শিয়া-সুন্নিতে বিশ্বাসী নই আমরা : রাশিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি

0

রাশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা ক্রমবর্ধমানভাবে বেড়েই চলেছে। বর্তমানে এই সংখ্যা ২৫ মিলিয়নে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি শেখ রবি গায়নেতিন।

সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাত্কারে, গায়নেতিন আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন যে, রাশিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায় হচ্ছে আদিবাসী এবং রাশিয়ার অন্যান্য ধর্মের সঙ্গে ইসলামের গ্রহণযোগ্যতা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাশিয়ায় মুসলমান

 বৃদ্ধির কারণ: রাশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মুসলিম রয়েছে। গায়নেতিন মুসলিম জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধির দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন: তার মধ্যে একটি হচ্ছে- মুসলমান পরিবারগুলোর মধ্যে উচ্চ জন্মহার এবং অন্যটি- মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর জনগণের আগমনে।

• উৎপত্তি: গায়নেতিন বলেন, ‘সপ্তম শতাব্দীতে রাশিয়ায় ইসলামের আগমন ঘটেছিল। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) এই ইন্তিকালের ২২ বছর পরে তার অনুসারীরা রাশিয়া এসেছিলেন।’

• মুফতি বলেন, ‘তারা এসেছিল বর্তমানের ডারবেন্ট শহরে। এটি দাগেস্তানের দক্ষিণে অবস্থিত এবং রাশিয়ায় প্রথম আজান প্রচার করা হয়েছিল দাগেস্তানের ভূখণ্ডেই।’

• তিনি বলেন, রাশিয়ার জাতীয়তা ও জাতিগত গ্রুপের ৫৮ জনেও বেশি জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিল।

• আঞ্চলিক ঘনত্ব: শেখ গায়নেতিন জানান, দেশটির বেশিরভাগ মুসলমানই মস্কো অঞ্চল এবং অন্যান্য প্রধান মেট্রোপলিটান শহর-যেমন সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং ইয়েকাতেরিনবার্গে বাস করেন।

• মুফতি বলেন, সবচেয়ে বেশি ইসলামের অনুসারী রয়েছে রাশিয়ান রাজ্য তাতারস্থান, বাশকোস্টোস্তান, উত্তর ককেশাসের প্রজাতন্ত্রে।

• আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি: বর্তমান রাশিয়ার রাজ্য ‘ভলগা বুলগেরিয়ায়’ ৯২২ সালে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

• রাশিয়ার আদম শুমারিতে জনসংখ্যার সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

• গঠন: গায়নেতিন বলেন, রাশিয়ান মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ হানাফি চিন্তার সুন্নি। তবে, সেখানে সুফি সম্প্রদায়ের কিছু সুন্নী ও শিয়াও রয়েছে।

কমিউনিটি সংগঠন

‘রাশিয়ায় তিনটি ফেডারেল কেন্দ্র রয়েছে এবং আমরা বিশ্বাস করি যে এটি রাশিয়ায় মুসলিম ধর্মীয় বিষয় ব্যবস্থাপনার সর্বোত্তম বিকল্প,’ মুফতি বলেন।

• মস্কোতে রাশিয়ার মুফতি কাউন্সিল রয়েছে।

• মুসলিম আধ্যাত্মিক কর্তৃপক্ষ উফা শহরে অবস্থিত।

• মুসলিম আধ্যাত্মিক কর্তৃপক্ষ ককেশাসে অবস্থিত, যা উত্তর ককেশাসে মুসলমানদের সমন্বয় কেন্দ্র হিসাবে কাজ করে।

• একত্রিত মুসলিম উম্মাহ্: মুফতি বলেন, ‘আমরা মুসলমানদেরকে শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে ভাগ করি না। আমাদের জন্য তারা একত্রিত মুসলিম উম্মাহ।’

• মুফতি আরো বলেন, যখন মধ্যপ্রাচ্য থেকে অতিথিরা রাশিয়ায় আসেন, তখন তারা বলেন, ‘রাশিয়ায় মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যে বন্ধন তা সত্যিই উদাহরণযোগ্য।’

• পোপের অনুপস্থিতি: তিনি বলেন, ‘ইসলাম একটি গণতান্ত্রিক ধর্ম। আমাদের খ্রিস্টধর্মের মতো এত যাজকতন্ত্র নেই।’

• তিনি আরো বলেন, ‘ইসলামে কোনো পোপ বা সর্বজনীন গোষ্ঠীপতি নেই। ইসলামে, প্রতিটি দেশের নিজস্ব আধ্যাত্মিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ রয়েছে।’

আল জাজিরা অবলম্বনে

Comment

Share.

Leave A Reply