জনগণকে সাথে নিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে’

0

‘জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করা হবে’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। মঙ্গলবার বিএনপির নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে তারা এসব কথা বলেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়া দেশের ১৬ কোটি মানুষের জনপ্রিয় নেত্রী। দেশের মানুষকে মামলা হামলা দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। এ দেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করে নয়ে আসবে। এ লড়াই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার লড়াই। জনতার উত্তাল তরঙ্গের মধ্য দিয়েই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনা হবে।’ আজ সারা দেশে নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ মামলা হামলা দিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না।’ এসময় ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘একটি মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। এ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা তাঁকে কারাগার থেকে মুক্ত করব। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাব।’ সরকারের নির্দেশে আদালত মিথ্যা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসনকে সাজা দিয়েছে অভিযোগ করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এর প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূচি পালন করতে গেলেও সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তাতে বাধা দিয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি এবং প্রতিবাদ পালন করে যাব। কিন্তু আজকের এই কর্মসূচি পালনের জন্য এরই মধ্যে তিনটি জায়গা পরিবর্তন করতে হয়েছে। আমাদের কোথাও দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু এর পরও আজকের এ উপস্থিতি প্রমাণ করে, রাস্তায় নামার সুযোগ দেওয়া হলে সারা দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে আসবেন। কারণ, একজন জনপ্রিয় নেত্রীকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। এ জন্য এই সরকারকে অনেক খেসারত দিতে হবে।’ এসময় হাজার হাজার নেতাকর্মী ‘বন্দি আছে আমার মা ঘরে ফিরে যাবো না, আমার মা জেলে কেন, গণতন্ত্র জেলে কেন, স্বাধীনতা জেলে কেন, খুনী হাসিনা জবাব দে’ এমন স্লোগানে নয়া পল্টন মুখরিত করে তোলে। মঙ্গলবার বিএনপির নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকাল ১১টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় এই কর্মসূচি। এর জানানো হয়েছিল প্রেসক্লাবের সামনে হবে, পরে জানানো হয় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে হবে, কিন্তু পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় অবশেষে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শুরু হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জোটের শরিক লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ-ভাসানীর মহাসচিব গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। এছাড়া অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন,চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জয়নাল আবদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূইয়া, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাড. সৈয় মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, তথ্য ও গভেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আরো ছিলেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পর পরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর আরো তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তাকে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক রয়েছেন।

Comment

Share.

Leave A Reply