খালেদা জিয়ার আইনজীবী হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন ড. কামাল

0

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার আইনজীবী হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন ড. কামাল হোসেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজধানীর মতিঝিলে এই প্রবীণ আইনজীবীর চেম্বারে গিয়ে এই প্রস্তাব দিলে তিনি তা ফিরিয়ে দেন। কিন্তু কেন?

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী হবার প্রস্তাব নিয়ে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। ওই সময় খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী রেজাক খান ও আমিনুল ইসলাম তার সঙ্গে ছিলেন। চেম্বারে এসময় গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার আপিল দায়েরকারী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আমরা (আইনজীবী) এ মামলার আইনজীবী মাত্র। তাই মামলার শুনানিতে কে বা কারা থাকবেন তা অনেকাংশে দলের নেতাদের ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে দলের মহাসচিব (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) ভালো বলতে পারবেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে আমরা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমরা আইনি বিষয়ে তার সঙ্গে পরামর্শ করেছি। তিনি একটি ফাইল দেখবেন বলেও রেখে দিয়েছেন।’

খালেদা জিয়ার আপিল মামলায় প্যানেল আইনজীবীদের অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান বলেন, ‘এই মামলায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন সিনিয়র কাউন্সিল হিসেবে নিযুক্ত আছেন। তবে এরপরও দল চাইলে যেকোনও আইনজীবীকে নিয়োগ দিতে পারে।’

ফিরিয়ে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ড. কামাল হোসেন বলেছেন, তিনি ক্রিমিনাল (ফৌজদারি) মামলা করেন না। এটা তিনি কম বোঝেন, তাই এই মামলা নিতে পারছেন না। তবে খালেদা জিয়ার প্রতি তার সহমর্মিতা আছে বলেও জানিয়েছেন ড. কামাল হোসেন।

তবে ড. কামাল হোসেন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানিতে অংশ নেবেন কিনা—তা জানতে চাইলে কোনও উত্তর দিতে রাজি হননি ওই আইনজীবী।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর থেকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। এরই মধ্যে হাইকোর্টে তার জামিন আবেদন শুনানি হয়েছে। বিচারিক আদালত থেকে নথি পাওয়ার পর জামিনের ব্যাপারে আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।

Comment

Share.

Leave A Reply