শৃংখলা, নিরাপত্তা এবং উন্নতি হোক পুলিশের মূলমন্ত্র

0

আহমেদ রাজিব ::

শৃংখলা, নিরাপত্তা এবং উন্নতি এই তিন মূলমন্ত্রে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী পরিচালিত হয়। অর্থাৎ, দেশের শৃংখলা রক্ষা হলো পুলিশের প্রথম কাজ। তারপর জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেই সাথে সামর্থ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সংস্থাটির উন্নতি করে যাওয়া।

তবে, ওপরের কথাগুলো মূলমন্ত্র হিসাবে রাখা যতটা সহজ, বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল এবং উন্নয়নশীল দেশে তা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। সুতরাং, যেসব কারণে দেশের উন্নয়ন ব্যহত হয়, সেই একই কারণে পুলিশের উন্নয়নও ব্যহত হয়। পুলিশ আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং সে কারণে দেশের উন্নয়নের সাথে পুলিশের উন্নয়নের সম্পর্ক গভীর। গোটা পৃথিবীর মধ্যে জাপান, ইতালী, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং আমেরিকার মানুষ তাদের নিজেদের দেশের পুলিশ নিয়ে গর্ব করে এবং এদেশগুলোর সবই প্রথম শ্রেনীর উন্নত রাষ্ট্র।

বাংলাদেশের উন্নয়ন হচ্ছে। প্রতিবেশীদের পেছনে ফেলে বার্ষিক জিডিপি এখন ৭%। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে অপার সম্ভাবনাময় স্থান। কিন্তু দু:খজনক ব্যপার হচ্ছে, দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে পুলিশ বাহিনীর উন্নয়নের যে সম্ভাবনা তা সম্ভবত রাজনৈতিক কূটকৌশলের কারনে বিলম্বিত হচ্ছে। যার ফলস্রুতিতে সমাজে পুলিশের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অসত রাজনীতিবিদরা ঠিকি লাভবান হচ্ছে। সেই সাথে পুলিশের ইমেজ ভাল না হলে, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করে এবং অনুত্সাহিত হয়।

বাংলাদেশের পুলিশ অনেক পরিশ্রমী। তবে তার পরিশ্রম হিসাবে যোগ্য পারিশ্রমিক সে পায় না। যে বাহিনী সার্বক্ষনিকভাবে শারীরিকভাবে উপস্থিত থেকে সমাজের শৃংখলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে তার জন্য বিশেষ বেতন ব্যবস্থা করা, সময়োপোযোগী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করা এখন সময়ের দাবি। কেননা, কম বেতনে যোগ্য ব্যক্তি পাওয়া দুস্কর হয় এবং কম যোগ্যতাসম্পন্নরা বেশি দুর্নীতিগ্রস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া কমযোগ্য ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণেও ভালো ফল পাওয়া যায় না এবং প্রযুক্তি ব্যবহারেও তারা ঝুঁকিপূর্ণ হয়। সুতরাং, পুলিশকে প্রয়োজনীয় সুবিধা না দিয়ে সবসময় একটা দুর্নীতিগ্রস্থ এবং দুর্বল ইমেজের মধ্যে রেখে দেয়ার কোনরকম দীর্ঘমেয়াদী অপরাজনৈতিক দুরভিসন্ধী আছে কি-না তাও ভেবে দেখতে হবে।

বাংলাদেশের পুলিশ জাতিসংঘ মিশনে চমত্কার ভূমিকা রাখে এবং বিশ্বমিডিয়ায় প্রশংসিত হয়। সেখানে বেতন ভাল, সুবিধা ভাল, সেকারনে ট্যালেন্টেড পুলিশ সদস্যরা নিজেদের সেরাটুকু ঢেলে দেয়ার পরিবেশ পান, তাতে দেশের নাম উজ্জল হয়। তবে সেটা ক্ষনস্থায়ী। কারণ, বাংলদেশে কর্মরত কিছু পুলিশ সদস্যদের ব্যপারে আবার ততদিনে আন্তর্জাতিক মাধ্যমে খুন-গুম এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠে যায়। ফলাফল, আমাদের দেশের পুলিশ বাহিনীর আন্তর্জাতিক ইমেজ এক পা আগালে দুই পা পিছিয়ে যায়।

সামনে নির্বাচন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ও শৃংখলার দিকে গোটা বিশ্বের দৃষ্টি থাকবে। আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যম বিশ্লেষনে বোঝা যায়, এক্ষেত্রে পুলিশের ভুমিকা নিয়েও বিশ্ব মিডিয়া উত্সাহী থাকবে। সুতরাং, এক্ষেত্রে কোনপ্রকার অপরাজনৈতিক ফাঁদে না পড়ে বিশ্বের সামনে দেশ এবং সংস্থাকে বিতর্কিত না করাটাই হবে পুলিশ বাহিনীর জন্য বিচক্ষণতার কাজ। ফাঁদে পড়া নয়, শৃংখলা, নিরাপত্তা এবং উন্নতি এগুলোই পুলিশের মুলমন্ত্র।

Comment

Share.

Leave A Reply