সম্মানিত খতিব সাহেবদের উদ্দেশ্যে…

0

সৈয়দ শামছূল হুদা ::

আজকের জুমআর আলোচনায় দাওয়াত ও তাবলীগ নিয়ে চলমান সংকট কী ও কেন সেটা তুলে ধরুন। বিষয়টি সম্ভব হলে সুন্দর ভাষায় শ্রেুাতাদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরুন। আলোচনা গুছিয়ে বলতে পারলে আলোচনা করবেন, শঙ্কোচবোধ করলে কোন প্রকার আলোচনায় যাবেন না।

আপনারা সাদ সাহেব এর বিষয়টি নিয়ে উলামা হযরতদের আন্তরিকতা, বারবার তাবলীগের মুরুব্বিদের সাথে বসার পরও কেন আজকে রাজপথেই আলেমদের নামতে হলো এই কারণগুলোও তুলে ধরবেন।

একটি বিষয় পরিস্কার তুলে ধরবেন, উলামাদের এই প্রতিবাদ কোন অবস্থাতেই দাওয়াত ও তাবলীগের বিরুদ্ধে নয়, এই মেহনতকে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য নয় বরং দীর্ঘদিন উলামাদের নেতৃত্ব না থাকায় তাবলীগে যে আবর্জন জমা হয়েছে সেটা পরিস্কার করার জন্য।

বিশেষ করে ওয়াসিফ সাহেবের বিশ্বাসঘাতকতার কথা তুলে ধরবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আলেমদের সাথে আলোচনা চূড়ান্ত না করেই এককভাবে তার সাদ সাহেবকে ঢাকায় নিয়ে আসার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াসিফ সাহেবকে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত সমস্যা চলে আসছে, এতদিন উলামাগণ সেটার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ওয়াসিফ সাহেব তার আধিপত্য বিস্তার করার জন্য সে যা খুশি তাই করছে।

আজকের এই বিস্ফোরণ একদিনে হয়নি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সমঝোতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শনের কারণেই হয়েছে। দাওয়াত ও তাবলীগ যদি উলামাদের নির্দেশনার বাইরে চলে তাহলে ক্ষতি হবে এই মেহনতের। সেটা চিন্তা করেই উলামা হযরতগণ হস্তক্ষেপ করেছেন।আপনাদের মেনে নিতে একটু কষ্ট হলেও মেহনতের স্বার্থে উলামাদের মতামতকে সম্মান দিন।

সাদ সাহেব কতটুকু একগুঁয়ে সেটা বুঝার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তিনি ঢাকার পরিস্থিতি জেনেও কূটনৈতিক ভিসায় ঢাকায় আগমন করেছেন। তিনি যে কারো পরামর্শ মানার মতো মানুষ না, সেটা তার ঢাকা আগমন দ্বারায় প্রমাণ হয়। তাঁর মতো গোঁয়ার কোন মুরুব্বি এ পর্যন্ত আসেনি। সে তাবলীগকে তার পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে। তাবলীগে রাজতন্ত্র কায়েমের স্বপ্ন দেখে। তাঁর উগ্র আচরণে দিল্লীর মারকাজ থেকে পুর্বের সকল মুরুব্বিগণ চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পদকে আঁকড়ে ধরে রাখার এই উগ্র মানসিকতা তাবলীগকে বিতর্কিত করছে। বাংলাদেশের আলেম সমাজ এটা মেনে নিতে পারছেন না, ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থায় মুরুব্বিগণ নিরবে চলে গেলেও স্বাধীন বাংলাদেশের উলামাগণ সাদ সাহেবের এই উগ্রতা মেনে নিবে কেনো?

এই মেহনত কোন ব্যক্তিকে খুশি করার জন্য না, একমাত্র আল্লহ ও তাঁর রাসূল সা.কে পাওয়ার জন্য। সুতরাং কাজ চালিয়ে যান। এই মেহনত বন্ধ হবে না ইনশাআল্লাহ। দুয়েকজন মানুষ এর জন্য অপরিহার্য না।

Comment

Share.

Leave A Reply