আমি এরদোগানকে ভালোবাসি!

0

সৈয়দ শামছুল হুদা ::

বর্তমান মুসলিম বিশ্ব একজন যোগ্য রাষ্ট্রনায়কের জন্য অধীর অপেক্ষায়। বিশ্বের বিভিন্নপ্রান্তে শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার অপরাধে যে জুলুম-নির্যাতন চলছে এর প্রতিকার করার মতো কোন শক্তি বর্তমান পৃথিবীতে নেই। তুরস্ক সেই শুন্যস্থানটি পূরণের জন্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে চেষ্টা করছে। আর শুধুমাত্র এ কারণেই তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে পছন্দ করি। ভালোবাসি।

এরদোগানকে ভালোবাসি এজন্য নয় যে, তিনি তাহাজ্জুদগুজার
এরদোগানকে ভালোবাসি এজন্য নয় যে, তিনি একজন বড় মুহাদ্দিস
এরদোগানকে ভালোবাসি এজন্য নয় যে, তিনি একজন বড় আল্লাহও অলি
এরদোগানকে ভালোবাসি এজন্য নয় যে, তিনি একজন গওস-কুতুব
এরদোগানকে ভালোবাসি এজন্য নয় যে, তিনি একজন বড় মুফতি
এরদোগানকে ভালোবাসি এজন্য নয় যে, তিনি একজন বড় মুফাসসির

বরং এরদোগানকে ভালোবাসি এজন্য যে,
তিনি একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক
তিনি একজন সফল কূটনীতিবিদ
তিনি একজন দূরদর্শী রাজনীতিবিদ
তিনি একজন সফল সংগঠক
তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক
তিনি একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ
তিনি একজন ক্যারিশমেটিক নেতা

এরদোগানের এই সফল নেতৃত্ব দিতে গিয়ে নানা সময়ে নানা সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। সেটা কখনো কারো জন্য রূঢ় হয়ে যাচ্ছে। কারো জন্য অসহ্যকর হয়ে উঠছে। রাজনীতি এমনই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন- আমি রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতিকে কঠিন করে দিবো। এরদোগানও সেই কাজটা করছেন। তথাকথিত রাজনীতিবিদদের জন্য তিনি দিন দিন হুমকি হয়ে উঠছেন। তিনি শুধূ তুরস্কেই সীমিত থাকছেন না, বিশ্বের নানা প্রান্তেও নজর রাখছেন। যারা তথাকথিত রাজনীতিবিদ, যারা মুসলমানদের এই দুঃখ দুর্দশায়ও সামান্য কর্ণপাত করে না, তাদের জন্য একটু হুমকি হয়েই উঠছেন। তারা আতঙ্কে আছেন, বিশ্বে যদি একজন এরদোগানের নেতৃত্ব, গ্রহনযোগ্যতা বেড়ে যায়, তাহলে তাদের রাজনৈতিক ব্যবসা লাটে উঠবে।

আজকের মধ্যপ্রাচ্যসহ সর্বত্র তথাকথিত রাজনীতিবিদদের কারণে মুসলমানদের দুঃখের কোন শেষ নেই। সেই দুঃখ দূর করাতো দূরের কথা, বরং নিজেরাই দুঃখের কারণ হচ্ছেন। আজকের ইরাক কাদের কারণে জ্বলছে? কাদের ইন্ধনে আফগান ছাড়খার হলো? কাদের কারণে মিশরের রাবেয়া স্কয়ারে হাজার হাজার বনী আদমকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে? এর পেছনে আছে তথাকথিত মুসলিম রাজনীতিবিদরাই। এরা সত্যিই আতঙ্কে। এদের আতঙ্কের মুল কারণ হলো- তুর্কি খেলাফত আবার ফিরে আসে কী না? সেই ভয়ে। কারণ সারা বিশ্বের মুসলমানরা একজন নেতার অধীনে, এক খেলাফতের পতাকাতলে সমবেত হওয়ার জন্য ব্যকুল হয়ে আছে। নির্যাতিত, নিপীড়িত মজলুমানরা অধীর অপেক্ষায় একজন যোগ্য নেতার।

