দু’একজন বিপথগামী চলে যাওয়ায় জমিয়তের কোনো ক্ষতি হবে না : আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন

0

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন বলেছেন- আকাবিরের রাজনৈতিক কাফেলা জমিয়ত তার মূল গতিপথেই আছে। আদর্শ এবং সংবিধানকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে জমিয়ত। দলে কোনো ভাঙ্গন হয় নি উল্লেখ করে তিনি বলেন- জমিয়ত কোনো ব্যক্তিবিশেষের উপর নির্ভরশীল নয়। দু’ একজন বিপথগামীর চলে যাওয়াতে জমিয়তের কোনো ক্ষতি হবে না। জমিয়ত আকাবিরের প্রতিষ্ঠিত একটি মকবুল সংগঠন। যারাই এটাকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করবে, এরা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

১৩ জানুয়ারি শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শায়খ জিয়া উদ্দিন এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন- মুফতি ওয়াক্কাস সাহেবকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর প্রতি সামান্যতমও জুলুম করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণের পর সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় প্রথমে সদস্যপদ স্থগিত করা হয়, এরপর শোকজ করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বহিষ্কার করা হয়। আকাবিরের এ আমানতকে ফিতনার হাত থেকে রক্ষা করতে তাঁকে বহিষ্কার করা ছাড়া বিকল্প পথ ছিলো না উল্লেখ করে তিনি বলেন- মুফতি ওয়াক্কাস এখন জমিয়তের কেউ নন। নতুন কোনো দল বা উপদল গড়লে এটা তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। জমিয়তকে এর সাথে জড়ানোর অধিকার তাঁর নেই। জমিয়ত ভুঁইফোড় কোনো সংগঠন নয়। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত একটি দল। নির্বাচন কমিশনের রেকর্ডে জমিয়ত সভাপতি হিসেবে আল্লামা ইমামবাড়ি এবং সেক্রেটারি হিসেবে আল্লামা কাসেমির নাম লেখা আছে। দেশের মানুষও এই দুইজনকেই জমিয়তের মূল কান্ডারী বলে জানে। সুতরাং এঁদের নেতৃত্বেই জমিয়ত চলবে। যাঁরা আকাবিরের জমিয়ত করেন, এঁরা খলিফায়ে মাদানির সাথেই থাকবেন। আর যারা কোনো ব্যক্তির দল করে, তাঁরা এদিক সেদিক যেতেই পারে। এ নিয়ে প্রকৃত জমিয়তকর্মীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
সমঝোতা প্রসঙ্গে আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন বলেন- সমঝোতার সকল চেষ্টাই আমরা করেছি। বারবার উনার সাথে বৈঠক করেছি। শেষ পর্যন্ত আমাদের সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া আমরা পাইনি। বারবার আলোচনার পর আমাদের মনে হয়েছে মুফতি সাহেব দলের স্বার্থেরচে’ তার ব্যক্তিস্বার্থকেই বড় করে দেখছেন। হয়তো দল ভাঙ্গার জন্য তিনি বিশেষ মহলের এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছেন।
শায়খ জিয়া উদ্দীন বলেন ক্ষমতার লোভে মুফতি সাহেব শিষ্টাচারজ্ঞান পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছেন। শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্য জনসভায় ইমামবাড়িসহ সকল মুরব্বিকে পাগল বলে আখ্যায়িত করলেন। খলিফায়ে মাদানির সাথে এরকম আচরণের পরিণাম ভালো হবে না। অবিলম্বে মুফতি ওয়াক্কাসকে আল্লামা ইমামবাড়ির কাছে ক্ষমা চেয়ে আল্লাহর কাছে তাওবা করার আহবান জানান আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন।

Comment

Share.

Leave A Reply