মুজাম্মিলের খুনীদের গ্রেফতার ও আলেম-উলামাদের ওপর থেকে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতর দরবস্ত বাজারে সমাবেশ অনুষ্টিত

0

মাসুম আল মাহদী: শহীদ মুজ্জাম্মিল আলীর খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মাজারপন্থী কর্তৃক আলেম উলামাদের উপর থেকে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না হলে আন্দোলনের দাবানল দাউ দাউ করে জ্বলবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন ঈমান আক্বিদা সংরক্ষণ কমিটি।

হরিপুর বাজার মাদরাসার মেধাবী ছাত্র শহীদ মুজ্জাম্মিল হকের খুনিদের গ্রেফতার এবং আলেম উলামা ও তাওহিদি জনতার উপর থেকে ষড়যন্ত্র মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত বাজারে কেন্দ্রীয় ঈমান আক্বিদা সংরক্ষণ কমিটি সিলেটের আহবানে এক প্রতিবাদ মহাসমাবেশ অনুষ্টিত হয়।
সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি শায়খুল হাদিস আল্লামা আলিমুদ্দীন দূর্লভপুরীর সভাপতিত্বে ও মাও: আব্দুল জব্বার ও মাওঃ ওলিউর রহমানের যৌথ পরিচালনায় মহাসমাবেশে বক্তারা বলেন,জৈন্তার মাটি আলেম উলামাদের ঘাটি, এখানে কোন বেদাতী, ভন্ড ও মাজার পুজারিদের স্থান নেই।


বক্তারা বলেন,শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রহঃ ও আল্লামা শায়খ আব্দুল্লাহ হরিপুরী রহঃ সহ অসংখ্য উলামা মাশায়েখগন এখানে জন্মগ্রহণ করেছেন।যারা উড়ে এসে জুড়ে বসেছে ওদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে জৈন্তাবাসী বদ্ধপরিকর। বক্তারা বলেন,একজন প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ মাওঃ আব্দুস সালাম কে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে বেদাতীরা নির্মম ভাবে হামলা করেছে।এতে হরিপুর বাজার মাদরাসার প্রায় ১৩/
১৪ জন ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে।ভন্ডদের উপর্যোপরি তান্ডবে মুজ্জাম্মিল শাহাদত বরণ করেছে।বক্তারা বলেন,প্রায় ১০দিন হয়েগেল আসামীরা ধরা ছোয়ার বাইরে।প্রশাসনের নাকের ডগায় তারা ঘোরা ঘুরি করছে কিন্তু প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।বক্তারা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারন করে বলেন,আমাদের ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে গেছে।অনতিবিলম্ব
ে খুনিদের গ্রেফতার আর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করলে তীব্র আন্দোলনের দাবানল বৃহত্তর সিলেটে দাউ দাউ করে জ্বলবে।
মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা আলিমুদ্দীন দুর্লভপুরী বলেন,শহিদ মুজ্জাম্মিলকে হত্যা করে ভন্ডরা ইতিহাসের সবচেয়ে নির্লজ্জ কাজ করছে।দুর্লভপুরী বলেন,আমরা খুনিদের সুষ্ট বিচার চাই,যতদিন সুষ্টু বিচার না হবে ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে।দুর্লভপুরী বলেন,এক হাফিজ মুজ্জাম্মিলের শাহাদতের বিনিমিয়ে বৃহত্তর জৈন্তা ভন্ড মুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ। বিশেষ অতিথীর বক্তব্যে জৈন্তাপুর উপজেলার চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন,যত বাধা আসুক আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।কাহারো চোখ রাঙ্গানোকে ভয় করবনা।বিশেষ অতিথীর বক্তব্যে ফতেপুর ইউ/পি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বলেন,বর্তমান আন্দোলনকে স্তিমিত করতে একটি মাত্র সমাধান হচ্ছে খুনিদের গ্রেফতার করে ফাসির কাষ্টে ঝুলানো।মামলা হামলা করে আমাদেরকে আলেম উলামাদের কাছ থেকে সরানো যাবেনা।সংগঠনের মহাসচিব মাওঃ হিলাল আহমদ তার বক্তব্যে বলেন,প্রশাসন আমাদেরকে আশস্থ করেছিল খুনিদেরকে অতিশিঘ্রই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবে কিন্তু আজ পর্যন্ত প্রধান খুনিদেরকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছে।এই সুবাধে খুনিরা আলেম উলামা ও তাওহিদি জনতার উপর একের পর এক মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।উনি বলেন,ভন্ডরা এখনো উলামায়ে দেওবন্দের রুপ রেখা চিনতে পারে নাই। অনতিবিলম্বে প্রশাসন ওদেরকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাসির দাবী জানান অন্যথায় চট্রগ্রাম হইতে সিলেটের জাফলং পর্যন্ত প্রতিটি জেলায় লক্ষ লক্ষ আলেম উলামা ও তাওহিদি জনতাকে নিয়ে
সারা দেশকে অচল করে দেওয়া হবে।মহাসমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,মাওলানা আব্দুল কাদির বাগেরখালী,মাওলানা মাহমুদুল হাসান রায়গড়ী,এডঃ মোহাম্মদ আলী,এডঃ মাওঃ শাহিনুর পাশা চৌধুরী,জেলা পরিষদ সদস্য মুহিবুল হক,ভাইস চেয়ারম্যান বশির উদ্দীন এম,এ,কাজির বাজার মাদরাসার শায়খুল আল্লামা আহমদ আলী,মাওঃ শামছুদ্দীন দুর্লভপুরী, মাওঃ নজরুল ইসলাম তোয়াকুলী,মাওঃ আতাউর রহমান কোম্পানীগঞ্জী, মাওঃ আবুল হোসাইন চেয়ারম্যান চতুল ইউ/পি,দরবস্ত ইউ/পি চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার,সাবেক চেয়ারম্যান রহমতউল্লাহ,সাবেক চেয়ারম্যান কামাল উদ্দীন,মুফতী জিল্লুর রহমান,মাও: নুরুল হক,মাওঃ আব্দুল মালিক চৌধুরী,মাওঃ হাফিজ আহমদ ছগীর,
মাওঃ আব্দুল মালিক চিকনাগুলী, মাওঃ হারুনুর রশিদ,মাও: জয়নাল আবেদীন,মাওঃ কবির আহমদ,হাফিজ মাওঃ মাসউদ আজহার প্রমুখ।
সমাবেশে আগামীদিনের কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়।
১/ আগামী ১১মার্চ জৈন্তাপুর উপজেলা সদরে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্মারক লিপি প্রদান।
২/ আগামী ১৮মার্চ জাফলং আমির আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মহাসমাবেশ

Comment

Share.

Leave A Reply