বাংলাদেশের তাবলিগী গুরু দিল্লির কেনো?

0

তারেকুল ইসলাম ::

বাংলাদেশে তাবলীগের গুরু দিল্লির কেন? এই প্রশ্ন তোলা এখন অধিক জরুরি। আমাদের দেশে তাবলীগের কেন্দ্রীয় গুরু ও নিয়ন্ত্রক হওয়ার মতো যোগ্যতা নিশ্চয়ই এদেশের নেতৃস্থানীয় আলেম-ওলামার আছে। কেন বিদেশি আলেম আমাদের দেশের তাবলীগের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক ও ধর্মগুরু হবেন?

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, একজন বহিরাগত ব্যক্তি কিভাবে এদেশে তাবলীগের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক ও ধর্মগুরু হয়ে ওঠেন!??

একান্তই আমার মতে, তাবলীগের ব্যাপারে আমাদের আলেম-ওলামার এতদিনকার উদাসীনতা, অসচেতনতা ও অবহেলার সুযোগেই সা’দ সাহেবের মতো একজন অহংকারী ও আত্মকেন্দ্রিক ব্যক্তির পক্ষে এদেশের তাবলীগের সমস্ত কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

আমাদের দেশীয় আলেম-ওলামা অনেক অ-নে-ক দেরিতে হলেও আজ তাবলীগ নিয়ে সচেতন হয়েছেন এবং দিকনির্দেশনা সহকারে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এটা সুখকর এবং আশাব্যাঞ্জক মনে করছি। বেটার লেইট দ্যান নেভার।

একজন বহিরাগত সা’দ সাহেবকে ঘিরে ঝামেলাটা সাময়িক মনে করছি। তবুও এটাকে ইস্যু করে পরবর্তীতে ফেতনা ও ফেরকার সৃষ্টি হতে পারে, সেই আশঙ্কা এখনো আছে। তাই, ওলামায়ে কেরামকে আরো সচেতন ও দূরদর্শিতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে এবং সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশে তাবলীগের মূল কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত দেশীয় ওলামায়ে কেরামের হাতে। এখনই এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে যাবতীয় সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিতে হবে।

ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং অ-আলেম ব্যক্তিত্বরা তাবলীগের নেতৃত্বে ও কর্তৃত্বে থাকলে আলেম-ওলামার দিক-নির্দেশনা উপেক্ষিত হবে-এটাই স্বাভাবিক। সেজন্যই আজকে সা’দ সাহেবের মতো একজন বহিরাগত বিতর্কিত আলেমকে সামনে রেখে আলেম-ওলামাকে উপেক্ষা করার স্পর্ধা দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়ছে। তাই, আলেম-ওলামা অতিসত্বর দূরদর্শী ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা আশা করি।

নেতৃত্বের জায়গায় দায়িত্ব নিয়ে আমাদের নেতৃস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম এগিয়ে এলে নিঃসন্দেহে তাবলীগ বিষয়ক সকল ঝামেলা ও ফেরকাবাজি অচিরেই দূরীভূত হয়ে যাবে। ধর্মপ্রাণ জনগণ অবশ্যই ওলামায়ে কেরামের সাথেই আছেন।

Comment

Share.

Leave A Reply