হিজাব না খোলায় আইনজীবীকে আদালত থেকে বের করে দিলেন বিচারক

0

হিজাব খুলতে অস্বীকৃতির জন্য ইতালির একটি আঞ্চলিক আদালতের কক্ষ থেকে মুসলিম এক আইনজীবীকে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিজের হতাশা ব্যক্ত করেছেন মরক্কোর বংশোদ্ভূত শিক্ষানবিশ আইনজীবী আসমে বেলফাকির।

বোলোগ্নার একটি আঞ্চলিক প্রশাসনিক আদালতে শুনানি চলাকালে বিচারক জিয়ানকার্লো মোজজারেলি মুসলিম আইনজীবী আসমে বেলফাকির’কে তার মাথার হিজাব খুলতে বলেন। অন্যথায় তাকে আদালতের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

সোমবার আনদোলু এজেন্সিকে দেয়া সাক্ষাতকারে আসমে বেলফাকির বলেন, ‘ওই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল আইনজীবিদের সঙ্গে আমিও আদালতের কক্ষে প্রবেশ করি। হঠাৎ বিচারক বলতে শুরু করলেন: ‘আপনি কি খুলতে পারেন?’ তিনি হিজাবের কথা উল্লেখ করেননি এবং আমাকে দিকে তাকানও নি। আমি ভেবেছিলাম তিনি কাউকে তার বা তাদের কোট খোলার জন্য বলছেন। আমি কল্পনাও করতে পারছিলাম না যে তিনি আমাকে বলছিলেন। তারপর আমি তার দিকে তাকালাম এবং বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারলাম। আমি অবাক হয়ে গেলাম এবং তার কাছে জিজ্ঞেস করলাম, আমার হিজাবের কথা বলছেন?’

তিনি বলেন, ‘আমার কথা শেষ হওয়ার পরক্ষণই তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ, আপনি যদি এই আদালতে থাকতে চান, তবে আপনাকে বাধ্যতামূলকভাবে এটি অপসারণ করতে হবে।’

‘আমি জবাবে তাকে বলেছিলাম, ‘আমি এটা খুলতে যাচ্ছি না। আমি বাইরে যাচ্ছি।’ বলেন আসমে বেলফাকির।

তিনি জানান, বের হওয়ার জন্য যেই মাত্র তিনি দরজা খুলেছিলেন, সেই মুহূর্তে বিচারক উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই এটি করা হয়েছে।’

মুসলিম এই আইনজীবী বলেন, ‘এই প্রেক্ষাপটে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে বিচারকের মন্তব্য শুনেই সত্যিই আমার কাছে খুবই খারাপ লেগেছিল। শিক্ষানবিশ হিসেবে আমি সেখানে কেবল শিখতে গিয়েছিলাম- কিভাবে আইনের প্রয়োগ করা উচিত। আমার ধর্মের কারণে আমাকে অপমান করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত আমি জানি না।’

‘আমি সেই বিচারক সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছি; তার কার্যবিবরণী এবং তার ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা। আমি নিশ্চিত যে সে আর কখনো কাউকে তার হিজাব খুলে ফেলার জন্য বলবেন না, কারণ হিজাব পরিধানের মাধ্যমে কেউ তার সংস্কৃতিকে অপমান করছে না।’, বেলফাকির বলেন।

বেলফাকির বলেন, বিচারকের জানা উচিত যে কেন তিনি হিজাব পরিধান করেছেন এবং এটি বিচারিক শুনানি বা শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে তার দক্ষতাকে প্রভাবিত করছে না।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি অন্যদের নেতিবাচক ভাবে প্রভাবিত করছে না। তাই এই ক্ষেত্রে, আইনের উচিৎ হবে মানুষকে ও তাদের ধর্মের স্বাধীনতা রক্ষা করা।’

Comment

Share.

Leave A Reply