প্রেমের বিয়ে…

0

আইনুল হক হক কাসিমী ::

রুকইয়াহ সাপোর্ট গ্রুপ-এ এক ভাগ্যবিড়ম্বিতা বোন পরামর্শ চেয়েছেন। ভাগ্যবিড়ম্বিতাই বললাম। কারণ, মেয়েরা হলো ঘরের রাজরানী। শান্তির শীতল ছায়া। সেই মেয়েরই কপালে যদি স্বামীর ঘর করা জুটে না, সে ভাগ্যবিড়ম্বিতা না তো কী?

এখন আসি ওই বোনের কথায়। তার সমস্যার সারসংক্ষেপ হলো এই যে, দীর্ঘদিন প্রেম করে অবশেষে তারা তার পূর্ণতা সাধন করতে বিয়ে করেছেন। প্রথম কয়েক বছর খুব সুখের সাথেই তাদের দিন কেটেছে। এরপর থেকে শুরু হয়েছে ঝগড়াঝাঁটি। তিনি বাপের বাড়ি চলে আসেন। এরইমধ্যে তার কোলজুড়ে একটি ফুটফুটে বাবু আগমন করে। অনেক অপেক্ষা করেও স্বামী কোনো খবর নেয় না দেখে তিনি নিজেই চলে আসেন। কিন্তু স্বামী তাকে এড়িয়ে চলতে থাকে। তার ও তার পরিবারের ব্যাপারে নানান বদনাম করতে থাকে। আলাদা ঘরে থাকতে থাকে। তিনি অনেক চেষ্টা করে ভাব জমাতে গিয়েও ব্যর্থ হন! আটমাস পর স্বামী তার কাছে আসে। তাও দায়সারাভাবে। শেষপর্যন্ত স্বামী তাকে পছন্দ করে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি একজন হুজুরের দ্বারস্থ হন। হুজুর বলেছে, তার স্বামীকে নাকি একটা বড় জ্বীনে ধরেছে! এই জ্বীন না তাড়ালে স্বামী ভালো হবে না!

আমি ওই পোস্টে কমেন্ট করলাম। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে কমেন্টটি পোস্টাকারে তুলে ধরলাম।

“বোন! প্রথমেই বলি, প্রেমের বিয়ে সাধারণত টিকে না। কারণ, প্রেম একটা সাময়িক মোহ। দৈহিক সম্পর্কের পর থেকেই তা ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। পক্ষান্তরে উভয় ফ্যামিলি মিলে বহু চিন্তা ফিকির করে যে বিয়ে ঠিক করে, তা সাধারণত টিকে। কারণ, এই বিয়ে কোনো মোহের বশে হয়নি; বাস্তবতাকে সামনে রেখেই হয়েছে। উভয় ফ্যামিলির গার্জিয়ানদের তো আবার প্রেম নামক নেশায় ধরেনি।

সবচেয়ে বড় কথা হলো- প্রেমিক ও প্রেমিকারা বিয়ের আগে একে অপরকে যে চোখে দেখে, বিয়ের পরে সেই চোখে দেখতে পারে না। আরব দার্শনিক আলি তানতাবি বলেন, ‘প্রেম হলো মদের ন্যায় আর প্রেমিক নেশাখোরের মতো। যখন তার নেশার ঘোর কেটে যায়, সে পরিশুদ্ধ জ্ঞান ফিরে পায়। প্রেমিকার প্রকৃত অবস্থা সে অবলোকন করতে পারে। এ ব্যাপারে সুন্দর কিছু জানতে চাইলে পড়তে পারেন আলি তানতাবির লিখিত, আমার অনূদিত “বিয়ে নিয়ে কিছু কথা” বইটা। ঢের জানতে পারবেন।

আর হ্যাঁ, আপনার স্বামী ঠিকই আছেন; তাকে জ্বীনে ধরেনি। আপনার প্রতি তার যে নেশা ছিল, তার ঘোর কেটে গেছে। এখন তিনি পরিশুদ্ধ জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন বলে এই ব্যবহার করছেন। আপনার মতো হাজারো মেয়ে এই প্রেমের বলির শিকার!

ওই হুজুর একটা পেটুয়া। পয়সা কামানোর ধান্ধায় জ্বীনের কথা বলছে। জ্বীন ছাড়ানোর নামে তার কাছ থেকে তাবিজ কবজ আনবেন। তার পকেট পুরবে। এটাই তার উদ্দেশ্য। তাই সাবধান। কথাগুলো মনে রাখবেন। আমিও একজন হুজুর। ঘরের মানুষ বলে হুজুরদের শ্রেণিবিভাগ খুব ভালোকরে জানি।”

Comment

Share.

Leave A Reply