মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ রাহ.; আফগান রণাঙ্গনে শহীদ হওয়া সন্তানের গর্বিত পিতা

0

ইতিহাসের চাদরে ঢেকে পড়া এক মুজাহিদের গল্প

সে সময় আফগানিস্থানে উরগুনের জামাখোলা পোস্টের উপর মুজাহিদরা অতর্কিত আক্রমণ চালায়। অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় বিজয়ও লাভ করতে সক্ষম হয়। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যে রাশিয়ান ক্যাম্পের দিকে অগ্রসরমান মুজাহিদদের মধ্যে অকস্মাৎ একটি তারের সাথে রহমাতুল্লাহ বাংলাদেশীর পা আটকে যায়। বিকট আওয়াজে মাইন বিস্ফোরিত হয়। তিনি মারাত্বকভাবে আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। তারপর একাধারে আরো কয়েকটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। ফলে বেশ কয়েকজন মুজাহিদ আহত হয়ে পড়ে যান। এক পযায়ে মুজাহিদগণ ক্যাম্পে পৌছে রাশিয়ান ফৌজকে পরাজিত করে ক্যাম্প দখল করে নেয়।

যুদ্ধ শেষে আহত মুজাহিদদের উঠানো হয়। রহমাতুল্লাহ; যিনি কমান্ডার যুবায়েরের দলের মাইনযুক্ত ব্যাড়ায় সর্বপ্রথম আহত হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন, তাকে উঠানোর চেষ্টাকালে একই সময়ে আরও দুটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। এই দুর্ঘটনায় একদিকে আদিল, বখতিয়ার ও দুজন বন্দি মারাত্মক আহত হন, অপরদিকে একটি হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যে, রহমাতুল্লাহ পুনরায় আহত হয়ে শাহাদাতকে বুকে জড়িয়ে নেন…।

শহীদ রহমাতুল্লাহ রাহ.

সবারই পূর্ব থেকে ধারণা ছিল যে, ঐতিহাসিক এ লড়াইয়ে বহুসংখ্যক মুজাহিদ শহীদ হবে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আজকের এই মহাসম্মান বাংলাদেশের ১৯ বছর বয়সী সম্ভাবনাময় তরূণ রহমাতুল্লাহ’র ভাগ্যে লিখেছিলেন।

তিনি ছিলেন ঢাকার এক মহিমান্বিত দ্বীনি ও ইলমী পরিবারের চোখের মণি এবং হৃদয়ের প্রদীপ। তার পিতা জনাব আহমাদুল্লাহ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জামে মসজিদ বাইতুল মুকাররমের গুরূত্বপূর্ণ দায়ীত্বশীল রয়েছেন। তার দাদা হযরত মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ রাহ. হাকীমুল উম্মাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রাহ.’র খলীফা। বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলিম ও মাশায়েখদের মধ্যে তিনি বিশিষ্ট মর্যাদার অধিকারী। তিনি হাফেজ্জী হুযুর উপাধিতে সমধিক পরিচিত।

শহীদ রহমাতুল্লাহ রাহ. জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া বিন্নুরী টাউন করাচীতে অধ্যায়নরত ছিলেন।শাহাদাতের মাত্র একমাস পূর্বে তিনি জিহাদে শরীক হন। তারপর করাচী ফিরে আসেন, কিন্তু জীবনের সর্বাধিক স্বাদপূর্ণ এই আমল তার ভেতর ইমানের এমন মধুরতা সৃষ্টি করে যে, কয়েক দিন পরেই সেপ্টেম্বরে রণাঙ্গনে এসে পূর্ণ এক বৎসর জিহাদ করার জন্য নাম লেখান। তারপর পীড়াপীড়ি করে কমান্ডার যুবায়েরের এই বাহিনীতে শামিল হন-যাকে আজকে সর্বাধিক বিপদজনক এবং চুড়ান্ত কর্তব্য পালন করতে হবে-তিনি শাহাদাতের মহাপুরষ্কার লাভ করে বিজয় আনন্দ সাথীদের জন্য ছেড়ে দেন।

শহীদ রহমাতুল্লাহ রাহ. শাহাদাতের তিনদিন পূর্বে স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, তার দাদা তাকে বিবাহ করিয়েছেন। স্বপ্নটি তিনি তার বন্ধু বখতিয়ারকে শাহাদাতের দিন শুনিয়ে বলেছিলেন-এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমার এই মনে হয় যে, আজকের লড়াইয়ে আমি অবশ্যই শহীদ হব, তুমি পিছু হটবে না।আমার বাড়ির লোকদেরকে সুসংবাদ শুনিয়ে তাদেরকে সান্তনা দিবে।

শহীদের পিতাকে যখন ঢাকায় ফোনে তার শাহাদাতের সংবাদ অবহিত করা হয়,তখন তিনি আবেগঘন কন্ঠে বলেন-আমি তার শাহাদাতের বিষয়টি একটি স্বপ্নের মাধ্যমে পূর্বেই অনুমান করতে পেরেছিলাম। আমি ফোনে কথা আরম্ভ করার পূর্বেই উপস্থিত লোকদের আমার মুজাহিদ ছেলের শাহাদাতের খবর দিয়েছি।

(সূত্রঃ-জানবাজ মুজাহিদঃ ৫০-৫৩, মুফতি রফি উসমানি, জামিআ দারূল উলূম করাচি/সংগৃহীত)

Comment

Share.

Leave A Reply