দেওবন্দের মতামতেই বাংলাদেশ অাসছেন মাওলানা সাদ!

0

ইজতেমায় মাওলানা সাদ সাব দা.বা. অাসবেন, এটাই স্বাভাবিক। অনেক পানি ঘোলা করা হচ্ছে। জেনেশুনেও অনেকে বিতর্ক তৈরী করার চেষ্টা করছেন। অামরা সব দেখেও চুপ করে অাছি। কারণ কবি বলেছেন, উত্তম জবাব হলো চুপ থাকা অাসলে মাওলানা সাদ সাবকে নিয়ে সমস্যা কী? যদি বলা হয় তার কিছু বক্তব্যে সমস্যা অাছে, তাহলে বলবো, তিনি চিঠি দিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন। তাহলে কি দেওবন্দ এ চিঠি পেয়ে সন্তুষ্ট? না, দেওবন্দ সন্তুষ্ট হতে পারেনি।
দারুল উলুম দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ বলেছেন, যেহেতু সাধারণ মানুষের মজমায় ভুল বক্তব্য দেয়া হয়েছিল, সে ভুলের ক্ষমাও প্রকাশ্য মজমায় চাইতে হবে।
গত ২৫ ডিসেম্বর তাবলিগের বিশ্ব মারকাজ নিজামুদ্দীনের মিম্বরে মাওলানা সাদ তার বিতর্কিত বক্তব্যগুলো থেকে প্রকাশ্য রুজু করেছেন। এখন আর তার বক্তব্যকেন্দ্রিক কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। বাকি তাবলিগের বিবাদমান দুটি পক্ষের কোনোটির সঙ্গেই দেওবন্দের কোনো সম্পর্ক নেই। তাহলে এখন জলঘোলা করা হচ্ছে কেন? মাওলানা সাদ সাব অাসলে তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে সকলকে গোমরাহ বানিয়ে ফেলবেন? যে পরিস্থিতি দাড়িয়েছে মনে হচ্ছে, সাদ সাব নিয়মিত গোমরাহীর দাওয়াত দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য শুনে মানুষ দলে দলে গোমরাহ হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি যদি এমন হয়, তাহলে দারুল উলুম দেওবন্দ ভারতে তাঁর বয়ানাত বন্ধের ব্যবস্থা নিচ্ছেননা কেন? মার চেয়ে মাসির দরদ বেশী বলে একটা কথা অাছে, সেটাই এখন দেখা যাচ্ছে। অাসলে বিষয়টি এখন অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে গেছে। সমস্যাটা মূলত নিজামুদ্দীনের মারকাজিয়াত নিয়ে। কারণ গত সপ্তাহে যাত্রাবাড়ীতে ইজতেমার দেশীয় ফায়সালার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এটি নতুন কোন সিদ্ধান্ত নয়। রাইবেন্ড ইজতেমায় গৃহীত ফায়সালাগুলোর এটি ৮ নং সিদ্ধান্ত। মাওলানা সাদ বিগত বিশ বছরে কয়েকটি ভুল বক্তব্য দিয়েছেন। যতগুলো বক্তব্যে অাপত্তি তোলা হয়েছে, এগুলো ২০১৬ সনে এসে তিনি বলেননি। ২০০০ থেকে এসব শুনে অাসছি। পিত্রস্নেহে দেওবন্দ সময়মত সতর্ক করেছে। ছেলেও তা মেনে নিতে অবাধ্য হয়নি।
অাজকে যারা মাঠগরমের চেষ্টা চালাচ্ছেন, তারা কি দেওবন্দ থেকে অাদিষ্ট হয়ে এমন করছেন? অামরা স্পষ্ট ভাষায় বলছি, গত ২৫ ডিসেম্বর নিজামুদ্দীনে স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে রুজুর পরও এ দেশে যারা চেঁচামেচি করছেন, তারা দেওবন্দের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাবলীগের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখন দুটি ভাগ হয়ে গেছে। বিষয়টি অামাদের জন্য সুখকর না হলেও এটিই বাস্তবতা। মাওলানা সাদের ব্যাপারে দেওবন্দের অাপত্তিকে অনেকে তার বিপক্ষ গ্রুপের দলিল হিসেবে দেখিয়েছে। জোরেশোরে প্রচারণা চলছিলো, দেওবন্দ শুরার পক্ষে। এমনই সময় ইনসাফের মূর্ত প্রতীক দেওবন্দ স্পষ্টভাবে ঘোষনা করেছে, তাবলীগের কোন পক্ষের সঙ্গেই অামরা নেই। মূলত দারুল উলুম পিতার ভূমিকা সঠিকভাবেই পালন করছে। বিবাদমান উভয় পক্ষই দেওবন্দের সন্তান। কিন্তু পারিবারিক এ ঝগড়াকে এ দেশীয় কিছু মানুষ হক- না হকের লড়াই বানাচ্ছে। এটিই বঙ্গীয় সমস্যা। অামরা সামান্য বিষয়কে অসামান্য করে তুলতে খুবই দক্ষ। মনে পড়ে থানবী- মাদানী ইখতেলাফের সময় এ দেশ থেকেই মাদানী র. এর কুফুরীর উপর ফতোয়া দেওয়া হয়েছিলো। অাজকে মাওলানা সাদকে শুধুই হিংসার বশবর্তী হয়ে যেভাবে ইজতেমায় অাসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, এর বিপরীত তিনি যে হুসাইনী দৃঢ়তা দেখাচ্ছেন, এটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।
হযরত শাইখ যাকারিয়া রহ. লিখেন, মাওলানা ইউসুফ সাব রহ. অনেক সিদ্ধান্তে এতটাই অটল থাকতেন, অামার সুপারিশও শুনতেননা। বিষয়টি অামার কাছে অনেক সময় খারাপ লাগতো, কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যেতো তার সিদ্ধান্তই যৌক্তিক ছিলো। তখন বুঝতাম এতো দৃঢ়তার সঙ্গে কেন সে অটল থাকতো। মনে পড়ে কারবালার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করার সময় হযরত হুসাইন রা. এর কথা। অনেক বড় বড় সাহাবী রা. তাঁকে তখন নিষেদ করেছিলেন। কিন্তু হুসাইন রা. সে দিন অটল ছিলেন। কারবালা প্রান্তরে শীর দিলেন, তবুও অবৈধ জালিমশাহীর সামনে মাথানত করেননি। যুগে যুগে এভাবেই জাতির দিশারীগণ দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। ইতিহাস সাক্ষী, এ দৃঢ়তাই দীনের মিশনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছে। অাজকে হযরতজী রহ. এর পৌপুত্র যে দৃঢ়তা দেখাচ্ছেন, এটি ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। নিন্দুকরা নিন্দা করবেই, কিন্তু ইতিহাসে এক সময় লেখা হবে, ২০১৭ সনে হযরতজী ইউসুফ রহ. এর নাতী যদি মাথানত করতেন, তবে তাবলীগের বিশ্বব্যাপী কাজ লন্ডভন্ড হয়ে যেতো।

মাওলানা সাদকে ঠেকাতে কিছু মানুষ সরকারের কাছে যে নতজানু হয়েছে, ইতিহাস এটিও মনে রাখবে।
চলমান এ লড়াইয়ে মাওলানা সাদ সাব যদি জিতে, তাহলে হয়তো শুধু ও তাঁর সঙ্গের লোকেরা জিতবে। কিন্তু মাওলানা সাদ সাব যদি হেরে যান, গোটা তাবলীগটাই হেরে যাবে।

ওসামা বিন’র ফেসবুক টাইমলাইন থেকে

Comment

Share.

Leave A Reply