এরদোগান কখনো বলেননি, আমি ইসলাম কায়েম করতে এসেছি, তিনি কখনো বলেননি, মুসলমানদেরকে বিজয়ী করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। তিনি এমন একটি রাষ্ট্রে কাজ করছেন, যেখানে এখনও মাথার ওপর কামাল আতাতুর্কের ছবি ঝুলাতে হয়। সেখানে ইসলামের প্রতিটি বিধানকে রহিত করা হয়েছিল। পর্দা, নামায, আরবী ভাষা, ইসলাম শিক্ষা সবকিছুই নিষিদ্ধ ছিল। মদ, জুয়া, অশ্লীলতার সাথে সাথে সকল ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতা কঠোরভাবে পালন করা হতো। তিনি ধীরে ধীরে সেই সকল বাধাসমূহ দূর করছেন মাত্র। তিনি বলছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ইচ্ছে করলে মেয়েরা স্কার্ফ পরতে পারবে। তিনি খুব কৌশলের সাথে কামালের প্রেতাত্মাদের কোণঠাসা করছেন। এটা দেখেই ধর্মনিরপেক্ষবাদিদের মাথা গরম।

এর সাথে যোগ হয়েছে আমরা যারা ক্ষমতায় সবসময় এমন একজন মানুষকে দেখার স্বপ্ন দেখি, যার মাথার লম্বা পাগড়ি থাকবে, গায়ে লম্বা জুব্বা থাকবে, মুখভর্তি দাঁড়ি থাকবে, হাতে একটা লম্বা লাঠি থাকবে, তিনি সুন্দর করে পান খাবেন- আর ইসলামী শরিয়াতের বিধি বিধানসমূহ পালনে একের পর এক হুকুম জারি করবেন। সেই চিত্রের সাথে এরদোগানকে কেন যেন মিলছে না। তাঁর মুখে দাঁড়ি নেই. তিনি আবার কিসের ইসলামী নেতা?

কে্উ কেউ মনে করেন শাসক হবেন মোল্লা ওমরের মতো একজন কওমী পড়ুয়া হুজুর । রাষ্ট্রের সব জায়গায় হুজুররা অস্ত্র হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে, কঠিন শাসন-ত্রাসন কায়েম হবে। মানুষ ভয়ে ঘর থেকে বের হবে না। সেই রকম চিত্রের সাথে এরদোগানকে মিলছে না। এটাও একটা বিরোধিতার কারণ।

সমস্যা হলো, আমি একজন মৌলভী হয়েও মৌলভীদের শাসনের প্রতি ভরসা রাখতে পারছি না। এ জন্য এরদোগানকেই ভালোবাসি। অপেক্ষায় থাকি, তাঁর দ্বারাও যদি কিছু ইসলামের কাজ হয়। একটি রাষ্ট্র অন্তত তৈরী হয়, যেখানে মুসলমানরা নিরাপদে বাস করতে পারে। যতদিন মোল্লা ওমর ক্ষমতায় ছিলেন, ততদিন তাকেই ভালোবেসেছি। যতদিন মুরসি ক্ষমতায় ছিলেন ততদিন তাকেই ভালোবেসেছি। এখন এরদোগানকে ভালোবাসছি। যদি তিনিও আমাদের আশাহত করেন, তাহলেতো আমার কিছু করণীয় নাই। সারা বিশ্বের সকল শয়তানী চক্র তার বিরুদ্ধে যেভাবে উঠে পরে লেগেছে তাতে যে কোন সময় তার বিদায়ের সুর বেজে উঠতে পারে। তখন নতুন কাউকে ভালোবাসবো। এখনো পর্যন্ত বিশ্বে এরদোগানের চেয়ে যোগ্য প্রশাসক, রাজনীতিবিদ আর কাউকে দেখছি না। এজন্য এরদোগানের প্রতিই ভালোবাসা। কেউ যদি তার চেয়েও বেশি যোগ্য, বেশি পরহেজগার আসে তখন তাকেই ভালোবাসবো।

Comment

Share.

Leave A Reply