হাসপাতাল যখন টার্মিনাল!

0

ইমদাদুল হক নোমানী
সম্পাদক, কওমিকণ্ঠ

বিশ্বের সবক’টি হাসপাতালেই মানুষ দু’টি যন্ত্রণায় ভুগছে। একটি অসুস্থতা, আরেকটি টাকার যন্ত্রণা। তারা এমন একটি পর্যায়ে অবস্থান করছে, যেখানে টাকা না হলে স্বাস্থ্য কেনা যায় না। তারা দেখতে পায়, মৃত্যুর আলিঙ্গন। মানুষ দু’ভাবে করুন যন্ত্রণা পায়। একটি টাকার বিনিময়ে সুস্থতার চেস্টা, অন্যটি মৃত্যু যন্ত্রণা।

অনিয়মতান্ত্রিকভাবে যতসব ক্লিনিক বা হাসপাতাল গড়ে উঠেছে ডাক্তারদের যোগসাজসে, সেগুলোতেও চলছে হরিলুটের কারবার। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন শ্লোগান এখন হাসপাতালগুলোর কাগজে- কলমে সীমাবদ্ধ। মেঝে ও অন্যান্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র পরিস্কার নয় বললেই চলে। তাইতো ক্লিনিক-হাসপাতাল সমূহই যতসব ভয়ংকর রোগজীবাণু ছড়ানোর উৎস। আর সরকারী হাসপাতালে ঔষধ পথ্য যা দেওয়া হয় তাও লোপাট হয়ে যায় অদৃশ্য সব ভুতুড়ে পথে। যন্ত্রপাতি ইচ্ছে করেই অকেজো করে ক্লিনিকের সাথে রোগী পাঠানোর গোপন চুক্তি হয় দেদারছে।

ডাক্তার যখন ডাকাত!

বিস্মিত হতে হয় মেডিকেল কলেজের শিক্ষকদের কথা ভাবলে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষাদানের জন্য শিক্ষকদের অধ্যয়ন ও গবেষণা অপরিহার্য। কিন্তু ২৪ ঘন্টা দীর্ঘ দিন-রাত্রিতে ডাক্তার শিক্ষকদের আপাত দৃষ্টিতে আদৌ অধ্যয়ন ও গবেষণার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। বাসা-ক্লিনিক-কর্মস্থল। ত্রি-মুখী দৌড়াদৌড়িতে জীবন এমনিতেই ওষ্ঠাগত। ক্লিনিক থেকে রাত ১১-১২ টায় বাসায় ফিরেন। সার্জন হলে ১২-১ টায়। সকালে ঘুম থেকে জেগেই প্রাতঃভ্রমণ করতে করতে ছুটে যান ক্লিনিকে। কখনো কখনো টুথব্রাস ও সকালের প্রাকৃতিক কর্মটিও সারতে হয় ক্লিনিকে, না হয় অফিসে। চাকরি রক্ষার্থে ক্লিনিক থেকেই দৌড় দিতে হয় আবার অফিসে। সুতরাং ২৪ ঘন্টার দিন-রাত্রি ডাক্তারদের জন্যে যান্ত্রিক। ডাক্তারদের এই অনৈতিক কর্মযজ্ঞ বন্ধে সম্ভবত হু. মু. এরশাদ একটি সুন্দর প্রস্তাব করেছিলেন, যে সমস্ত ডাক্তার সরকারী চাকরি করবেন তারা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। হয় সরকারী চাকরি না হয় প্রাইভেট প্র্যাকটিস।

হাসপাতালের ন্যায্যমুল্যের ঔষধঘরে যখন ডাকাতি করা হয় তখন ভাবি, আসল ডাকাত কারা? কেউ পেটের দ্বায়ে ডাকাতি করে, আর কেউ পেট বাড়াতে ডাকাতি করে। ডাক্তারের মাথায় নাকি আল্লাহর হাত থাকে। এখানে দু’টি সত্বা দেখা যায়, একটি মানুষ; অপরটি জানোয়ার। মানুষ আর জানোয়ারদের আনাগোনা মূলত থাকে টার্মিনালে!
.
সরকারী হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিতে আসেন তারা অধিকাংশই নিম্ন আয়ের মানুষ। সুতরাং ওইসব পিছিয়ে পড়া মানুষদের চিকিৎসা দিতে ডাক্তার সাহেবদের আর কতটাই বা মনোযোগী হওয়া চাই। ডাক্তারদের কর্মক্ষমতা গল্পের বিশ্বকর্মার চাইতেও বেশী। তাইতো রোগীর সংখ্যা যতই হোক এক বিকেলেই তাদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তাতে রোগী প্রতি সময় এক বা হাফ মিনিট যাই হোক না কেন। আবার দিনরাতে কতজন রোগী দেখেন, কতটা অপারেশন করেন আর কত টাকাই বা কর/ভ্যাট দেন তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জানার কথা না। তাই মান্যবর ডাক্তারদের ওসব আইন খুব একটা মানতে হয় না। অবশ্য যে সমস্ত ডাক্তার আজোও সেবার মানসিকতা নিয়ে চিকিৎসা দেন, নিয়মিত কর/ভ্যাট পরিশোধ করেন তাঁরা ব্যতিক্রম, আলোকিত মনের মানুষ। সেই সংখ্যা একেবারেই নগন্য, দূর্লভও বটে। ওসব দূর্লভ আলোকিত মনের ডাক্তারদের জন্য রইলো অফুরন্ত শ্রদ্ধা ও শুভ কামনা

Comment

Share.

Leave A Reply