মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট-স্পিকারের পদত্যাগ; ভাগ্য নির্ধারণে ৭ দিনের অপেক্ষায় সু চি!

0

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিন কিয়াও এর পর এবার পার্লামেন্ট স্পিকার উ উইন মিয়ন্ত পদত্যাগ করেছেন। দায়িত্ব নেয়ার দু’বছর পর তিনি পদত্যাগ করলেন। তাদের পদত্যাগে আলোড়িত আন্তর্জাতিক মহল। তবে কী কারণে তিনি পদ ছাড়লেন সেই বিষয় পরিষ্কার নয়। আশঙ্কা ফের সেনা শাসনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। সেই সাথে লোবেলজয়ী এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকে ফের গৃহবন্দী করা হতে পারে বলেও জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সু কি-র ডানহাত হিসেবে পরিচিত ছিলেন পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া প্রেসিডেন্ট থিন কিউ। আগামী সাত দিনের মধ্যে তার স্থানে নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্বে আসবেন।

নতুন প্রেসিডেন্টের সাথে সূ চির সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা-কল্পনা তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ৭ দিনের মধ্যেই ভাগ্য নির্ধারণ হবে সুচির।

এদিকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে থিন কিয়াও জানিয়েছেন, তিনি বর্তমান দায়িত্ব থেকে অবসর নিতে চান। তার ফেসবুক পেজ থেকেও তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

থিন কিয়াওয়ের পদত্যাগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সঠিক কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে বেশ কয়েক মাস আগে ৭১ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্টকে একটি দাপ্তরিক অনুষ্ঠানে শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল দেখা গেছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে গত বছর থেকেই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে মিয়ানমার সরকার। এই সংকট সমাধানে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় সু চিও বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও চাপের মুখে রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট থিন কিয়াওয়ের পদত্যাগরে পেছনে তার শারীরিক অসুস্থতাই মূল কারণ নাকি রোহিঙ্গা সংকট বা অন্য কোনো কারণে তিনি চাপের মুখেই পদত্যাগ করেছেন তা এখনও নিশ্চিত নয়।

এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মিয়ানমারের ২০০৮ সালের সংবিধান অনুযায়ী আগামী সাত দিনের মধ্যেই একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেয়া হবে। তবে নতুন প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ট সুই।

তবে প্রেসিডেন্টের পদে বসার কোনো সুযোগ নেই দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চির। সংবিধান অনুযায়ী তিনি স্টেট কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না।

২০১৬ সালের নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন থিন কিয়াও। জাতীয় নির্বাচনে সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল ভোটে জয় লাভ করে। নিজের দলের এত বড় জয়ের পরও স্বামী ও দুই সন্তান ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় দেশের প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি সু চি।

তবে সু চি প্রেসিডেন্ট হতে না পারলেও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ডান হাত হিসেবে পরিচিত থিন কিয়াও প্রেসিডেন্ট হওয়ায় গুঞ্জন উঠেছিল যে, মূল ক্ষমতা থাকবে সু চির হাতেই। থিন কিয়াও সু চির ছায়া হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করবেন। ওই নির্বাচনে ৫০ বছরের সামরিক শাসনের অবসান ঘটে। দীর্ঘদিন পর গণতান্ত্রিক সরকার পায় মিয়ানমার।

অপরদিকে গত বছর থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর অত্যাচার ও গণহত্যার অভিযোগে বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে মিয়ানমার। দেশটির রাখাইন প্রদেশ থেকে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত মিয়ানমার সেনার চৌকিতে হামলা দিয়ে। সরকারের অভিযোগ, রোহিঙ্গা জঙ্গি গোষ্ঠী এই হামলা জড়িত। তারপরেই সেনা অভিযান শুরু হয়। আর এই অভিযান ঘিরেই বিতর্ক দানা বাধে। এই পরিস্থিতিতে গণহত্যায় মদদ দিচ্ছে মিয়ানমার সরকার এমনই দাবি করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

জাতিসংঘে বারবার সমালোচিত হয়েছে মিয়ানমার সরকার। সু চি-র মতো নোবেল জয়ী ব্যক্তিত্ব বিষয়টিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন বলেও অভিযোগ।

বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখেও সু চি দীর্ঘ সময় নীরব থাকায় তার অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়। ধারণা করা হয় সেনা শাসনের ঘেরাটোপেই আছেন তিনি। পরে তিনি সেনা অভিযানকে সমর্থন করায় বিষয়টি আরও জমাট হয়।

এমনই পরিস্থিতিতে ক্রমাগত আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয় মিয়ানমারের উপর। এরপরই বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ধাপে ধাপে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয় সু চি সরকার। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলেছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে টানা সেনা শাসনের অবসান ঘটিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসে সু চি-র দল। তবে সেখানকার পার্লামেন্টে বড় অংশ সেনা প্রশাসকের দখলে।

Comment

Share.

Leave A Reply