ফিলিস্তিনি বিজ্ঞানীর খুনিরা মালয়েশিয়াতেই রয়েছে, ছবি প্রকাশ

0

ফিলিস্তিনি বিজ্ঞানী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. ফাদি আল বাতসের সন্দেহভাজন দুই খুনি মালয়েশিয়ার ভেতরেই অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

বুধবার মালয়েশিয়ার পুলিশ পরিদর্শক ফুজি হারুণ সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকারীদের একজনের ছবি প্রকাশ করেছেন।

শনিবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হলে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলে চড়ে দুই ব্যক্তি প্রকৌশলী ফাদিকে লক্ষ্য করে ১৪টি গুলি ছোড়ে।

এতে চারটি গুলি অন্তত তার শরীরে বিঁধে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

এর প্রায় ৯ মিনিট পর ঘটনাস্থলের কাছেই লেকের পাশে একটি পরিত্যক্ত মোটরসাইকেল খুঁজে পায় পুলিশ।

ফুজি হারুন বলেন, ওই মোটরসাইকেল থেকেই তারা এই হত্যাকারীর ছবিটি শনাক্ত করতে পেরেছেন।

সন্দেহভাজন খুনিরা চলতি বছরের শেষ দিকে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছে। কিন্তু তাদের জাতীয়তা ও তারা কোথা থেকে এসেছে তা এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় মালয় পুলিশ।

পুলিশের এই পরিদর্শক বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সন্দেহভাজনরা মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। আমরা তাদের এখনো শনাক্ত করতে পারিনি।

খুনিরা কুয়ালালামপুরে প্রবেশের সময় ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছে বলে ধারনা করছে পুলিশ।

দেশটির কর্তৃপক্ষ কম্পিউটারে হত্যাকারীদের ফটোগ্রাফ তৈরি করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, খুনিদের শরীর সুগঠিত ও উজ্জ্বল ত্বকের। তারা সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্য কিংবা ইউরোপ থেকে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছে।

পুলিশের প্রকাশ করা ছবির সন্দেহভাজন ব্যক্তি দেখতে উজ্জ্বল শ্যামলা, তার চুল কুঞ্চিত ও সুচালো দাঁড়ি।

মালয়েশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি শনিবার বলেন, সন্দেহভাজন হত্যাকারী ইউরোপীয় ও বিদেশি সংস্থার সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি এই প্রকৌশলী ও অ্যাকটিভিস্টকে হত্যায় কুখ্যাত ইসরাইলি গোয়েন্দা মোসাদ জড়িত বলে দাবি করেছেন তার বাবা।

এর আগে বিভিন্ন সময় বিদেশের মাটিতে হামাস নেতা ও কর্মীদের হত্যার ইতিহাস আছে ইসরাইলের।

প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের অভিযোগ, ২০১৬ সালে তাদের এক ড্রোন বিশেষজ্ঞ ও তিউনিশিয়ার নাগরিক মোহাম্মদ জাওয়ারিকে গাড়িতে বসা অবস্থায় গুলি করে হত্যার ঘটনায় মোসাদ জড়িত ছিল।

এ ছাড়া দুবাইয়ে একটি হোটেলে হামাস সদস্য মাহমুদ আল-মাবহার মৃত্যুর পেছনেও মোসাদের হাত ছিল।

১৯৯৭ সালে জর্দানে মোসাদের গুপ্তচররা হামাস নেতা খালিদ মিশালের কানে বিষ ছিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

তবে ইসরাইল কিংবা মোসাদ কখনই এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেনি।

মালয়েশিয়ায় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত আনওয়ার এইচ আল আগা বলেন, ফাদি ছিলেন তার বাসার কাছাকাছি মসজিদটির দ্বিতীয় ইমাম। ১০ বছর ধরে তিনি মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন।

আহমাদ জাহিদ হামিদি বলেন, ফাদি ছিলেন একজন তড়িৎ প্রকৌশলী ও রকেট নির্মাণে বিশেষজ্ঞ।

তিনি মাইকেয়ার নামে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া আল আকসা ফাউন্ডেশন ও আই৪সিরিয়ার হয়েও বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন।

মাইকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কামরুল জামান শাহারুল আনওয়ার বলেন, ড. ফাদি প্রকৌশলগত উৎকর্ষতার জন্যই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। আমি মনে করে বিজ্ঞানী হিসেবে তার দক্ষতার কারণেই শত্রুতা থেকে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ছাড়া গাজা উপত্যকার উন্নয়নে নিহত ফাদি অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন বলে জানান শাহারুল।

Comment

Share.

Leave A Reply