জম্মুতে সেনা ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় নিহত ২

0

ভারতের জম্মুর সাঞ্জওয়ানে সেনাবাহিনীর এক ক্যাম্পে শনিবার ভোরে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে দুইজন অফিসারকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ হামলায় অপর এক সেনা অফিসার ও তার মেয়েসহ ছ’জন আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, হামলায় জঙ্গি সংগঠন জইশ- ই-মুহম্মদ এর ৩ থেকে ৪ জন সদস্য অংশ নিয়েছিলো।

জানা গেছে, অতর্কিতে সেনা ক্যাম্পে ঢুকে পড়ে সন্ত্রাসীরা। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে তারা। তাদের লক্ষ্য করে গ্রেনেডও ছোড়ে। পাল্টা জবাব দেয় জওয়ানরাও। দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। জম্মুর প্রাণকেন্দ্রে কয়েক একর জুড়ে গড়ে ওঠা এই ক্যাম্পের ভিতরে রয়েছে সেনা আবাসন, স্কুল। আশাপাশেও জনবসতি রয়েছে। পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে জম্মু-পঠানকোট হাইওয়ে।

গুলির লড়াই চলাকালীন ওই সন্ত্রাসীরা সেনা আবাসনের একটিকে ঢুকে পড়ে বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছে জম্মু পুলিশের ডিজি এস ডি সিংহ জামওয়াল। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় সেনার বিশেষ বাহিনী এবং স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে সেনা ও পুলিশের যৌথ বাহিনী। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এর আগে ২০১৭ সালে জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষী বাহিনী ব্যাটের (পাকিস্তান বর্ডার অ্যাকশন টিম) আক্রমণে এক অফিসারসহ চার ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের রাজোর জেলার সীমান্ত রেখায় (এলওসি) এ ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানি সেনারা সীমান্ত রেখার প্রায় ৪০০ মিটার ভেতরে অনুপ্রবেশ করে এই হামলা চালায়।

ব্যাটের হামলার ব্যাপারে ভারতীয় সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু জানায়নি। তবে এক হামলায় মেজর মোহারকার প্রফুল্ল অম্বাদাস, ল্যান্স নায়েক গুরমেইল সিং, ল্যান্স নায়েক কুলদীপ সিং এবং সিপাই পরগত সিং নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া আরো এক সেনা সদস্য আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনী আরো বলেছে, তারা পাকিস্তানি সেনাদের চৌকি লক্ষ্য করে কার্যকর জবাব দিয়েছেন।

ভারতীয় সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মেজর মোহারকার প্রফুল্ল অম্বাদাস, ল্যান্স নায়েক গুরমেইল সিং, ল্যান্স নায়েক কুলদীপ সিং এবং সিপাই পরগত সিং সাহসী ও দায়িত্বশীল সেনা ছিলেন। জাতি তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকে স্মরণে রাখবে।’

‘ভারতীয় সেনাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না’ বলেও উল্লেখ করা হয় ওই বিবৃতিতে।

এর আগে এপ্রিল মাসে দুই পাকিস্তান সীমান্তে দুই সেনা সদস্য নিহত হয়। পাকিস্তানি সেনাদের হামলায় তারা নিহত হয় বলে ধারণা করা হয়।

Comment

Share.

Leave A Reply