শিশু তাওহিদ হত্যাকাণ্ড; চালু হোক কাবিল পুরষ্কার

0

রশীদ জামীল:: 

তাওহিদের হাতে জান্নাতের টিকেট ধরিয়ে দেওয়া মহান শিক্ষক আমিনুলের উপরও ক্ষেপেছেন সবাই। মানে হয় না। উচিত হয়নি। তাওহিদ ভাগ্যবান, সে উস্তাদের মার খেয়ে জান্নাতে চলে গেছে। যে লোক একটি ছেলেকে জান্নাতে পৌছে দেওয়ার বন্দোবস্ত করলো, তার সমালোচনা করার তো কারণ ছিলো না। তাকে তো পদক দেওয়া দরকার। বরং আমি তো মনেকরি তার নামে একটা নতুন পদক চালু হওয়া উচিত। স্যার আলফ্রেড নোবেলের নামে ‘নোবেল’ পুরষ্কার বলে একটা বস্তু আছে। আমাদেরটার নাম হতে পারে ‘কাবিল’ পুরষ্কার। স্যার আমিনুল ইসলাম-এর নামের সাথে মিল রেখে ‘আমিন’ পুরষ্কার করা যেত। কিন্তু আমার কাছে ‘কাবিল পুরষ্কার’ নামটাকেই যথার্থ লাগছে। কাবিল মানে হাবিলের ভাই, পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম খুনি। বাংলাদেশের মাদরাসা শিক্ষার ইতিহাসে কোনো উস্তাদের ছাত্র পিঠিয়ে মেরে ফেলার কাহিনি সম্ভবত এটাই প্রথম। বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডগুলো ব্যাপারটি ভেবে দেখতে পারে।


শিশু তাওহিদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডগুলোর নীরবতা নিয়ে অনেকেই সরব হয়েছেন দেখলাম। এটাও অনুচিত। বোঝা উচিত ছিলো জমাদিউস সানি শেষ হতে চলেছে। সামনে রজব মাস। তারপরের শা’বান। বোর্ডগুলোর ফাইনাল পরীক্ষা। সারাদেশের মাদরাসাগুলো থেকে ফিস আদায় করতে হচ্ছে। বোর্ডগুলোর সবচে’ বড় বার্ষিক ইনকাম সোর্স তো এটাই। এভাবে সারাদেশ থেকে টাকা ওঠানো, টাকার হিসাব রাখা, বিলি-বণ্টন করা কি সহজ কাজ নাকি! তাছাড়া বিভিন্ন বোর্ড জায়গা-জমি কিনে বসে আছে। ইমারত তৈরি করতে হবে। প্রচুর পয়সা লাগবে। কত টেনশন। এই সময়ে একজন তাওহিদকে নিয়ে ভাববার সময় কোথায়!


কেউ কেউ আবার নেতৃস্থানীয় আলেম-উলামাকেও দোষারোপ করছেন… ‘তারা কেনো শক্ত করে কথা বলছেন না। তারা কেনো মুখ খুলছেন না। তাদের সবাই তো কোনো না কোনো বোর্ডের কোনো না কোনো পদ দখল করে বসে আছেন। তাহলে তারা কেনো নীরব’ ইত্যাদি ইত্যাদি।

ভারি অন্যায় হচ্ছে। আমরা বোবা-সুকা পাবলিক বলে মুখে যা আসে বলে ফেলি। তারা তো বলে ফেলতে পারেন না। অনেক ভেবে-চিন্তে কথা বলতে হয় তাদের। তাদেরকে মাথায় রাখতে হয় দাঁড়িয়ে আছেন পানির উপর। আর পানিতে কোপ মারতে হয় না। হাঁটু তো নিজেরই।

(কেউ আমাকে মনে করিয়ে দেওয়ার দরকার নাই অমুক ব্যক্তিত্ব তমুক পত্রিকায় নিন্দা করে করেছেন বা এই-সেই বলেছেন। নিন্দা জানানোর কাজটিও তারা সেচ্চায় করেননি। কেউ একজন যোগাযোগ করে জানতে চাওয়ার পর সেটা করা হয়েছে।)


বাংলাদেশের বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্র পেঠাতে পারদর্শী কাবিল উস্তাদগণ! (এই কাবিল মানে যোগ্য, হাবিলের ভাই কাবিল না) আপনাদের বলছি। আপনারা যারা ছাত্র পিঠিয়ে আরাম পান, বাচ্চাদেরকে গরু-ছাগলের মত পিঠিয়ে পৈশাচিক উল্লাস করেন, আপনাদেরকেই বলছি। আপনাদের জন্য চিন্তার কোনো কারণ নাই। এক তাওহিদ গেছে, তাতে কী! মাদরাসাগুলো তো আর তাওহিদশূন্য হয়ে যায়নি। পেঠানোর মত আরো অনেক তাওহিদ আছে। ইচ্ছামত পেঠান। শুধু খেয়াল রাখবেন। জানে মারবেন না! তাহলেই বিপদ, আমিনুলের মত!

৫। একটি অপ্রাসঙ্গিক কথা। যারা মনেমনে বলছেন, ‘ব্যাটা! ইরিং-বিরিং স্টাইলে কথা না বলে কিছুদিন মাদরাসায় এসে উস্তাদগিরি করে দেখ, তখন বুঝবি ছাত্রদের না পিঠিয়ে মানুষ করা যায় না’, তাদেরকে বলে লাভ নেই, আগেও অনেকবার বলেছি, আজা আবার বলি,
মানুষ মেরে মানুষ বানানোর আজিব থিওরী পৃথিবীর আর কোথাও নেই। বিশ্বের যতদেশে শিক্ষার হার একশ’ পারসেন্ট, সেসব দেশে ছাত্রছাত্রীর গায়ে হাত তোলার কথা কেউ কল্পনাও করতে পারে না।

ওরা না পিঠিয়ে মানুষ বানাতে পারলে তোমরা পারো না কেনো?
মানুষ হবার শিক্ষাটা তবে কার বেশি দরকার?
ছাত্রদের, নাকি তোমাদের?

Comment

Share.

Leave A Reply