কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি শিক্ষার্থীদের

0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে বের করে দেয়া ছাত্রীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হলে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এই সময়ের মধ্যে ছাত্রীদের হলে ফেরত না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করা সংগঠনটি।

শুক্রবার বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন নেতারা।

এ সময় রাজু ভাস্কর্যের উত্তর দিকে ফুটপাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা যায়।

রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, গভীর রাতে হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেয়ার ঘটনা পৃথিবীতে বিরল। ছাত্রীদের অভিভাবকদের ডেকে এনে কাউকে অভিভাবক ছাড়া বের করে দেয়া হয়। হুমকি দেয়া হয় মিডিয়ার সঙ্গে কথা না বলার জন্য। হল থেকে বহিষ্কার করার হুমকিও দেয়া হয়।

হলটির প্রাধ্যক্ষের একটি অডিও রেকর্ড প্রচার হয়েছে। তিনি বলেছেন, আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রীদের সংখ্যা ২ হাজার হলেও তাদের বহিষ্কার করা হবে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে পরিচয় দিয়েছে তা ন্যাক্কারজনক।

যদি কোনো নির্যাতন, হামলা ও মামলায় কোনো শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করা হয় তবে ফের আন্দোলনে দাবানল জ্বলে উঠবে বলেও হমকি দিয়ে নুরুল হক নূর বলেন, অবিলম্বে কবি সুফিয়া কামাল হলেরর প্রাধ্যক্ষকে অপসারণ করুন নতুবা নতুন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, আমরা শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে থাকতে চায়। হেনস্তা করবেন না, রাস্তায় আন্দোলনে নামাবেন না। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলে কি হয় ইতোমধ্যে দেখেছেন।

রাশেদ খান বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাতে চাই, শিক্ষার্থী হেনস্তা বন্ধে উদ্যোগ নিন, আমাদের দাবি ছিল কোটা ব্যবস্থার সংস্কার। প্রধানমন্ত্রী আপনি নিজ মুখে কোটা ব্যবস্থাই না রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। আপনার প্রতি আমরা আস্থাশীল। আশা করছি অতি দ্রুত সে ঘোষণা বাস্তবায়ন করবেন। প্রজ্ঞাপন দ্রুত জারির পদক্ষেপ নেবেন।

বিক্ষোভে ‘ছাত্রী নির্যাতনের’ প্রতিবাদে প্রশাসনের জবাব চেয়ে স্লোগান দেন অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা। ‘আমার বোন বাইরে কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘হলে হলে নির্যাতন কেন?’, ‘নিপীড়ন রুখে দাও’সহ বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া তাদের হাতে বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ডও আছে। হামলা করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে শিক্ষার্থীরা ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, হলে হলে নির্যাতন বন্ধ কর করতে হবে, আমার বোন বাইরে কেন প্রশাসন জবাব চাই, হলে হলে নির্যাতন কেন প্রশানের জবাব চাই, নির্যাতন করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’ বলে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান ও নুরুল হক নূর।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কবি সুফিয়া কামাল হলের তিন ছাত্রীকে হলত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে রাত দেড়টার দিকে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এস এম ইয়াসিন আরাফাত একাই প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে হলের ফটকে অবস্থান নেন। রাত দুইটার দিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা সুফিয়া কামাল হলের সামনে উপস্থিত হন। পরে শুক্রবার দেশের প্রতিটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে অবস্থান শেষ করেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেয়া হয়নি। তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। সকালে অভিভাবকদের ডাকা হলেও আসতে দেরি করায় রাতে ছাত্রীদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়া হয়।

Comment

Share.

Leave A Reply