস্কৃতির প্রভাবটাও যেন অনেক বেশি। এখানে পুরোদমে চলছে এর চর্চা। বৈশাখী উৎসব, কালীপূজা, দূর্গাপূজা নৌকা বাইচ, দশমী, কালী খোলার মেলা, মঙ্গল শোভাযাত্রা, নিউইয়ার, থার্টি ফার্স্ট নাইট এসব উৎসব দিয়ে শেখরনগর মুসলমানরাই যেন জড়িয়ে গেছে সবচেয়ে বেশি! এগুলো যাদের ধর্মীয় আরাধনার উপায় তারা এসব করতেই পারে, মুসলমান সেখানে অংশগ্রহণ না করলেই হলো কিন্তু শেখরনগরে মুসলমান যখন এগুলোর উদ্যোগতা হয় তখন অনেকেরই মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরে।

রায় বাহাদুর বিদ্যালয়ের একশ বছরপূর্ণ হলো এ বছরেই। ২০১৮ থেকে ২০১৯। একেবারে কাটায় কাটায়। শত বছরে পৌঁছে যাওয়া এমন বিদ্যাপীঠের সংখ্যা খুব কমই আছে এ অঞ্চলে। তাই অধিক সময় ধরে জ্ঞানের আলো প্রসারের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের সবাই রায় বাহাদুর বিদ্যাপীঠকেই চেনে। আজ রায় বাহাদুর বিদ্যালয়ের শত বছরের পুরনো ব্যাচ গুলোর পুনর্মিলনী। তাই এ উপলক্ষে ছাত্রদের মধ্যে সাক্ষাত, মুসাফা-মুয়ানাকা, মেহমানদারী, বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর অগ্রগতি, শিক্ষার মানের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু যখন দেখা যায় পূর্ণমিলীর পুরোটা আয়োজন জুরে অপসংস্কৃতির লীলা-খেলা তখন এ বিদ্যালয় নিয়ে সকলের স্বপ্নটা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পরে। বাকরুদ্ধ হয়ে পরে অনেকেই।

ঐতিহ্যবাহী রায় বাহাদুর বিদ্যালয়কে অপসংস্কৃতি হাত থেকে মুক্ত করতে সকলের একত্রে এগিয়ে আসাই এখন প্রাণের দাবী!

বেঁচে থাক, ভালো থাক! রায় বাহাদুর বিদ্যালয়!
ভেসে যাক, আলো হোক! অপসংস্কৃতির বলয়!

Comment

Share.

Leave A Reply