উলামায়ে কেরাম সমীপে…

0

লিসানুল হক শাহরুমী ::

লেখাটি হালকা দীর্ঘ হলেও এক নিশ্বাসে পড়ে নিতে পারেন৷ হয়তো কিছু পেয়েও যাবেন৷ একদল আওয়াম মুবাল্লিগের চোখে আলেম মানে যারা তাবলীগের সাথে জড়িত৷ বাকি সমস্ত আলেম তিন চিল্লাদাতা আওয়ামের চেয়ে নিকৃষ্ট৷

একদল আওয়াম মুবাল্লিগের ধারণা হলো একমাত্র দাওয়াতই নবীওয়ালা কাজ৷ আর যতো আলেম মাদরাসা, মসজিদ, লেখালেখি, বয়ান ও জিহাদের ময়দানে আছেন তারা সবাই গরু চরাচ্ছেন৷

একদল আওয়াম মুবাল্লিগের ধারণা হলো, তিন চিল্লা দিলে যে কোনো আলেমের সাথে তর্ক করা যায়৷ যে কোনো আলেমকে তুচ্ছ করা যায়৷

প্রশ্ন হতে পারে একরামুল মুসলিমীন শেখার পর তারা এই উল্টো জ্ঞান কোথা থেকে নেয়?
এই উল্টো জ্ঞান তারা লাভ করে নিয়মিত তাবলীগের সাথে জড়িত একদল আলেমের কাছে৷ অবশ্য সবাই নন৷ ওই আলেমরা আওয়াম মুবাল্লিগদের সামনে একরামুল মুসলিমীনের ব্যাখ্যায় আলেমদের সম্মানের কথা বলতে গিয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন مانع عن دخول الغير হয়৷

দাওয়াত ও তাবলীগের ময়দানে মুতাবাহহির আলেম খুব জরুরি৷ এমন মুফতী জরুরি যারা ফতোয়া প্রদানে সমতা রক্ষা করেন৷ এমন মুহাদ্দিস জরুরি যাদের সামনে দাওয়াতের হাদীসের সাথেসাথে অন্যান্য বিষয়ের হাদীসগুলোও থাকে৷ এমন মুফাসসির জরুরি যারা দাওয়াতের আয়াতের তাফসীর ছাড়া অন্যান্য আয়াতের তাফসীরও জানেন৷ এমন সূফী আলেম জরুরি যারা তাযকিয়ায় সূফিয়ায়ে কেরামের হাতে বায়আত গ্রহণ করে যিকিরের সবক দেন৷

এমন কিছু আলেম থাকা জরুরি যারা যুবকদেরকে বছরের পর বছর চিল্লায় যুক্ত না করে দ্বীনি তালিমের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন৷ এভাবে দ্বীনের সব বিষয়ের সমন্বয় না হলে একসময় দাঈ মনে করবে একমাত্র দাওয়াতই দ্বীন৷ অথচ দ্বীন মানে পূর্ণাংগ জীবনবিধান৷

আমরা দাওয়াতের সাথে জড়িত সেই নাহবে মীরের বছর থেকে৷ কখনো চব্বিশ ঘণ্টা থেকে এক চিল্লা পর্যন্ত দেয়ার সুযোগ হয়েছে৷ তাতে এমন কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি যা বর্ণনার ভাষা আমার কাছে নেই৷ কিন্তু মুসলমানকে তাচ্ছিল্য করার জ্ঞান আমি শিখিনি৷ তাই আজীবন সহনশীলতার সাথে কাজ করার চেষ্টা করেছি৷

উলামায়ে কেরামের প্রতি অধমের সবিনয় অনুরোধ নিয়মিত হোক অনিয়মিত হোক কিছু সময় দাওয়াতের কাজে দিন৷ সাধারণ মুসলমান তখন দ্বীনদারের সুরতে গোমরাহ হবে না৷ “দ্বীনদারের সুরতে” গোমরাহ কাকে বলে তা বুঝতে আল্লামা আব্দুর রহমান ইবনুল জওযী রহ এর “তালবীসে ইবলীস” কিতাবটি সাথে রাখতে পারেন৷৷

Comment

Share.

Leave A Reply