ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখে দিল সিরিয়া

0

সিরিয়ার দুমা শহরে রাসায়নিক অস্ত্র নিক্ষেপের প্রতিবাদে দেশটির রাসায়নিক অস্ত্রের স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। শনিবার ভোরের দিকে এ হামলা চালানো হয়। হামলার খবর নিশ্চিত করে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিরিয়ায় বেসামরিক লোকজন ও সামরিক স্থাপনায় শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট, যার অধিকাংশই মাঝপথে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

কিন্তু অবাক করা বিষয়টি হলো এ হামলা প্রতিরোধে রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় ছিল।

এর কিছুক্ষণ আগেই হামলার নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করা হয়েছে, তারাও হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছে। তিন দেশের ছোড়া অন্তত ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল) ভূপাতিত করা হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের অবৈধি বিমান হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই হামলার পরিণতি ভয়াবহ হবে বলেও হুমকি দিয়েছে নতুনভাবে নির্বাচিত রাশিয়ার এই প্রেসিডেন্ট।

বাশার আল আসাদের ভূখণ্ডে তিনদেশ জোট হয়ে যে হামলা চালিয়েছে তাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করেছেন পুতিন।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত আনাতোলি আন্তোনোভ এক বিবৃতিতে বলেন, আবারও আমাদেরকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। আমরা সতর্ক করে বলছি, এ ধরনের হামলার জবাব না দিয়ে ছাড়বে না রাশিয়া।

অবশ্যই এর পরিণতি দেখতে হবে। হামলার ঘটনার জবাবে যা পরিণতি ঘটবে তার সবকিছুর দায় নিতে হবে ওয়াশিংটন, লন্ডন এবং প্যারিসকে।

তবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট কতটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে তার তথ্য নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। সিরিয়ার আসাদ সরকার বলছে, ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। আর মার্কিন প্রশাসন বলছে, ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে।

রাজধানী দামেস্ক থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে সিরিয়ার আল দুমায়ের সামরিক বিমানবন্দরে ১২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। কিন্তু সিরিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তার সবকটিই ধ্বংস করে দিয়েছে। খবর আরটি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও বিবিসি অনলাইনের।

লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন দ্য সিরিয়ান অবজার্ভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলছে, রাজধানী দামেস্কের পার্শ্ববর্তী এবং হোমসের তিনটি রাসায়নিক গবেষণা কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে।

সিরিয়া সরকারের বরাত দিয়ে সংগঠনটি বলেছে, দামেস্ক সরকার আগেই ইঙ্গিত পেয়ে ওইসব স্থাপনা খালি করেছে।

সিরিয়ান কর্মকর্তারা বলছেন, হামলার ব্যাপারে রাশিয়া আগেই ইঙ্গিত দেওয়ায় তারা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো আগেই খালি করেছেন। ফলে স্থাপনার অবকাঠামো ধ্বংস হলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্লোরেন্স পার্লি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সঙ্গে মিলে তারা সিরিয়ার তিনটি জায়গায় হামলা চালিয়েছেন। হামলার আগে রাশিয়াকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, ফ্রান্সের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সিরিয়ায় যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে। এ অভিযানে ভূমধ্যসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র সমৃদ্ধ রণতরী ব্যবহার করা হয়েছে।

ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির প্রধান গবেষণা কেন্দ্র ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন স্থল হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।

সিরিয়া সরকারের মিত্র রাশিয়া এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

Comment

Share.

Leave A Reply