পুলিশ প্রহরায় শ্রীলঙ্কার মুসলিমদের জুমআ আদায়

0

শ্রীলঙ্কাজুড়ে গতকাল শুক্রবার পুলিশ প্রহরায় জুমার নামাজ পড়েছেন মুসলিমরা। তবে সবচেয়ে উত্তপ্ত ক্যান্ডি জেলার পরিস্থিতি গতকাল বেশ শান্ত ছিল।

জেলার কাছের এক এলাকায় গতকাল সকালে তিনটি নৌকা জ্বালিয়ে দেওয়া ছাড়া বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পুলিশের কাছে নেই।

মধ্যাঞ্চলীয় ক্যান্ডি জেলায় মুসলিমদের হামলায় সংখ্যাগুরু সিংহলি সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর সহিংসতা উসকে ওঠে। ওই ব্যক্তিসহ গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে তিনজন প্রাণ হারিয়েছে। গত সোমবার থেকে চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত মুসলিমদের প্রায় ২০০ ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেয় সিংহলিরা। এ ছাড়া ১১টি মসজিদে হামলা হয়। এর মধ্যে ৯টি মসজিদ ক্যান্ডিতে। ক্যান্ডিতে কারফিউ এবং দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করার পরও সহিংসতা চলে।

ক্যান্ডির নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে পুলিশ জানায়, সেখানে গতকাল সশস্ত্র সেনা সদস্য ও পুলিশ মসজিদের বাইরে পাহারা দিয়েছে। কোনো কোনো মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বা একেবারে পুড়ে যাওয়ায় মুসলিমরা খোলা জায়গায়ও নামাজ পড়তে বাধ্য হয়েছে।

তবে গতকালের পরিস্থিতি শান্ত ছিল বলে জানান রাজধানী কলম্বোর এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, জুমার নামাজের সময় কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। কমপক্ষে ১৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সহিংসতার পেছনে যার নামে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সেই অমিত বিরাসিংহেকে গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার সেনাপ্রধান গত বৃহস্পতিবার ক্যান্ডি সফর করেন এবং সেখানকার মসজিদের নিরাপত্তার জন্য বাড়তি সেনা মোতায়েনের অঙ্গীকার করেন।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও গতকাল সকালে ক্যান্ডির জেলার কাছেই এক মুসলিমের তিনটি নৌকা পুড়িয়ে দেয় সিংহলিরা। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

পরিস্থিতির খানিকটা উন্নতি হওয়ায় ক্যান্ডিতে ইন্টারনেট সংযোগ চালু করেছে সরকার, তবে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মেসেজ অ্যাপস এখনো বন্ধ রাখা হয়েছে। গত মঙ্গলবার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে অনলাইনে কেউ উসকানি ছড়াতে না পারে। কট্টরপন্থী সিংহলিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে উসকানি ছড়িয়ে দিচ্ছে—এমন অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর সরকার ওই ব্যবস্থা নিয়েছিল।

পর্যটনপ্রিয় ক্যান্ডি এখন বিদেশিদের জন্য ঝুঁকিমুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছে পর্যটন বোর্ড। তবে এখনো অনেক পর্যটক হোটেলের রুম বুকিং বাতিল করছে বলে জানান হোটেল মালিকরা। তাঁদের একজন জানান, যেখানে ৮০ শতাংশ রুম বুকিং দেওয়া থাকে, সেখানে অঙ্কটা এখন ৩০ শতাংশ। সূত্র : এএফপি।

Comment

Share.

Leave A Reply